শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবারতা…..

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবারতা…..

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ :: ব্রিটেনের রাজ পরিবারে অক্রমণ করেছে করোনা।প্রিন্স চার্লস করোনা অাক্রান্ত।৭১ বছর বয়সী চার্লসের শরীরে করোনার লক্ষন দেখা দিয়েছে। করোনা নিয়ে কোন ভাল সংবাদ পাচ্ছিনা।মনখারাপ করা সংবাদ অাসছে মিডিয়ায়।এত নিরাপত্তায় থাকা ব্রিটিশ রাজপরিবারে করোনার অাক্রমণ প্রমাণ করেছে মানুষ কত অসহায়।
মানবজাতি জীবন সংকটে।অামাদের প্রধানমন্ত্রী অাজ জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। জাতিকে সাহস দিয়েছেন।
করোনার সাথে যুদ্বে বিজয়ী হতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলেছেন।ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। জাতিকে নির্দেশনা এবং সাহস দেয়ার জন্য।

এদিকে বিশ্বেস্বাস্থ্য সেবায় প্রথমে থাকা ফ্রান্স, ইতালীতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
অসহায় সেখানকার মানুষ এবং চিকিৎসকরা।
চীনকে পেছনে ফেলে মুত্যুর সংখ্যায় এগিয়ে স্পেন।
উন্নত রাস্ট্রগুলো সামাল দিতে পারছেনা এই বিশ্ব মহামারীকে।
মানুষের মুত্যুর মিছিলে বিশ্বজুড়ে বাতাস ভারী। ইতালীতে কবর দেয়ার স্থান সংকট দেখা দিচ্ছে।এত মৃত্যু সইতে পারছেনা পৃথিবী।
বিশ্বের দিকে তাকালে বাংলাদেশ এই মুহুর্তে বিপদজনক সময় অতিক্রম করছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অাজ জাতিকে নির্দেশনা দিয়েছেন তার ভাষণে।সঙ্গনিরোধ এবং গুজব না ছড়াতে বলেছেন।বলেছেন অনেক গুরুত্বপুর্ন কথা।সাহস দিয়েছেন।সংবেদনশীল হতে বলেছেন।দ্রব্যমুল্য না বাড়াতে বলেছেন।নিম্ন অায়ের মানুষের সহায়তার নির্দেশনা দিয়েছেন।অাহবান জানিয়েছেন বিত্তবানরা এগিয়ে অাসার জন্য।
অাশাকরি মানুষ নির্দেশনা মেনে চলবে।
সংকটকাল পার করছি কেন?
কারন চীন,ইতালী,স্পেন, যুক্তরাজ্যের মত অাক্রান্ত দেশগুলোর প্রতি একটু খেয়াল করেন।এসমস্ত দেশে প্রথম করোনা অাক্রান্ত রোগী পাওয়া থেকে পরবর্তী সময়গুলো বিবেচনায় নেন।প্রথম দিকে ৪জন, ১০জন এমন করে অাক্রান্ত হচ্ছিলেন।দেশের মানুষেরাও তেমন গুরুত্ব দিচ্ছিলেননা।কিন্তু একমাস পর সেসব দেশে পরিস্থিতি হয় ভয়াবহ।সব নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়।মৃত্যুর মিছিল অার অাক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।যা অব্যাহত অাছে।মৃত্যু সামাল দেয়া যাচ্ছেনা।মৃত্যু কান্নায় পৃথিবীর বাতাস ভারী।
অর্থাৎ অাক্রান্ত সনাক্তের পর এসব দেশ রোগ ছড়ানো থামাতে পারেনি।মানুষে মানুষে যোগাযোগ হয়েছে।সব কিছুতেই স্বাভাবিক জীবন যাপন করেছে।ফলে একমাস পরে তার ভয়াবহ সংক্রমণ তারা প্রত্যক্ষ করেছে।পুরো বিশ্ব দেখছে মৃত্যুর ভয়াল রূপ।
কান্না থামছেনা।যুক্তরাস্ট্রও অাজ নাজুক পরিস্থিতিতে।
অথচ যদি প্রথম সনাক্তের পর মানুষে মানুষে সামাজিক যোগাযোগ বন্ধ রাখা যেত পরিস্থিতি এমন হতনা।
চীন সেটা প্রমান করেছে।উহানে অাক্রমণের পর তারা উহানকে বিচ্ছিন্ন করেছে দেশ থেকে।সেখানে কাউকে যেতে দেয়নি।বের হতে দেয়নি।হাসপাতাল বানিয়েছে।সেখানেই অাক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়েছে।সুফল পেয়েছে।সারাদেশে ছড়ায়নি।ইউরোপ, অামেরিকা শুরুতে সেটা করেনি। তার মাশুল দিচ্ছে জীবন দিয়ে।
অামাদের দেশে অাক্রমণ এসেছে বেশ দেরীতে।অামাদের সামনে তাদের থেকে অভিজ্ঞতা অাসছে।ভারত সেই অভিজ্ঞতা থেকে প্রথমে জনকারফিউ পরে ২১ দিনের লকডাউন দিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই সমাজিক যোগাযোগ বন্ধ।
বাংলাদেশ।বিপদ কালীন সময় অতিক্রম করছে। বলার কারন অামাদের দেশে ৮ই মার্চ প্রথম রোগী সনাক্ত হয়েছে।তারপর সব স্বাভাবিক চলেছে।গতকাল থেকে সামাজিক যোগযোগ বন্ধের ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে।সেনাবাহিনী নামাতে হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ বন্ধে।
কিন্তু ৮মার্চ থেকে গুননা করলে বেশ সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে।অামাদের মানুষদের নিয়ন্ত্রন করা যায়নি।সাধারন মানুষ ত বটেই দায়িত্বশীলরাও মানেননি স্বাস্থ্য নির্দেশনা।এমনকি ইউনিয়নের উপনির্বাচন কে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে জনসভা করেছেন।নিজেদের প্রকাশ করতে।ইতালীর ছোট শহর বারগামো ৯মার্চ চ্যাম্পিয়ান্সলীগের এক খেলা শেষে উৎসবে মেতেছিল। গ্যালারিভর্তি লোকের মাধ্যমে ছড়িয়েছে সংক্রমণ।ছোট শহরটিতে এখন কবরের জায়গা পেতে সমস্যা হচ্ছে।সেনাবাহিনী দাফনের কাজ করছে।
সরকার থেকে বলা হচ্ছে দেশে অাক্রান্তের সংখ্যা ৩৯অার মৃতের সংখ্যা ৫ জন।
অামরা জানিনা এর ভেতর সামাজিক যোগাযোগ অার জনসমাগম কতজনের ক্ষতি করেছে। বিদেশ থেকে এসে কোয়ারেন্টাইন অমান্য করা ব্যাক্তিরা কি ক্ষতি করেছেন।ইউরোপের মত একমাস পরে অামরা ও সেই ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হব কি না জানিনা।যদিও অামরা কায়মনো বাক্যে কামনা করি অামার দেশের মানুষ নিরাপদ থাকুক।ব্যাপক অাক্রমণের শক্তি হারিয়ে করোনা বিদায় নিক বিশ্ব থেকে।নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী মাইকেল লেভিটের কথা বিশ্বাস করতে চাই।অাশা করতে চাই অামাদের ভয়াবহ অাক্রমণের অাগেই লেভিটের কথামত প্রাণঘাতী করোনা দুর্বল হোক।মহামারী সমাপ্তি ঘটুক।তবে সবাইকে বলি অাল্লাহর দোহাই লাগে জনসমাগম করবেননা।দয়া করে স্বাস্থ্যবিধি মানুন।কিছুদিন অন্তত ঘরে থাকুক।দোহাই লাগে, নিজে ভাল থাকুন।সবাইকে বাঁচতে দিন। মঙ্গলবারতা পৌছে দিন প্রত্যেকে প্রত্যেককে।
২৫.০৩.২০

লেখক :পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ( সুনামগঞ্জ – ৪ আসন এমপি)

আমাদের ফেইসবুক পেইজ