‘চাল যায়, চাল আসে-তাই নিয়ে সবাই হাসে’( ভিডিও)

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২০

‘চাল যায়, চাল আসে-তাই নিয়ে সবাই হাসে’( ভিডিও)

সিলেটের ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম আবুল কালাম আজাদ লায়েক অসহায়দের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন

Posted by Syl News BD on Saturday, April 4, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিরোনামটি একটি ছড়ার। ছড়াকার দেবব্রত রায় দিপন। চাল নিয়ে ‘চাল কাহিনী’র একটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এই ছড়ায়। নগরীতে একইভাবে চাল নিয়ে শুরু হয়েছে এক নতুন ‘চালবাজি’। চালবাজির বিষয়টি তুলে ধরতেই উপরের শিরোনামটি বেছে নিতে হলো।

সম্প্রতি নগরীর ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপর অভিযোগ উঠে, না বলে সিসিক ফান্ড থেকে ১২৫ বস্তা চাল নিয়ে যাওয়ার। পরবর্তীতে চালগুলো আবারো ফেরত আসে নগর ভবনে। মেয়রের নির্দেশে চালগুলো ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন কাউন্সিলর এ কে এ লায়েক-এমন তথ্য খোদ মেয়র জানালেও বিষয়টি মানতে নারাজ অভিযুক্ত কাউন্সিলর।

তিনি বলেন, চাহিদাপত্র পাঠানোর পর যথারীতি সেগুলো নগর ভবন থেকে দায়িত্বশীলরা পাঠিয়ে থাকেন। সেখানে আমার উপস্থিতির প্রয়োজন পড়েনা। এমনকি চাল নিজ থেকে নগর ভবন থেকে সংগ্রহ করা হলে-সেখানে ‘রিসিভড’ হিসেবে আমার সাক্ষর করার কথা। কিন্তু চালগুলো সিসিক থেকে দায়িত্বশীলরা পাঠিয়েছেন বলেই, রিসিভার হিসেবে আমার স্ত্রীর সাক্ষর রয়েছে। তিনি বলেন, চাহিদাপত্র অনুযায়ী চাল পাঠানো হয়নি এবং সেই সাথে চালের সাথে, ডাল, আলু, পিয়াজ,তেল এবং লবন পাঠানো হয়নি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে মেয়রের সাথে যোগাযোগ করা হলে আবারো ২৫০০ প্যাকেট খাদ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তখনই বাধ্য হয়ে আমি চালের ১২৫ বস্তা আবারো ফেরত পাঠিয়ে দেই।

এর আগে সিসিকের শুণ্য ফান্ড ঘোষণা করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাহায্যের জন্য আবেদন জানান সরকারসহ বিভিন্ন সামর্থবানদের কাছে। মেয়রের আহবানে এগিয়ে আসলেন সদাশয় সরকার। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সিসিকের ফান্ডে আসলো উল্লেখযোগ্য পরিমান চাল। মেয়রের আবেদনে সাড়া দিলেন সামর্থবান মানুষেরাও। ব্যাস ! আসতে থাকলো আর্থিক অনুদান থেকে শুরু করে, চাল, ডাল, পিঁয়াজ, তেল, আলু ও লবন। বেশ কিছু জিনিসপত্র কেনা হলো জমাকৃত আর্থিক ফান্ড থেকে।

এবার শুরু হলো বিতরণ পর্ব। বিভিন্ন ধাপে বিতরণের সিদ্বান্ত অনুযায়ী ডিমান্ড চাওয়া হলো ২৭ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা যথারীতি চাহিদাপত্র পাঠিয়ে দিলেন মেয়র বরাবরে।
এবার চালবাজী নাটকের শুরুর পর্ব নিয়ে জানা গেলো নগরভবনের কর্মকর্তা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলে। ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এ লায়েক চাহিদাপত্রে নিজ ওয়ার্ডের তালিকা দেন ৬ হাজার ২৪৫ জনের। এ তালিকা পেয়ে সন্দেহ হয় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। তিনি সে সন্দেহের কথা প্রকাশও করেন, এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় মেয়র আরিফ ও কাউন্সিলর লায়েকের। বিষয়টি মনে পুষে রাখেন মেয়র আরিফ।

২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নগরভবনে উপস্থিত হন এ কে এ লায়েক। এক সময় মেয়রের গাড়িও প্রবেশ করে নগরভবনে। গাড়ি থেকে নেমে কাউন্সিলর লায়েককে দেখে পুরনো বিষয়টি মনে পড়ে যায় মেয়র আরিফের। তিনি লায়েককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ও একটা বেয়াদব। প্রতিবাদ করেন লায়েক। শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। বিষয়টি হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ানোর উপক্রম হলে উপস্থিত অন্যদের মধ্যস্থতায় তেমনটি ঘটেনি।

মেয়র তখন লায়েকের ওয়ার্ডে সহায়তা না দেওয়ার কথাও বলেন। এরই মাঝে ১২৫ বস্তা চাল নিয়ে একটি ট্রাক ছুটে কাউন্সিলর লায়েকের বাসার উদ্দেশে। খাদ্য ফান্ডের তদারককারী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন তখন উপস্থিত ছিলেন। ভেবেছিলেন ঝামেলা হয়তো এতেই মিটে যাবে। তবে পরে এ নিয়ে হুলস্থুল শুরু হলে চেষ্টা চলে পাঠানো চাল ফিরিয়ে আনার। নানা জনের কাছ থেকে ফোন যায় লায়েকের কাছে। পরে খাদ্যসামগ্রীর ২৫০০টি তৈরি প্যাকেট দেওয়া হলে শুক্রবার চাল ফিরিয়ে দেন কাউন্সিলর লায়েক।

কাউন্সিলর এ কে এ লায়েক বলেন, তিনি জোর করে চাল আনেননি। তার বাসাতেই চাল পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, তার অনুপস্থিতিতে চাল রিসিভ করেন তার স্ত্রী। কাউন্সিলর লায়েক বলেন, জোর করে নিয়ে এলে তো রিসিভ করার প্রয়োজন হতো না। তার বাসা থেকে চাল উদ্ধারেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য ২৫০০ প্যাকেট তৈরি খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার পর তিনি নিজেই চাল ফিরিয়ে দিয়েছেন।

সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন চাল পাঠানোর কথা সরাসরি স্বীকার না করলেও বললেন, চাল বোঝাই গাড়িটি ভুল করে হয়তো ওখানে চলে গিয়েছিলো। তিনি স্বীকার করেন কাউন্সিলরের বাসা থেকে চাল উদ্ধার করা হয়নি। যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর নিজেই পরে চাল ফিরিয়ে দিয়েছেন।

সুত্র : সিলেট প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ