জৈন্তাপুরের বৃহত্তর হেমু রাস্তার বেহাল দশা, যেনো দেখার কেউ নেই

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

জৈন্তাপুরের বৃহত্তর হেমু রাস্তার বেহাল দশা, যেনো দেখার কেউ নেই

শাহজাহান কবীর খান, জৈন্তাপুর (সিলেট) থেকে ঃ জৈন্তাপুরের বৃহত্তর হেমু রাস্তার বেহাল অবস্থা, প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ এবং যানবাহন চলাচল একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুরাতন পাকাঁ এই রাস্তাটি দেখলে মনে হয় কোন একটি কাচাঁ রাস্তা। জন-দূর্ভোগ রাগবে দ্রুত এই রাস্তা মেরামতের জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের বৃহত্তর একটি অঞ্চল হেমু ছাড়াও এখানে ছোট-বড় প্রায় ১০টি গ্রাম। যেখানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের বসবাস। প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাড়া এই জনপদটিতে রয়েছে শতবর্ষী একটি মাদ্রাসা। সিলেট-তামাবিল মহা-সড়ক থেকে হেমুর অভ্যন্তরে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে রয়েছে অন্তত ৪ কিলোমিটার রাস্তা। সর্ব শেষ ২০১৪ সালে ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকাঁকরণ কাজ হয়, তাও ঠিকাদারের অনিয়ম আর দূর্নীতির কারনে মোটেই মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে দাবী করছেন এলাকাবাসী। কাজ শেষ হওয়ার পরের বছর থেকেই রাস্তা ভাঙ্গা শুরু। অথচ সিএনজি, লেগুনা ও রিক্স ছাড়া কোন ভারী যানবাহন চলেনি এই রাস্তা দিয়ে। দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সংস্কারে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেকটা উদাসীন বলা চলে। এই অঞ্চলের শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষ হরিপুর বাজার, জৈন্তাপুর এবং সিলেট শহর পর্যন্ত যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ শিকার। স্থানীয় যুবক শামীম আহমদ, ইমদাদুল হক মিলন ও প্রবাসী মোঃ জাকারিয়া আহমদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় যখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঠিক তখন আমরা বৃহত্তর হেমুবাসী দীর্ঘ ৬ বছর থেকে একটা ভাঙ্গা রাস্তায় কাদাঁ মেখে চলাচল করছি। বিভিন্ন সময় জরুরী রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়, তখন রাস্তার কারনে রোগীর অবস্থা আরো আশংকাজনক হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা ভালো কাপড় পরে রাস্তায় বের হয়, আর বাড়ী ফেরার সময় পরনের কাপড় নোংরা হয়ে যায়। মারাতœকভাবে রাস্তা খারাপ হওয়াতে অনেক মালিক তাদের গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পুরো রাস্তার পাকাঁ অংশ অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে, বর্তমানে নিচের অংশে থাকা ইটের খোয়াগুলোও উপড়ে পড়ে শুধুই কাদাঁ মাটি দৃশ্যমান। রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে খানা-খন্দ আর বড় বড় গর্ত, এ অবস্থায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। এ থেকে পরিত্রাণে যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি পূনোরায় পাকাঁকরণের পদক্ষেপ গ্রহন করতে উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। এব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন’র সাথে আলাপকালে তিনি বলেন আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে রাস্তাটি যেনো খুব শিগরই মেরামত করার জন্য। তাছাড়া ব্যাক্তিগতভাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সঙ্গেও আলাপ করেছেন বলে জানান। অন্যদিকে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল আহমদ’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর আমার একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং এই প্রকল্পটি প্রত্রিুয়াধীন আছে। তিনি বৃহত্তর হেমুবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন খুব শিগরই রাস্তাটি মেরামত করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ