জেনারেল ওসমানী

প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০

জেনারেল ওসমানী

জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী (১৯১৮-১৯৮৪) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি। ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম। তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ’৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ’৩৯ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করেন। একই সময়ে রাজকীয় সামরিক বাহিনীতে জেন্টলম্যান ক্যাডেট নির্বাচিত হন। ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে তিনি ’৩৯ সালের জুলাইয়ে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমি থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ’৪০)। ’৪১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। ’৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওসমানী মেজর পদে উন্নীত হয়ে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নিযুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি বার্মা (মিয়ানমার) রণাঙ্গনে ব্রিটিশ বাহিনীর অধিনায়করূপে যুদ্ধ করেন। ’৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।

ভারত বিভাগের পর ’৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন। ’৪৮ সালে তিনি কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ’৪৯ সালে তাঁকে সেনাবাহিনীর চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফের সহকারী নিয়োগ করা হয়। ’৫০ থেকে ’৫৫ সাল পর্যন্ত ওসমানী পরপর চতুর্দশ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের নবম ব্যাটালিয়নে রাইফেল কোম্পানির পরিচালক, পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের অতিরিক্ত কমান্ড্যান্ট ও সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। ’৫৬ সালে তিনি কর্নেল পদে উন্নীত হন। এরপর তিনি আর্মি হেডকোয়ার্টারসে জেনারেল স্টাফ ও মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর নিযুক্ত হন। ’৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
আতাউল গণি ওসমানী ’৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ’৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর ’৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং তাঁর এ পদোন্নতি ’৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। ’৭২ সালের ৭ এপ্রিল সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অকৃতদার ওসমানী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
সেৌজনে্‌্য : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমাদের ফেইসবুক পেইজ