কানাডায় সিলেট প্রবাসী বাঙালিদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

কানাডায় সিলেট প্রবাসী বাঙালিদের সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক :

কানাডার আলবার্টার ক্যালগেরিতে আজ এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জ তথা বৃহত্তর সিলেট প্রবাসী বাঙালিরা “হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২০” সংসদে পাস হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এমপি আবু জাহিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রূপক দত্ত, প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কিরণ বণিক শংকর, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান দীপু।

বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সিলেটের উন্নয়নে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্ম আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই গত সাত মাসে পৃথিবীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট প্রবাসী উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান দীপু।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জে অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের নেতৃত্বে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম এক সংবর্ধনা সভায় অ্যাডভোকেট আবু জাহির জেলাবাসীর পক্ষ থেকে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বৃহত্তর সিলেটের গোপালগঞ্জ খ্যাত হবিগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যেই হবিগঞ্জে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২৩ জুন ২০১৯ আনুষ্ঠানিকভাবে মহান জাতীয় সংসদে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল উত্থাপিত হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মন্ত্রিসভায় এর নীতিগত অনুমোদন পায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। অত:পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। এই সুদীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট আবু জাহির এমপি নিরলসভাবে হবিগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবিটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেছেন।

সিলেট অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রূপক দত্ত বলেন, আজ সত্যিই আমাদের আনন্দের দিন। নতুন প্রজন্ম এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের ভবিষ্যতকে আরও সুন্দর করে তুলবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি কানাডায় বসবাসকারী প্রবাসী সিলেটিদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হবিগঞ্জের উন্নয়নে পরিশ্রমী নেতৃত্বদানকারী অ্যাডভোকেট আবু জাহির এমপির প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

বৃহত্তর সিলেটের প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদির বলেন, সিলেটের উন্নয়নে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। আর এ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এমপি আবু জাহিরসহ সিলেট বিভাগের সব সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করবেন।

বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক কিরণ বণিক শংকর বলেন, আজ আমাদের আনন্দের দিন। আমরা প্রবাসে থাকলেও দেশ থাকে আমাদের হৃদয়ে। হবিগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, শেখ হাসিনা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও অতি সাম্প্রতিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অ্যাডভোকেট আবু জাহির এমপির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান দীপু বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২০ পাসের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জের উন্নয়নে জেলাবাসীর প্রতি অ্যাডভোকেট আবু জাহির এমপি প্রতিশ্রুত সব বড় পরিসরের প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। হাওর, বাঁওড়, বনাঞ্চল, রাবার আর চা বাগানবেষ্টিত হবিগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নি:সন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

জননেত্রী শেখ হাসিনা ও অ্যাডভোকেট আবু জাহির এমপির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে একনিষ্ঠ সততার সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর গবেষণার মাধ্যমে এর সুফল অতি দ্রুতই সমাজের সব স্তরে পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।