চিরচেনা সিলেট এখন এচেনা !

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

চিরচেনা সিলেট এখন এচেনা !

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভিড় নেই বিভাগীয় শহর সিলেটে। শপিংমল আর বিপণিবিতান বন্ধ। জনমানবশূন্য সড়কে নেই যানবাহনও। শহরের প্রাণকেন্দ্রে নেই ব্যস্ততা।বৃহস্পতিবার থেকে ছুটি শুরু হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বুধবার (২৫ মার্চ)।

রাস্তার পাশের টং দোকানগুলোও ফাঁকা। বেশিরভাগ খাবারের দোকান বন্ধ ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্টরা; ফলে ঝুলছে তালা। আর যেসব দোকান খোলা আছে, তাতে খাবার খাওয়া মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা।

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে বিভাগীয় শহর সিলেটের চিত্র এমনই। গত সোমবার থেকে সিলেটের ব্যবসায়ীরা স্বপ্রণোদিত হয়ে নগরীর বেশিরভাগ মার্কেট বন্ধ করে দেন। কয়েকটি মার্কেট খোলা থাকলেও বুধবার থেকে সেগুলোও বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরের বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ ও নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সব মার্কেট বিপণিবিতান বন্ধ থাকলেও বন্দরবাজার এলাকায় রাস্তার পাশের কিছু দোকান খোলা রয়েছে। তবে এসব দোকানে ক্রেতাদের দেখা মেলেনি।

নগরের শাহী ঈদগাহ এলাকা, ক্বীন ব্রিজ, কাজিরবাজার ব্রিজসহ দৃষ্টিনন্দন এলাকায় নেই লোকসমাগম। এ কারণে সেখানকার অস্থায়ী খাবারের টং দোকান বন্ধ পড়ে আছে। কয়েকটি রেস্টুরেন্ট খোলা থাকলেও নেই ক্রেতাদের চিরচেনা ভিড়।

করোনার প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। বন্ধ রয়েছে নগর এক্সপ্রেস। সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও তেমন ভিড় নেই। যাত্রী সংখ্যা কমেছে সবকটি আঞ্চলিক সড়কেও। অবশ্য, বৃহস্পতিবার থেকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক।

এদিকে, নগরের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আউনার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ভবনের প্রবেশপথে ভাইরাসমুক্ত করতে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনের বাসিন্দাদের প্রবাসী আত্মীয়দের না আসতে নিরুসাৎহিত করা হচ্ছে।

আতঙ্কিত জনসাধারণ বলছেন, সবার সচেতনতা সৃষ্টি করার পাশাপাশি সরকারের পরবর্তী নির্দেশনার আগে ঘরে থাকতে হবে। নিজে বাঁচতে হবে, পরিবারকে বাঁচাতে হবে এবং দেশকে বাঁচাতে হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল হক বলেন, নিত্যপণ্যের দোকান, কাঁচা বাজার, ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। নিজেদের স্বার্থে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সাময়িক কষ্ট হলেও নির্দেশনা মেনে সুনাগরিকের ভূমিকা পালনের জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের চার জেলায় আরও ২০৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। একই সময়ে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১৩৬ জন। সবমিলিয়ে সিলেট বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২০৩০ জন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ