হালদায় ভাল হলেও টাঙ্গুয়ার হাওরে নেই সুসংবাদ

প্রকাশিত: ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০২০

হালদায় ভাল হলেও টাঙ্গুয়ার হাওরে নেই সুসংবাদ

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি :; হালদায় মাছের ডিম সংগ্রহে ১৪ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে এবার।
দক্ষিণ এশিয়ার রুই জাতীয় মাছের প্রকৃতিক প্রজননের ক্ষেত্র হালদা।ডেইলি স্টারের সংবাদ অনুসারে এবার মাছের ডিম সংগ্রহ হয়েছে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি।যা গত বছর ছিল ৭হাজার কেজি।এবারে এই অর্জনের জন্য স্থানীয় লোকজনের সচেতনা এবং প্রশাসনের অভিযানসহ কয়েকটি কারণ বলা হচ্ছে।

হালদা সুসংবাদ দিলেও সুনামগঞ্জে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র টাঙ্গুয়ার হাওরে সুসংবাদ নেই।টাঙ্গুয়ার হাওরে পানি প্রবেশ শুরু করেছে।ফলে মা মাছ অাসছে।পোনা অাসছে।ডিমসহ মা মাছ অার পোনা মাছ শিকারে নেমেছেন স্থানীয়রা।টাঙ্গুয়ার হাওরে মা মাছ অার পোনা রক্ষা করতে পারলে হাওর এলাকায় মাছের ব্যাপক উৎপাদন হয়।কারণ টাঙ্গুয়ার হাওর হল মাদার ফিশারি। অতীতে সেটি দেখা গেছে।দুর্ভাগ্য হল সংরক্ষন করা হচ্ছেনা।
টাঙ্গুয়ার হাওরে একসময় ইজারা প্রথা ছিল।ইজারাদার তিন বছর হাওরে মাছ সংরক্ষন করতেন।প্রতি তিন বছর পরে মাছ ধরতেন।ইজারাদার এটি করতেন নিজের স্বার্থে। তিন বছর সংরক্ষনে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেত। তিনি লাভবান হতেন।লাভবান হত রাস্ট্রও।দুর্ভাগ্য টাঙ্গুয়ার হাওরের।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে জেলার রাজনীতির কোন্দলের শিকার হয় টাঙ্গুয়ার হাওর।ক্ষমতাসীন দলের অধিক ক্ষমতাবানরা নিজেদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বাতিল করেন ইজারা প্রথা।ঘোষণা হয় বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে।ঘোষিত রামসার সাইটের ব্যাবস্থাপনা দেয়া হয় জেলা প্রশাসনের হাতে।কমিউনিটি বেইজড ফিশারি ম্যানেজমেন্টের নামে প্রকল্প তৈরি হয়।বলা হয় হাওর পাড়ের মানুষেরা হাওর সংরক্ষনে অংশ নেবেন।যুক্ত হন এনজিও সংস্থা অাইইউসিএন।এলাকার লোক নিয়ে সমিতি করা হয়।ব্যাপস্থাপনায় সরকারী অর্থ দেয়া হয়।বিভিন্ন স্থানে অানসার ক্যাম্প বসানো হয়।ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়।তারা অানসার নিয়ে হাওর পাহারা দেয়া শুরু করেন।

একসময় দেখা যায় হাওরপাড়ের যাদের নিয়ে সমিতি করা হয়েছিল তারা বেপরোয়া হয়ে গেলেন।সমিতির এরাই অবাধে মাছ ধরা শুরু করলেন।বাধা দিতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট অাহত হলেন।মামলা হল সমিতির এদের নামে। কিন্তু সারা বছর অবাধে মাছ ধরা চলতে থাকল।

ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রশাসন অার অাইইউসিএন হাওরে মাছ ধরার অায়োজন করলেন।অাইইউসিএন এর ড.অাইনুন নিশাত এলেন।সুন্দর ড্রেস পরে মাছ ধরতে নামলেন জেলেরা।জেলা শহরের সুশীল সমাজকে অামন্ত্রন জানানো হল।মাছ ধরা দেখতে।তাদের ব্যাবস্থাপনায় মাছ বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি দেখানোর জন্যই অামন্ত্রন সুশীল অার সাংবাদিকদের।ঘন্টার পর ঘন্টা চেষ্টা করে না কি দুটো মাছ ধরা হয়েছিল হাওরে।একসময় অাইইউসিএন বিদায় নিল।

প্রশাসনের দায়িত্বে থাকল হাওর।যা এখনও অাছে।মধ্যে একজন অাপাদমস্তক সৎ জেলা প্রশাসক জহির উদ্দিন সুনামগঞ্জে এসেছিলেন।তিনি মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়ে বলেছিলেন হাওরের বর্তমান ব্যাবস্থাপনার ব্যার্থতার কথা।প্রস্তাব করেছিলেন ইজারা প্রথায় ফিরে যাওয়ার।সরকারের এবং মাছ বৃদ্ধির স্বার্থে।তার প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।দুর্ভাগ্য হাওর এলাকার। স্থানীয়রাই বলেন হাওরে মাছ ধরার নিয়ম মানেননা তারা।অর্থের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত মাছ ধরা হয়।ফলে কমছে হাওরে মাছ উৎপাদন।বর্তমানে হাওরে নতুন পানি ঢুকছে।মানুষ ছুটছে মা মাছ অার পোনা ধরতে।

হালদা সুখবর দিলেও টাঙ্গুয়ার হাওরে মৎস্য সম্পদের খারাপ খবর।
হাওর এবং মাছের উৎপাদন বাড়াতে টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে নতুন করে বাস্তবতার অালোকে সঠিক সিদ্বান্ত নেয়া উচিত।
২৩.০৫.২০

টাঙ্গুয়ার হাওরের ছবি সংগৃহিত।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ