করোনা সংক্রমণের জিওগ্রাফিক বিশ্লেষণ করলেন সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা

প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২০

করোনা সংক্রমণের জিওগ্রাফিক বিশ্লেষণ করলেন সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। এরইমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ১২৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। এমন সময় সুখবর দিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশে করোনাভাইরসের সম্ভাব্য বিস্তার ও তাপমাত্রার প্রভাব’ নিয়ে গবেষণা শেষ করেছেন সিকৃবির একদল গবেষক।

তারা হলেন- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বাশির উদ্দিন, ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, অ্যাকুয়াটিক রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমেদ হারুন-আল-রশীদ, এপিডেমিওলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. ইরতিজা আহসান, ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আব্দুস শুকুর ইমরান। এ দলের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এপিডেমিওলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহমেদ।

গবেষণায় চীনের উহান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও বাংলাদেশের তাপমাত্রার তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণ থেকে বলা হয় যে, বর্তমান তাপমাত্রা দেশে কোভিড-১৯ এর বিস্তারকে অনেকটা ধীরগতির করে দিতে পারে।

গবেষণাপত্রটি Research Square নামক ওয়েবসাইটে প্রি-প্রিন্ট হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্রটি বর্তমানে ন্যাচার রিসার্স গ্রুপের একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের জন্য পর্যালোচনা চলছে।

বায়োইনফরম্যাটিক্স-এর বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি, স্যাটেলাইট ইমেজিং এবং এপিডেমিওলজির বিভিন্ন ডাটাবেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ গবেষণা করা হয়।

গবেষণায় ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মহিষ থেকে প্রাপ্ত এক ধরনের করোনাভাইরাসে জিনোমের সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারির জন্য দায়ী সার্স-করোনাভাইরাস-২ এর জিনোমের মধ্যকার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিগত দিনগুলোতে রোগ সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস গ্রুপের অন্যান্য ভাইরাস যেমন সার্স, মার্স ও বাদুর থেকে পাওয়া করোনাভাইরাসের মধ্যেও তুলনামূলক গবেষণা করা হয়। ফলাফল হিসেবে বলা হয়- সার্স-করোনাভাইরাস-২ সার্স ভাইরাসের সঙ্গে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, মার্চের ৯ তারিখ পর্যন্ত এপিওডেমিওলজির বিভিন্ন ডাটাবেইজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্লোবাল কেস ফ্যাটালিটি ও মৃত্যুহার তুলে ধরা হয়।

একইসঙ্গে স্যাটেলাইট ইমেজিং-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত চীনের উহান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও বাংলাদেশের তাপমাত্রার তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণ থেকে বলা হয়, বর্তমান তাপমাত্রা বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর বিস্তারকে অনেকটা ধীরগতি করে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এম.আই.টি জানিয়েছে, সার্স-করোনাভাইরাস-২ এর প্রাদুর্ভাব ৩-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, ইউরোপীয় গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এর ৯৫ শতাংশ কেস শীতপ্রধান দেশের। এসব দেশের তাপমাত্রা ৫-১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই গবেষণার তথ্যের সঙ্গে সদৃশ।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেশের মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, এরইমধ্যে সার্স-করোনাভাইরাস-২ বিরূপ পরিবেশে নিজেকে পাল্টে ফেলার চারিত্রিক লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়েছে। এ কারণে দেশে যাতে এর বিস্তার না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে নইলে এ ভাইরাস মহামারিতে রূপ নিতে পারে।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ