এমসি কলেজের ধর্ষণকারীদের আইনের হাতে তুলে দিতে বললেন ছাত্রলীগ সভাপতি জয়

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

এমসি কলেজের ধর্ষণকারীদের আইনের হাতে তুলে দিতে বললেন ছাত্রলীগ সভাপতি জয়

অনলাইন ডেস্ক :: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়। এ ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেছেন, আমরা ছাত্রলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিয়েছি ধর্ষকদের যেখানে পাওয়া যাবে যেখানেই তাদের ধরে আইনের হাতে তুলে দেবে। অপরাধী যেই হোক বিচার করতে হবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখনও এ ধরনের অন্যায়ের প্রশ্রয় দেয়না।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও বার্তা জয় বলেন, আপনারা দেখেছেন অনেক সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করেও অনেকে অনেক ধরনের অপকর্ম করেছে। এসব সুবিধাভোগীরা সংগঠন কিংবা দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
জয় বলেন, এমসি কলেজের ঘটনায় আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের কারো ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কোন পদ-পদবী নেই। সেখানে ৭ বছর ধরে সংগঠনটির কোন কমিটিও নেই।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের এমসি কলেজ কমিটি ঘোষণার পর আর কোনো কমিটি দিতে পারেনি সংগঠনটি।দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকলেও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ। পদপদবী ছাড়াও একেক জন ক্যাডারে পরিণত হয়ে চাঁদাবাজি, খুন, গুম করে সব সময় আলোচনায়।সর্বশেষ অপরাধের তালিকায় যুক্ত হয়েছে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ।

এদিকে ধর্ষকদের গ্রেফতার করতে র‍্যাব-পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া এবং র‍্যাব-৯ এর কমান্ডার লে. কর্নেল আবু মুসা মো. শরীফুল ইসলামকে এ নির্দেশ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এছাড়া ধর্ষণের সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের শাস্তি দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। একইসঙ্গে এসব ছাত্রলীগ নেতাদের প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিতেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামীকে নিয়ে এমসি কলেজে ঘুরতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার এক গৃহবধূ। এসময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে এম. সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনির নেতৃত্বে স্বামী-স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ছয় কর্মী। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। খবর পেয়ে রাত ১০টায় শাহপরাণ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে এবং নির্যাতিতাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এই গণধর্ষণের ঘটনায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ৯ জনকে আসামি করে শাহপরাণ থানায় ধর্ষিতার স্বামী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৬ ছাত্রলীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজহারনামীয় আসামিরা হলেন- এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত এবং বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।
এদিকে, এ ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। গণধর্ষণ ঘটনার মূল হোতা ছাত্রলীগ ক্যাডার এম. সাইফুর রহমানের রুম থেকে দেশিয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শাহপরাণ থানা পুলিশ এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অভিযান চালায়। এসময় সাইফুরের রুম থেকে ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪টি রামদা, ১টি ছোরা ও জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ