করোনা থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডা. ফেরদৌসের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

প্রকাশিত: ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২০

করোনা থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডা. ফেরদৌসের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

সিল-নিউজ বিডি-ডেস্ক :: ডা. ফেরদৌস খন্দকার। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চিকিৎসক। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশিদের সচেতন করতে প্রায় প্রতিদিনই ফেসবুক লাইভে আসেন তিনি।

করোনা আসলে কীভাবে ছড়ায় সে বিষয়ে আলোচনা করতে বুধবার রাতেও নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে লাইভে আসেন এই চিকিৎসক। সেখানে বাংলাদেশিদের করোনা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, করোনা নিয়ে একটি বিষয় ফলো করলে আমরা এ যাত্রায় বেঁচে যাব। আমরা যখন কথা বলি তখন আমাদের শ্বাসের সঙ্গে লাখ লাখ ভাইরাস বের হয়।

তিনি বলেন, যিনি ভাইরাসটি ছড়াচ্ছেন তিনি হয় তো জানেনও না, কীভাবে একজন থেকে আরেকজনকে তিনি ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এটি প্রথম ছড়ায় পারসন থেকে পারসনে।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, বিভিন্নভাবে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। ভাইরাস যিনি ছড়াচ্ছেন তিনি লক্ষণযুক্ত হতে পারেন আবার লক্ষণ ছাড়াও হতে পারেন।

‘লক্ষণযুক্ত হলে আমরা প্রটেকশন নিয়ে ফেলি। যিনি আক্রান্ত তিনি যদি মাস্ক না পরেন তাহলে বাকিদের মাস্ক পরে লাভ হবে না। তাই তাকে মাস্ক পরাতে হবে। তাকে আলাদা করে ফেলতে হবে। সে যেন জনসম্মুখে না আসতে না পারে।’

ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, যার মধ্যে কোনো লক্ষণ নাই তাকে কী করবেন। সেটি একটি বিশাল প্রশ্ন। চীনে প্রতি পাঁচজনে চারজন এ রোগটি পেয়েছে এমন একজন মানুষ থেকে যার কোনো লক্ষণ ছিল না।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, এই যে আমরা বিদেশিদের পেছনে লাগছি, তাদের কোথাও যেতে দিচ্ছি না। তাদের বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দিচ্ছি। এগুলো ভুল ধারণা আমার কাছে মনে হয়।

‘কারণ এটি এখন কমিউনিটি ট্রান্সফার হচ্ছে। যার লক্ষণ নেই সেও কিন্তু একজনকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বৃহৎ পরিসরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ভাবতে পারবেন না আমার হবে না। আমি পারব সামাল দিতে। ঠিক এই জায়গাটিতেই আমাদের বড় ভুল হচ্ছে।’

এজন্য তিনি সব সময় হাতে গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

করোনাভাইরাস কীভাবে বেঁচে থাকে সে প্রসঙ্গে এই প্রবাসী চিকিৎসক বলেন, মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ১৪দিন পর স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করবে। এটি একটি সাধারণ লাইফ সাইকেল।

‘এজন্য ১৪ দিন ঘরে থাকলে ভাইরাসগুলো নিজে নিজে মরে যাবে। কাজেই আমরা যদি সবাই লকডাউন সিচুয়েশনে চলে যাই তাহলে ভাইরাসটিকে আর সেই সুযোগ দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, একান্ত শ্বাসকষ্ট না হলে সর্দি-কাশি নিয়ে পেরেশানি হওয়ার কিছু নাই। সর্দি-কাশি ছাড়া সমস্ত ফ্লু জাতীয় রোগ নিজে নিজে ভালো হয়ে যাওয়ার কথা। প্রচুর পানি খাবেন। নিজেকে ও পরিবারকে একটু সময় দেন। বাইরে বের হলেই বিপদ।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ