স্থগিত হবে সিটি নির্বাচন?

প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

স্থগিত হবে সিটি নির্বাচন?

অনলাইন ডেস্ক :: গতকাল ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। বিকেল সাড়ে ৪টায়। প্রথম আলোগতকাল ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। বিকেল সাড়ে ৪টায়। প্রথম আলোদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত একজন নাগরিকের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন স্থগিতের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। নির্বাচন স্থগিত না হওয়ায় সাধারণ নাগরিকেরা ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশনের দোলায়মানে। এর মধ্যে কিছু খরচও করে ফেলেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে সভা–সমাবেশ বা গণসংযোগে মানুষের উপস্থিতি কমে আসছে। তবে নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হতে পারে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের দোলায়মানের কারণে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন খাতে ইতিমধ্যে এক কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয় হয়েছে। মোটা অঙ্কের ব্যয় শুরু হবে কাল শুক্রবার থেকে। কারণ, কাল থেকে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার দিনক্ষণ ঠিক রয়েছে। এতে খরচের পরিধি আরও বাড়তে পারে। নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত যথা সময়ে এলে এই খরচ এড়ানো সম্ভব ছিল।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ নাকি মানুষের জীবন? নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে নির্বাচন করতে চাইছে। এটা হতে পারে দায়সারা গোছের একটা নির্বাচন আয়োজন। অথবা নির্বাচনী ব্যয় বাজেট বার্ন (নিঃশেষ) করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। স্থগিতাদেশের ঘোষণা আসতে যত দেরি হবে তত বেশি খরচ করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এই টাকা তো জনগণের।

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী শাহাদাত হোসেন নগরের শুলকবহর এলাকায় গণসংযোগ করেন। গতকাল বিকেলে। প্রথম আলোবিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী শাহাদাত হোসেন নগরের শুলকবহর এলাকায় গণসংযোগ করেন। গতকাল বিকেলে। প্রথম আলোআখতার কবির চৌধুরী আরও বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে বন্ধ এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেখানে কীভাবে সিটি নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে? এই নির্বাচন অবশ্যই স্থগিত করতে হবে। নির্বাচন করা মানে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।

নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের জন্য এবার নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য আলাদা বাজেট থাকবে। এই বাজেট এখনো ঠিক করেনি কমিশন। তবে পরিচালনা বরাদ্দ থেকে প্রায় কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুক্রবার থেকে। তাঁদের জন্য আমাদের মূল খরচ শুরু হবে। প্রশিক্ষণের আগের দিন টাকা বণ্টন করে দিতে হবে। তবে ইতিমধ্যে বরাদ্দ থেকে কোটি টাকার কিছু কম খরচ হয়ে গেছে।’

সিটি নির্বাচন স্থগিত হবে কিনা তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রার্থীদের সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমিতে বৈঠকে বসছেন। প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে চলে এসেছেন।
সৌজন্যে : প্রথম আলো

আমাদের ফেইসবুক পেইজ