রোদন ভরা এ বসন্ত, কখনও আসেনি বুঝি আগে

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২০

রোদন ভরা এ বসন্ত, কখনও আসেনি বুঝি আগে

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ :: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী এমন মানবিক বিপর্যয় আগে আসেনি। করোনা ভাইরাস সেই বিপর্যয় নিয়ে এসেছে।এমন মৃত্যু কারো কাম্য নয়। পৃথিবী থেকে বিদায়ের সময় স্বজনরা পাশে থাকবেনা।প্রিয় মানুষেরা দেখতে আসবেনা।দাফনেও থাকবেনা। মানুষ এমন মৃত্যু আর বিদায় দেখছে। এমন মৃত্যু মানুষকে আতংকিত করেছে। সবার মধ্যে চাপা ভয়।মানুষ সব কিছুই করছে।জীবনের প্রয়োজনে যা করার দরকার।কিন্তু সেখানে ছন্দপতন হয়ে গেছে। মনের ভেতর ভয়। আশংকা আর আতংক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর মিছিল। ইতালিতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। আমাদের দেশেও করোনা মৃত্যুর থাবা বসিয়েছে। শহরগুলোতে মানুষের কর্মচঞ্চলটা কমে আসছে।নিজের জীবন,পরিবার, প্রিয়জন নিয়ে একধরনের ভয় আর ভীষন্নতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।চাপা ভয় আর কষ্ট নিয়ে কোয়ারেন্টাইনে যাচ্ছেন অনেকে। কেউ মানসিক শান্তিতে নেই।ভাল নেই। ব্যতিক্রম কিছু মানুষ আছেন অবশ্য। এরা কোন কিছুই আমলে নিচ্ছেন না।প্রশাসন কোন বিদেশ ফেরতকে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করলে তারা সেখানে ভিড় জমান।কৌতূহলী মানুষ এরা।শুধু কৌতূহল নাই নিজেকে কিভাবে রক্ষা করা যায়।গ্রামের বাজারে বাজারে ভিড়।চা এর স্টলে টিভিতে সিনেমা আর আড্ডা চলে।ভয় এখানে।এরা কখন সচেতন হবে?

এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যতটুকু নিজেদের রক্ষা করা যায় সেটাই ভরসা। জনসমাগম বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।আদালত সমূহের জনসমাগম এড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঝড় আসার আগেই দ্রুত সব করতে হবে। সবচেয়েবেশী প্রয়োজন স্বাস্থ্য বিধি মানা।হাত ধুয়া। ঘরে থাকা।মোট কথা জীবনের স্বার্থে অসামাজিক হয়ে যান। কারো সাথে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। নিজে বাঁচুন। আপনজনদের বাঁচতে সহায়তা করুন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে মানুষ হতাশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সবার মনের ভেতর আতংক।জীবনের শঙ্কা। আসুন সবাই দায়িত্বশীল হই।জীবন রক্ষায়। জীবন অনেক সুন্দর। সচেতন হই। সবাই বাঁচি। একদিন এই মৃত্যু আতংক কেটে যাবে। জগতে আনন্দযঞ্জে আমার নিমন্ত্রণ বলে সবাই একদিন বেড়িয়ে যাব। হঠাৎ মুক্ত পাখিদের মত। প্রিয় স্থানে।আনন্দে ভালবাসায় আবারো মিলিত হব।

লেখক : ( সুনামগঞ্জ – ৪ আসন এমপি)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ