“গোয়াইনঘাটে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ, এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে”

প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২০

“গোয়াইনঘাটে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ, এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে”
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি::
গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের রাউতগ্রামে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় কারণে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
বখাটে, ধর্ষক জহির উদ্দিন উরফে কাঁকড়া জহির ধর্ষণ ও নির্যাতন করার পর প্রকাশ্যে এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করতে দেখায় জনমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীতে ভিকটিম কামিমা বেগমের মা সায়না বেগমের সাথে এ ব্যাপারে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যান তিনি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তিনি কথা বলেন অশ্রসিক্ত নয়নে। সায়না বেগম বলেন, জহির উদ্দিন একজন মদ্যপায়ী, জুয়ারি ও বখাটে প্রকৃতির ছেলে। আমার মেয়ে মাদরাসার ছাত্রী এবছর সে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা দিয়ে আলেমা হবে। জেনে-শুনে, গর্ভধারিনী মা হয়ে আমার মেয়েকে কী করে জহির এর কাছে বিয়ে দিব? তাই জহিরের দেয়া বিয়ের প্রস্তাব আমরা ফিরিয়ে দেই।এর জের ধরেই সে আমাদের পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত। সায়না বেগম বাদী হয়ে রাউত গ্রামের মৃত হাতীম আলীর ছেলে জহির উদ্দিন উরফে কাঁকড়া জহিরকে প্রধান আসামী করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা (নং-০৮) দায়ের করেন। মামলার আরও দুই আসামীরা হলেন-একইগ্রামের আব্দুল মুতলিবের ছেলে শরিফ আহমদ ও মুহাম্মদ আলীর ছেলে ইকবাল হুসাইন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন (৩ আগস্ট, সোমবার) সায়না বেগম ভিকটিম কামিমা বেগমকে নিয়ে আত্মীয়ের মৃতমুখ দেখার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন রাউতগ্রাম মসজিদের নিকট পৌঁছামাত্র পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জহির ও তার সঙ্গীরা কামিমা বেগমকে তুলে নিতে একটি ঘরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মা সায়না বেগমকেও তারা বেধড়ক মারধর করে। এনিয়ে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাটসহ পুরো সিলেট জুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আলেম-উলামাসহ নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষজন। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ঘটনার পর ভিকটিমের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়। এতো বড় ঘটনা ঘটিয়েও জহির হাতে দা নিয়ে গ্রামে ঘুরাঘুরি করেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, সন্ত্রাসী জহিরের কর্মকান্ডে তারা অতিষ্ঠ। ভয়ে এলাকার কেউ কোন প্রতিবাদ করেন না। এদিকে মাদরাসা ছাত্রী কামিমা বেগমেত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়াতে সোমবার (১০ আগস্ট) সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে গতকাল রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় সিলেট সারীঘাট-গোয়াইনঘাট সড়ক অবরোধ করে চলে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ। এ ব্যাপারে কথা হলে, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ জানান, মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টা ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। অচিরেই অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।