করোনা বিচিত্রা

প্রকাশিত: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২০

করোনা বিচিত্রা

মনজুরুল আহসান বুলবুল :; আপাতনিরীহ কিন্তু দ্রুত ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা করোনাভাইরাস যে সিরিয়াস বিষয় তা বুঝতে এখন আর গবেষণার দরকার নেই। কাজেই এ সিরিয়াস বিষয় নিয়ে নিছক কৌতুক বা হাস্যরস করা অমানবিক। তবে কঠিন দুঃসময়েও মানুষ কীভাবে আচরণ করে সে বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলতে পারে, গবেষণা হতে পারে হয়তো মনুষ্যচরিত্র। কখনো কখনো সাধারণভাবে বিষয়গুলো কৌতুকময় মনে হলেও একটু খতিয়ে দেখলে এসব বর্ণনার ভিন্ন এবং সিরিয়াস অর্থও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

নিরাপত্তা আইনে আটক কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টুইট করছেন : ২৩৬ দিন লকডাউনে থেকে যেদিন মুক্তি মিলল সেদিন শুরু হলো ভারত সরকারের ২১ দিনের লকডাউন! সমুদ্রে যার শয্যা, শিশিরে তার কী ভয়! দীর্ঘ লকডাউন কাটানোর জন্য ব্লগিং করার পরামর্শ তার। এ টুইটের জবাবে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এবং সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই দীর্ঘ বন্দীদশার পরও ওমরের কৌতুকপ্রিয়তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি বার্তা দিয়েছেন।
ভারতে লকডাউনের প্রথম দিনে শশী থারুর কীভাবে মা ও বোনের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন সেই ছবি টুইট করেছেন। এ টুইটের জবাবে একজন শশীভক্ত বলেছেন : আপনার বইয়ের দাম অনেক বেশি, এটি জ্ঞানভা-ারে প্রবেশের অন্তরায়। দ্রুত জবাব শশীর : বইয়ের যে দাম আপনি দেখেন আমি লেখক হিসেবে মাত্র তার ১০ শতাংশ পাই, বাকি হিসাব প্রকাশকের। তবে আপনি আমার কোনো বই নিয়ে এলে আমি সেই ১০ পার্সেন্ট ফেরত দিতে পারি!!

করোনা নিয়ে দেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কয়েকটি সংবাদ শিরোনামের দিকে নজর দিন :

‘কোয়ারেন্টাইনে থাকা ইতালিপ্রবাসী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত!’

‘কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে ছবি তোলায় ১৪ দিন পর কোয়ারেন্টাইনে ফটো সাংবাদিক!’

‘ধামরাইয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে ২৮টি সিলিং ফ্যান চুরি!’

‘শব্দটা মাস্ক না মাক্স- এ নিয়ে সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক!’

‘করোনার ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতারক আটক!’

‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার ছাড়া ঘুষের টাকা নিতে চাচ্ছেন না ঘুষখোর কর্মকর্তারা’

‘কার মাস্ক টেকসই- এ নিয়ে দুই প্রতিবেশীর বিবাদ’

‘আমরা করোনার চেয়ে শক্তিশালী’

‘মিরপুর লকড ডাউন করা বাড়িটি দেখতে শত শত মানুষের ভিড়’

‘আমাদের দেশের ডাক্তার নার্সদের এখনো PPE পরার সময় হয় নাই!’

‘নবীগঞ্জে এক প্রবাসীকে রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে, একনজর দেখার জন্য পাঁচ শতাধিক মানুষের ঢল, হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ!’

‘রাজবাড়ীতে করোনা নিয়ে তর্কের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ১’

‘বরিশালের এক হাসপাতাল থেকে দৌড়ে পালানোর সময় করোনার রোগীকে ধরে কাঁধে করে নিয়ে আবার ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়েছে হাসপাতালে! চার যুবকের এমন বীরত্ব দেখে করোনাবীর ওই চার যুবককে কাঁধে করে এলাকায় আনন্দ মিছিল করেছে দুই-আড়াই শ মানুষ’

‘বগুড়ায় এক পীরের মাজারে চলা ওরস মাহফিল বন্ধ করার কথা বলায় মারপিটের শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা’

‘করোনা আতঙ্কে ঢাকা থেকে আসা বন্ধুদের নিয়ে মশারির ভিতরে তাসের আসর!’

সব শিরোনামে রস পাওয়া গেলেও বর্তমান বাস্তবতার একটা সিরিয়াস চিত্রও কি পাওয়া যায় না?

শুধু রঙ্গরসে ভরা বঙ্গই নয়, নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকান এয়ারলাইনসের ডালাস থেকে নাশভিলের ফ্লাইটটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১৪ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। কিন্তু ফ্লাইট ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক যাত্রী দাবি করেন, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফ্লাইটে পুলিশ উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত যাত্রীকে নামিয়ে নেয়। পরে তার সঙ্গে কথা বলে ও পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওই যাত্রী আসলে মিথ্যা বলেছেন। তিনি মূলত করোনাভাইরাস নিয়ে এক ধরনের কৌতুক করেছেন।

আর এতেই সবাই ভয়ে অস্থির। শেষে কয়েকজন ক্রু ও যাত্রী ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের প্রায় আট ঘণ্টা পর ওই ফ্লাইট যাত্রা করে।

এরই মধ্যে লকডাউনের সময় ‘গৃহবন্দী’ থাকা নিয়ে একটি কৌতুক করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের খ্যাতিমান অভিনেতা ঋষি কাপুর। বিশেষ করে নারীরা খুবই আপত্তি তুলেছেন। করোনাভাইরাসের ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ বলে কান লম্বা এক ব্যক্তির ছবি শেয়ার করেন ঋষি কাপুর। ছবির সঙ্গে লেখেন, মাত্র পাঁচ দিন বাড়িতে থাকার ফল। ঘরে থেকে স্ত্রীর কথা শুনতে শুনতে কান এমন লম্বা হয়ে গেছে এই ব্যক্তির।

এই গৃহবন্দিত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর কথোপকথন-

প্রথম বন্ধু : আমি বর্তমানে স্টেজ-৩-এ আছি, প্রথম পর্যায়ে থালাবাসন মেজেছি। দ্বিতীয় পর্যায়ে খাবার তৈরি করেছি। তৃতীয় পর্যায়ে কাপড়জামা সব ধুয়েছি।

আর তুমি?

দ্বিতীয় বন্ধু : আমি বউয়ের হাতে খুব মার খেয়েছি কিন্তু তাও কোনো কাজ করিনি। ভাই! করোনা কয়েকদিনের মধ্যে চলে যাবে, কিন্তু বউ যদি একবার বুঝতে পারে যে, আমি এগুলো করতে পারি, তাহলে সারা জীবন আমাকে এগুলো করে যেতে হবে।

গৃহবন্দিত্ব নিয়ে দুটি প্রচারপত্র। ‘মহিলাদের অনুরোধ করা যাচ্ছে, অহেতুক তা-ব করবেন না, বাড়িতে পুরুষদের অবস্থান সহনীয় করুন- জনস্বার্থে প্রচারিত’।

গৃহবন্দিত্ব নিয়ে আরেকটি : লকডাউনে

স্ত্রী তার গৃহবন্দী আইনজীবী স্বামীর কাছে জানতে চাইল, ‘আচ্ছা স্ত্রী রান্না করবে স্বামী খাবে এটা কোন আইনে আছে?’ স্বামী গম্ভীর হয়ে বলল, ‘জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী একজন বন্দীকে অবশ্যই খাবারসহ বন্দী রাখতে হয়।’

এসব উদাহরণ যে পুরুষতান্ত্রিক বলাই বাহুল্য। একটি নারীবান্ধব : ফোনে এক রমণী জানালেন, এবার পুরুষরা বুঝুক, গৃহবন্দী থাকা কী কষ্ট!

এবার সিরিয়াস বিষয় নিয়ে সিরিয়াস একটি। ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্দিজ্বর আক্রান্ত একজন হাসপাতালে গেছেন করোনা পজিটিভ কিনা তা পরীক্ষা করাতে। কিন্তু দীর্ঘ লাইন। এরই মধ্যে খবর এলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন : লকডাউন করার জন্য আমেরিকার জন্ম হয়নি; সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে শিগগিরই। লাইনে দাঁড়ানো লোকটি তিন মিটার দূরে থাকা পেছনের জনকে বললেন, আমার জায়গাটা একটু দেখবেন, আমি প্রেসিডেন্ট ব্যাটাকে গুলি করে আসি। বেশ সময় নিয়ে ফিরলেন তিনি। তার জায়গা রাখা জন বললেন : কি ভাই! প্রেসিডেন্টকে গুলি করতে পারলেন? সামনের জনের দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত জবাব : নারে ভাই! সেখানে আরও লম্বা লাইন। কৌতুক মনে হতে পারে, কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন রাষ্ট্রনায়কের প্রতি নাগরিক অসন্তুষ্টির চিত্রও কি মেলে না এতে।

লকডাউনে সন্ত্রস্ত নাগরিক সমাজ কীভাবে বাড়িতে নিত্যপণ্যের মজুদ গড়ে তুলেছে তার ছন্দময় চিত্র তুলে ধরেছে।

কবি ব্রত রায় তার ‘আমার ফ্যামিলি যেন থাকে দুধেভাতে’ কবিতায় লিখেছেন : দুই দিনে কিনিয়াছি চারমণ চাল/আশি কেজি আটা আর কুড়ি কেজি ডাল!/আরও কিছু ডাল কিনে করিব মজুদ/ষাট কেজি কিনিয়াছি প্যাকেটের দুধ!/তেল এত কিনিয়াছি-সব ঢালি যদি/নিমেষেই হয়ে যাবে কুশিয়ারা নদী।/লবণের বস্তাটা সস্তাই ছিল/ভাবা যায় পেয়ে গেছি ত্রিশ টাকা কিলো?/কিনিয়াছি চা-র পাতা, ঘৃত আর চিনি/মসলার গুঁড়াগুলি ঘুরে ঘুরে কিনি।/পেঁয়াজ-রসুন-আদা বস্তা ভরিয়া/কিনিয়াছি, দুর্দিন স্মরণ করিয়া।/বিস্কুট-চানাচুর-সেমাই আর ম্যাগি/কিনে কিনে ভরিয়াছি তিন-চার ব্যাগই!/আপাতত কিনিয়াছি চারশত ডিম/সামনের দিনে যদি খাই হিমশিম/মাছ কিনে রাখিয়াছি ডিপ ফ্রিজে ভরে/খাওয়া যাবে দশজনে ছয়মাস ধরে।/সাধ ছিল পুরা গরু কিনে রাখি ফ্রিজে/পারি নাই সেটা ভেবে দুঃখিত নিজে!/মুদি শেষ এরপর ফার্মেসি যাব/সিভিট কিনব আমি যতগুলো পাব।/হ্যান্ড স্যানিটাইজার একশোটা, আমি/অর্ডার দিয়া দিছি হোক যত দামি।/গ্যাসের ওষুধ আর অ্যামোডিস, নাপা/দশ বক্স কিনে নেব- এটা নয় চাপা!/ করোনায় মরি আর যাহাতেই মরি/ভাতের অভাবে আমি মরিব না, স্যরি!/আমার ফ্যামিলি যেন থাকে দুধেভাতে/বাকিরা মরিয়া যাক করোনার ঘাতে!!’

রঙ্গরস আর ছন্দে সাম্প্রতিক বাস্তবতার এক অপরূপ চিত্র।

বিদেশ থেকে আসা নাগরিকগণই করোনার প্রথম বাহক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এক শিরোনামে তার চমৎকার প্রকাশ : ‘ইতালি থেকে স্বামী আসার খবর শুনে স্ত্রী পালিয়েছে।’

‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ কী- বাঙালিদের এটা বুঝতেই লাগল এক মাস। সেই যে মনিরের গল্প বা সত্য ঘটনা; সবারই হয়তো জানা। তবু আবার দেখুন : মনির ইতালি থেকে দেশে ফিরে চৌদ্দ দিনের জন্য নিজ বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। এই খবর পাওয়ার পরই দূরআত্মীয়স্বজন ওকে দেখতে আসা শুরু করেছে আপেল, মালটা আর হরলিক্স নিয়ে। রাজশাহী থেকে বড় চাচা এসেছেন চাচি আর চাচাতো ভাইদের নিয়ে। মেজ ফুফা এসেছেন বগুড়া থেকে। সিলেট থেকে এসেছেন খালা-খালু। এসে বললেন, ‘শুনলাম তুমি নাকি চৌদ্দ দিন ঘরের ভেতরে থাকবা, তাই তোমার খালা বলল পোলাডারে দেইখা আসি। সে তোমার জন্য রান্না করে নিয়ে আসছে। তোমার প্রিয় ইলিশ মাছ আর গরুর গোস্তের সালুন।’ সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া।

বন্ধুরা এলো কিছুক্ষণ পর সিগারেট আর তাসের প্যাকেট নিয়ে। একসঙ্গে বসে তাস খেলার জন্য। আম্মু মুড়ি মাখিয়ে দিয়ে গেলেন সবাইকে খাওয়ার জন্য। সন্ধ্যাবেলা মনির বলল, ‘মা সারা দিন বাসায় বসে থেকে বোর হচ্ছি একটু সামনে থেকে হেঁটে আসি।’

মনিরের মা বলল, ‘আচ্ছা বাবা, বেশি দূর যাস না কিন্তু। ডাক্তার নিষেধ করে গেছে। মনির বেশি দূর গেল না। শুধু মোড়ের চায়ের দোকান থেকে চা আর সিগারেট খেল। এলাকার এক মুরব্বি গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘তুমিই তো হোম কি বলে তাতে আছ। বাইরে যাওয়া নিষেধ।’

-হ, চাচা। হোম কোয়ারেন্টাইন।

-হ্যাঁ হ্যাঁ, ওইটাই। তো বাজারে যাইতে পারবা না। কিছু দরকার হলে বইল এনে দেব।

-আচ্ছা চাচা।

-আর পারলে একসময় আমাদের বাসায় এসো। তোমার চাচি বলতেছিল তোমার কথা। ইতালি যাওয়ার আগে সেই কত ছোট দেখেছে। এখন কত বড় হইছ সেটা দেখবে।

তিন চার দিন পর মনিরের আরও বোরিং লাগা শুরু করল। সে বাকি হোম কোয়ারেন্টাইন শ্বশুরবাড়িতে পূরণ করার জন্য সেজেগুজে রওনা দিল। খবর পেয়ে মনিরের শাশুড়ি বড় বড় দুইটা মুরগি জবাই দিলেন। জামাই এত দিন পর আসছে, তার ওপর অসুস্থ বলে কথা। ভালো খাতিরদারি দরকার।

দিনভর শালা-শালিদের সঙ্গে আড্ডা মেরে শাশুড়ির আপ্যায়নে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন মনির।

এই দুর্যোগেও মুফতে সুযোগ নেওয়ার কমতি নেই। ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বহু ‘মহৎ’ বাড়িওয়ালা। কিন্তু একজন লিখছেন : আমি যে বাসায় থাকি, সে বাসার নোটিস বোর্ডে এক মাসের ভাড়া মওকুফের নোটিস। ভাড়াটিয়ারা সবাই বাঃ বাঃ দিচ্ছে মালিককে। আর মালিক খুঁজছে নোটিসদাতাকে!

তবে করোনা নিয়ে কাব্যিক প্রত্যাশার এক অনুপম চিত্র এঁকেছেন ওপার বাংলার কবি-শিল্পী নচিকেতা। রস ও তির্যক বাক্যবাণে যে কথা তিনি বলেছেন সে তো আমাদের হাজারটা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সমান। কবিতাটি পড়ুন আপাতত; হয়তো পরে এটি গান হবে : ‘করোনা নামের মহামারী তুমি যাও, তুমি যাও/একটা বিনীত অনুরোধ, তোমার ভয়টাকে রেখে যাও/ওগো ভয়, তোমারই হোক জয়/তুমি নির্ভীক তরবারি, তুমি নির্মেদ অক্ষয়/তোমারই হোক জয়/তোমার নামে বন্ধ হয়েছে সভ্যতা নামে দূষণ/তোমার জন্য বহুদিন পরে আকাশে হাসছে পুষণ/তোমার জন্য মানুষ ভুলেছে পুষে রাখা বিদ্বেষ/শুধু ভয় করে দিল বিভেদহীন এক দেশ/কারও মুখই যাচ্ছে না দেখা আল্লাহ অথবা রাম/সবার মুখই মাস্কেতে ঢাকা, সবার কপালে ঘাম/হাতে নাগরিক পঞ্জির খাতা, কাগজে চায় প্রমাণ/এখন তারা কোথায়? দিতে পারেন সন্ধান/মৃত্যুর কোনো দেশ তো লাগে না/কাঁটাতার ছিঁড়ে যায়/নগর থাকলে নাগরিক, সে নগরকে কে বাঁচায়/রোজ আমাদের হিংসে মন্ত্র শেখায় যে পুরোহিত/যুগ যুগ ধরে আমরা তো জানি তার নাম রাজনীতি/করোনা, তোমার ভয়ে বন্ধ সে মন্ত্র উচ্চারণ/মানুষ বুঝেছে জীবনে নেই পুরোহিত প্রয়োজন/করোনা, তুমি যাও, তুমি যাও/শাহজাদি শুধু ভয়টুকু থাক, হোক ভয়টা সাম্যবাদী।’

স্বীকার করে নিচ্ছি, এই লেখার পুরোটাই টুকলিফাই করা। নানা মাধ্যম থেকে নেওয়া, কোথাও অনুবাদ করা। নিজস্বতা কোথাও নেই। অনেকের বিচিত্র ভাবনা বা রচনার মালা একটি। সৃজনশীল সেই সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। চিকিৎসক ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ : সব সময় করোনাভাইরাস নিয়েই পড়ে থাকবেন না। দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা যাতে না বাড়ে সেজন্য এ থেকে বেরিয়ে আসুন। সঠিক তথ্য জানুন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ভালো থাকুন।

তবে শেষ করি অন্যভাবে। ভোরে প্রাতঃভ্রমণ সেরে ফিরছি। লকডাউনে রাস্তা ফাঁকা। প্রৌঢ় রিকশাচালকের হতাশাভরা চোখ দেখে তাতে উঠে বসি। ভাবী, একটু বেশি ভাড়া দিয়ে পুষিয়ে দেব। জিজ্ঞাসা করি এই লকডাউনে গ্রামে যাচ্ছেন না কেন? রিকশাওয়ালা ঘাড় ঘুরিয়ে বলেন : দেড় মাসের সব মজুদ আছে ঘরে, এখন যা পাব পরের দেড় মাসের জন্য জমাব, গ্রামে যাব কেন? আমার ধারণা ধাক্কা খেল। কিছু দূর এগোতেই দেখি এক প্রাণিপ্রেমী রুটি ছিঁড়ে বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে দিচ্ছেন। ফুটপাথে বসা ক্ষুব্ধ ভিক্ষুকের মন্তব্য : ইস, মানুষের খাবার নাই, কুত্তারে খাওয়ায়! চোখের পলকে আমার রিকশাওয়ালার প্রতিক্রিয়া : সঠিক কামই তো করছে ব্যাটা। কুত্তা তো বেইমানি করে না, বেইমানি করে মানুষ!! বেইমানরে খাওয়াইয়া লাভ কী?

হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকি! হয়তো কথাটা কখনো সত্যি। তবু মানুষের প্রতিই আস্থা রাখি। তবু বলি : মানুষেরই হোক জয়।

লেখক : সাংবাদিক।

সেৌজনে‌্য :; বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমাদের ফেইসবুক পেইজ