মাধ্যমিকের পরীক্ষামূলক পাঠদান টেলিভিশনে

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

মাধ্যমিকের পরীক্ষামূলক পাঠদান টেলিভিশনে

শিক্ষা-ক্যাম্পাস :: বিশ্বব্যাপী মহামারিরূপ নেয়া করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠান বন্ধে শিক্ষার্থীর পড়ালেখা যাতে ক্ষতি না হয়, সেক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। সেরা শিক্ষকদের রেকর্ডিং করা ক্লাস ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও শুধু এক সপ্তাহ নয়, ভাইরাসের পরিস্থিতি অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে তিন মাস পর্যন্ত।

সোমবার মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ মানে যে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়নি এই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি প্রযুক্তির এই যুগে সব অবস্থায় থেকেই শিক্ষাগ্রহণ সম্ভব- এটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে আমরা সেরা প্রতিষ্ঠান সেরা শিক্ষকদের মাধ্যমে ক্লাস কার্যক্রম রেকর্ডিং শুরু করেছি। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে এটি সম্প্রচার করা হবে। তবে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ)পরীক্ষামূলক সম্প্রচার করা হবে।’

ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া এই শিক্ষাদান শুধুমাত্র এক সপ্তাহের জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিন মাসকে টার্গেট নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। করোনার পরিস্থিতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে যাব। প্রস্তুতিটা থাকবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিনটি স্টুডিওতে এই ক্লাস রেকর্ডিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি স্টুডিও সরকারের শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর। এছাড়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং মোবাইলফোন অপারেটর রবির স্টুডিওতে এসব ক্লাস রেকর্ডিং করা হচ্ছে। টেলিভিশনে শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে শাহেদুল খবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হয় সেভাবেই রেকর্ডিং করা হচ্ছে ক্লাসগুলো। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিনই বাসার কাজ দেয়া থাকবে এবং সেগুলোর জবাবদিহিতা করতে হবে।’

তবে যাদের বাসায় টিভি নেই সে ক্ষেত্রে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সবার কাছে পৌঁছানোর জন্য। তবে হঠাৎ করে বিষয়টা সামনে এসেছে। আপাতত সংসদ টিভি দিয়ে শুরু করছি, পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে আরো ইফেক্টিভ করা যায় কিনা- সে বিষয়ে ভাবনা আছে আমাদের।’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির দীর্ঘ হলে খান একাডেমি কিংবা টেন মিনিট স্কুলের মত শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে মাউশির। এছাড়া করোনা পরিস্থিতি আরো দীর্ঘ হলে সে ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করেও শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যেতে পারে বলে জানালেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এর পাশাপাশি আরেকটা উদ্যোগ চলছিল। অন্য প্লাটফর্মে পাঠদানের বিষয়টিও আমাদের কাজ চলছিল। অর্থাৎ পাঠদানে বিষয়টিকে বহুমুখীকরণ করে আকর্ষণীয় করে তোলা সে কাজগুলো আমাদের চলছিল। আমাদের যেমন শিক্ষক বাতায়ন রয়েছে অর্থাৎ যতগুলো সুযোগ রয়েছে সবগুলোতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

ফলে শিক্ষার্থীরা যদি কোনো কারণে সেই ক্লাসগুলো কেউ না করতে পারে, সেই পরবর্তীতে যাতে সেটি সংগ্রহ করতে পারে অর্থাৎ ওই ক্লাসগুলো ডাউনলোড করতে পারে সে ধরনের চিন্তাভাবনাও রয়েছে মাউশির। তিনি বলেন, আমাদের যে ক্লাসগুলো রেকর্ড হচ্ছে- সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ইউটিউবে দেয়া যেতে পারে। এছাড়া আমাদের ওয়েবসাইট তো আছেই অর্থাৎ সব মাধ্যমেই আমরা চেষ্টা করব শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কিভাবে পৌঁছানো যায়। সর্বোপরি আমরা আমাদের চেষ্টা থাকবে যে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ মানে তাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়নি।’

নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির দিকে অনেক এগিয়ে। সে ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ক্লাস করার মতো কিংবা এক মাধ্যমে শেখার মত মানসিকতা তাদের নেই। তাই অনেক মাধ্যমে অনেক কিছু শেখার আগ্রহটা কিভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে কিনা সে সম্পর্কে ভাবা উচিত বলে মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সংসদ টেলিভিশনের এই প্রক্রিয়াটি আমরা এই সরকার আসার শুরুতেই চেয়েছিলাম। তখনকার শিক্ষামন্ত্রীকেও বিষয়টি জানিয়েছিলাম। নানা কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। বিষয়টি খুবই চমৎকার। তবে নতুন প্রজন্মের জন্য এটি যেন যুগোপযোগী হয় এবং অবশ্যই আকর্ষণীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

আমাদের ফেইসবুক পেইজ