করোনার ছোবলে থমকে গেছে পৃথিবী….

প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২০

করোনার ছোবলে থমকে গেছে পৃথিবী….

এডভোকেট আনছার খান ::  গোটা পৃথিবী আজ করোনাময়,চিরচেনা পৃথিবীর মানুষের সামনে ভয়াবহ এক আতংক হয়ে দেখা দিয়েছে অদৃশ্য -অচেনা,অজানা এই করোনা মহামারী রোগ।রোগটা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় ২০০-দেশ ও অন্চলে,অথচ এ রোগের কোনো ওষুধ নেই।কয়েক লাখ মানুষ ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন কয়েক হাজার।তবে বিশ্ববাসী বসে নেই,অদৃশ্য -অচেনা এই শত্রুর বিরুদ্ধে আজ যুদ্ধে নেমেছে মানুষ। এ যুদ্ধও মানুষই জয়ী হবে এ আমার বিশ্বাস।
বাংলাদেশও করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এখন অবধি ৪৮-জন আক্রান্ত এবং মারা গেছেন ০৫-জন। অজানা এক আতংকে সরকারি নির্দেশে দেশের মানুষ আজ গৃহবন্দি।
তবে গৃহবন্দি থাকাটা শেষ কথা নয়,অদৃশ্য
এ রোগ মোকাবিলার জন্য দরকার সার্বজনিক প্রস্তুতি,প্রয়োজন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলা।
এই সঙ্গে দরকার প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা, যার ব্যবস্হা করার মুল দায়িত্ব সরকারের। এই কয়েকটা দিনে এটা অনুমিত হচ্ছে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্হা অত্যন্ত দুর্বল।আর করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য একদম অপর্যাপ্ত।
রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসা সঠিকভাবে দেওয়া সত্যিকার অর্থেই কঠিন। জানা যায়,করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য কেবল ঢাকায় ল্যাব আছে।১৮-কোটি মানুষের দেশে এটা একেবারেই অপ্রতুল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আরো কিছু ল্যাব স্হাপন করা হবে,তবে কত দিনে, কখন স্হাপন করা হবে সেটা সঠিক করে কেউ বলতে পারছেন না।
আরও জানতে পাড়লাম বিভাগীয় শহর সিলেটে করোনা নির্ণয়ের কোনো ল্যাব নেই।রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পাঠাতে হয় ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসার জন্য অপেক্ষায় থেকে থেকে রোগীর বারোটা বেজে যায়।
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনো ল্যাব না থাকাটা হতাশার ও বেদনার।জানা যায় বিদেশ ফেরত লোকজনদের মধ্য থেকেই করোনা রোগ ছড়ায় বেশি। আর গত এক মাসে সিলেটে কয়েক হাজার প্রবাসী এসেছেন বিশ্বের করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে-এটা অত্যন্ত ভয়ের কারণ,অথচ এই সিলেটেই নেই রোগ পরীক্ষাগার,এটা হতে পারেন না। সরকারের মন্ত্রী সভায় প্রভাবশালী মন্ত্রী আছেন, অথচ ভয়াবহ এই সময়ে তাঁদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভুমিকা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। অবিলম্বে সিলেট সহ কমপক্ষে সকল বিভাগীয় শহরে ল্যাব স্হাপন অতি জরুরি। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট যদি অপর্যাপ্ত হয়ে থাকে তবে অন্য অপ্রয়োজনীয় খাত থেকে কাটছাঁট করে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট দ্বিগুণ করা হোক এবং করোনা মোকাবিলায় সকল শক্তি নিয়োগ করা হোক এবং করোনার কারণে সম্ভাব্য যেকোনা সমস্যা ও সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এখনি দরকার। পরিশেষে অতি জরুরি ভিত্তিতে সিলেটে ল্যাব স্হাপনের দাবি জানাচ্ছি -ডাক্তার আসিবার পুর্বেই রোগী মারা গিয়াছে,এই অবস্হা যেন না হয়।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ