পরিকল্পিত রায়হান হত্যা, আকবরের সাথে মুরাদকে আইনের আওতায় আনার দাবি মিসবাহ সিরাজের

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

পরিকল্পিত রায়হান হত্যা, আকবরের সাথে মুরাদকে আইনের আওতায় আনার দাবি মিসবাহ সিরাজের

জুনেদ আহমদ :: সিলেটে আলোচিত রায়হান হত্যা কান্ডের জড়িতদের আইনে আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়ে শুক্রবার ‘সিল নিউজ বিডি’র এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, সিলেট নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্তিত বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি। এই ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন আকবর ও তার সহযোগীরা। এমন খবর পেয়ে আমরা সাথে সাথে প্রতিবাদে নেমেছি। ঘনার পরই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর জড়িতদের প্রত্যাহার ও বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়নাই। তবে গ্রেফতারের আগেই আকবর পলাতক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এমসি কলেজের পরপরই এই ঘটনা। এটা কোন সাধারণ ঘটনা নয় এটা একটি পরিকল্পিত ঘটনা। নায়ক আকবরের সাথে মুরাদকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং মুরাদকে জিজ্ঞাসাদ করতে হবে এর পিছনে কারা জড়িত। আকবর নাঠ্যজগতে কি ভাবে আসলো।

ভিডিও দেখুন-

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান উদ্দিন । পলাতক এস আই আকবর কে নিয়ে গুরুত্ব পূর্ণ কথা বললেন আওয়ামীলীগের সাবেক কেন্দ্রীয সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ।

Posted by Syl News BD on Friday, 16 October 2020

সব কিছু খতিয়ে দেখতে হবে। আকবরকে নায়ক সাজিয়ে সিলেট উত্তপ্ত করা হয়েছে। কারা এর পিছনে রয়েছে সেজন্য মুরাদকে জিজ্ঞাসাদ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করেছেন। কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সকল অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনে আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সিলেটের সাবেক শিবির নেতা বেলাল আহমদ মুরাদ এর সাথে বিএনপি নেতার ছেলে এসআই আকবরের গভীর সম্পর্ক ছিলো সর্ব মহলের জানা। সেই সুবাধে তারা দুজনের মিশন ছিলো খুন ও হত্যার মধ্য দিয়ে সরকারকে বিতর্কিত করা এবং আইন শৃংখলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা। এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণ ইস্যুতে গত (৫ অক্টোবর) রোববার সিলেট নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে শিবির। উক্ত মিছিলে কয়েকশ’ শিবিরের নেতা কর্মী অংশ নেন। কিন্তু সেই মিছিলে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন কোন ধরণের বাধা প্রধান করেননি। একটি সূত্রে জানায়, গত (৪ অক্টোবর) রাতে বেলাল আহমদ মুরাদ ও আকবরের একটি গোপন বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে শিবিরের মিছিলের অনুমতি নিয়েছিলেন মুরাদ। যার ফলে নিরব ভূমিকা পালন করে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। তাদের সামনেই হয়েছিলো শিবিরের বিক্ষোভ। শিবির ক্যাডার মুরাদের সাথে আকবরের সখ্যতা থাকার পরও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নজরে আসেনি। যার ফলে শিবিরের মিছিল ও রায়হান হত্যার মতো এত বড় কান্ড করেন আকবর। অভিযোগে প্রকাশ প্রায় গভীর রাতে সুরমা নদীর তীরে সার্কিট হাউজের সামনে বসে আকবর-মুরাদ নিরবে গোপন বৈঠক করতেন। যা সিসি সিসি ফুটেজে তাদের বৈঠকের প্রমান মিলবে। এসকল বৈঠকের পিছনে তাদের উদ্দেশ্য কি ছিলো?চাকরিতে যোগদান করেই সিলেটের ইউটিউব চ্যানেল ‘গ্রীন বাংলা’ সাবেক শিবির নেতা মুরাদের নেতৃত্বে আঞ্চলিক নাটকে যোগদান করেন আকবর। মুরাদ শিবির করতেন এটি জেনেই তিনি কেন এই নাট্য দলে যোগদেন তা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। মূলত নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি সিলেটের মানুষের কাছে একজন সৎ পুলিশ হিসেবে পরিচিতি পান। বাস্তবে তিনি অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেন পুলিশ ফাড়িকে। কিছু দিনের মধ্যে বন্দর এলাকায় আকবরের নেতৃত্বে গড়ে উঠে বেশ কয়েকটি পতিতা হোটেল। আকবরের সকল অপরাধ চোঁখে পড়ার মতো। আকবর-মুরাদ দুজনই এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। অল্প দিয়ে অটোল সম্পদ তৈরী করেন তারা। তাদের সম্পদ ও বিলাসিতা দেখে অবাক সিলেটের সচেতন মহল। মুরাদকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ অচিরেই বেরিয়ে আসবে আকবরের সকল অপকর্মে গোপন তথ্য ও তাদের মিশন কি ছিলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনম মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।সিলেটে জগত জোতি হত্যা মামলায় ২০১৩ সালে গ্রেফতার হয়েছিল বেলাল আহমদ মুরাদ। সাব রেজিস্ট্রির নকল নিবিশ হিসাবে কাজ করতেন। সেখান থেকে অনেক অনিয়ম ও দূর্ণীতির দায়ে মুরাকে চলে যায় মুরাদের। তবুও থেমে নেই সাব রেজিস্ট্রি অফিসে মুরাদের দালালী। এছাড়া শিবিরের মামলায় কয়েক বার কারাভোগ করেন মুরাদ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিবির ক্যাডার বেলাল আহমদ মুরাদের পরিবারের এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। তার পিতা ছিলো একজন মুদির দোকানদার। এখন সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ভূমি জালিয়াতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ শিবির ক্যাডার মুরাদ। ‘গ্রীন বাংলা’ ইউটিউব চ্যানেলের প্রকৃত মালিক জগন্নাথপুরের বাসিন্ধা বিল্পব কুমার এষ ও তার ভাই লিমন। তারা এই চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্টান প্রচার করতেন। পরবর্তীতে মুরাদ শিবিরের একটি মিশন নিয়ে সর্ব দলের লোকজন নিয়ে ‘গ্রীন বাংলা’ ইউটিউব চ্যানেলের সাথে হাত মিলান এবং নাটকের কাজ শুরু করেন। শিবির ক্যাডার মুরাদের মিশন বাস্তবায়ন করতে এসআই আকবরকে যোগদান করান। আকবরকে নিয়েই ধারাবাহিক নাটকের কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন ছবিতে আকবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিচ্ছেন মুরাদ ও তার দলের সদস্যরা। বর্তমান কান্ডে সিলেটসহ সারাদেশে মুরাদ-আকবরের গোপন মিশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকই আকবরের সাথে মুরাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। শিবির ক্যাডার মুরাদকে গ্রেফতার করলে বেরিয়ে আসবে রায়হান হত্যা সহ তাদের গোপন মিশনের অজানা অনেক তথ্য। রায়হানের মৃত্যুর ঘটনার প্রধান সন্দহভাজন অভিযুক্ত পলাতক এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গত সোমবার জিন্দাবাজার ওয়েস্টওয়ার্ল্ড মার্কেটে শিবির ক্যাডার মুরাদের গ্রীন বাংলার অফিসে রাত ৯ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দেখা যায়। এ নিয়ে সিলেটজুড়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যেখানে গ্রীন বাংলা চ্যানেলের অভিনেতা শিবির ক্যাডার মুরাদ দায় নিতে নারাজ সেখানে কিভাবে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত আসামীকে নিজের অফিসে ২ ঘন্টা রাখেন। সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রীন বাংলা চ্যানেলের সাথে সম্পৃক্তদের তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে সর্বমহল। তারা বলছে একজন সন্দেহভাজন আসামিকে কিভাবে তাদের অফিসে যায়গা দেয়। এদিকে বেলাল মুরাদ আহমদ গ্রীণ ভিডিও বার্তায় অপরাধীদের আইনগত শাস্তির দাবি জানান। প্রশ্ন উঠছে একদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুরাদের গ্রীন বাংলা অপরাধীদের শাস্তি কামনা করছে অন্যদিকে ঠিকই তারা এসআই আকবরকে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সভা সমাবেশের মাধ্যমে সিলেটের সচেতন মহলর শিবির ক্যাডার বেলাল আহমদ মুরাদকে দ্রুত গ্রেফতার করে আকবরের সাথে গোপন মিশনের রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।পুলিশের এসআই আকবরের হাতে নিহত রায়হান হত্যার নেপথ্যে গ্রীনবাংলার বেলাল আহমদ মুরাদের হাত রয়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের। অনেকের দাবি মুরাদকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিলে ঘটনার মোটিভ উদ্ধার ও ঘাতক আকবর ভুঁইয়াকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। আবার কেউ কেউ এটিকে আকবর হোসেন ভুইয়াকে বাঁচানোর কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন। সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় অজ্ঞাত স্থান থেকে গ্রীন বাংলার পেইজে লাইভে আসেন অভিনেতা বেলাল আহমদ মুরাদ। তিনি সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থন করে অভিযুক্ত ঘাতক আকবেরর সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতা না থাকার কথা জানিয়ে নিজেকে এই ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন। এদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক নামধারী একটি মহল মুরাদসহসহ আকবরকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা মুরাদকে জগতজ্যোতি হত্যা মামলার আসামী ছিলনা বলে অনেকের ম্যাসেঞ্জারে কাগজপত্রের ফটোকপি পাঠাতে শুরু করেন। অথচ, মুরাদ আসামী না হয়ে কিভাবে জগতজ্যোতি হত্যা মামলায় জেলে খেটেছিল সে ব্যাপারে মুখ খোলছেন না তাঁরা। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে রায়হান হত্যার রাত ৯ টার দিকে, মুরাদ ও আকবর ভুইয়া নগরীর বন্দরবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে নৈশভোজে মিলিত হন। অপরদিকে ডাক্তারদের চেম্বারে কর্তব্য পালন শেষে রাত ১০ টায় বাসায় ফেরার কথা থাকলেও রায়হান ফেরেনি। বন্ধ পাওয়া যায় তার মোবাইল ফোনও। ধারণা করা হচ্ছে, চেম্বার থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথেই রিকাবীবাজার এলাকা থেকেই রায়হানকে অপহরণ করা হয়। আর তখনই কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর মোবাইল ফোন এবং রায়হানকে আটক রাখা হয় অজ্ঞাত স্থানে। পরে ভোর রাত ৪ টার দিকে, বন্দরবাজার ফাঁড়ির এসআই তৌহিদের মোবাইল থেকে ফোন করে জানায়, ‘আমি পুলিশ ফাঁড়িতে আটক এবং ১০ হাজার টাকা দিয়ে আমাকে ছাড়াতে হবে।’ টাকা নিয়ে দেন-দরবারের এক পর্যায়ে সকাল ৯ টায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাওয়া যায় রায়হানের নিথর দেহ। রায়হানকে সুস্থ অবস্থায় ঢোকানো হয় এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় বের করে নেওয়ার সিসি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর পরই পুলিশ ফাঁড়িতে নির্মম নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যার অভিযোগ করে পরিবার। অভিযোগটি ভাইরাল হয়ে যায় স্যোস্যাল মিডিয়ায়। অভিযোগের পর বেলাল আহমদ মুরাদ রায়হানের বাড়িতে গিয়ে মুরালী হাসি দিয়ে একটি শান্তনা বক্তব্য দেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ড ও অভিযোগের বারোঘন্টার মাথায় মুরাদ আবারো মিললিত হন ঘাতক আকবর ভুইয়ার সাথে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত আনন্দ ভোজ অনুষ্ঠিত হয় গ্রীন বাংলা অফিসে। এই খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ওইদিন রাত দুইটায় থানা পুলিশের কম্পিউটারে পুলিশের কথামতো একটি এজহার টাইপ করে সাইন নেওয়া হয় রায়হানের স্ত্রীর। আসামী করা হয় অজ্ঞাতনামাদের। পুলিশ প্রথমে রায়হানকে কাস্টঘর থেকে আটকের কথা জানালেও মামলায় ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করে স্ক্যাচ ম্যাপ তৈরি করেন। মামলার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যায় আকবর। অভিযোগ পাওয়া গেছে আকবরকে গ্রেফতার না করার উদ্দেশ্যেই তড়িগড়ি করে মামলাটি পিবিআইএ প্রেরণ করা হয়েছে। বস্তুত, পিবিআই ও সিআইডি সুক্ষ তদন্ত সংস্থার নাম হলেও গ্রেফতার অভিযানে তারা খুবই দুর্বল এবং তাদের জনবল খুবই কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই, আকবরকে গ্রেফতারের দায় থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যেই মামলাটি পিবিআই এ হস্তান্তর করা হয় বলে অভিমত অনেকের।সর্বশেষ খবরে জানা গেছে ঘাতক এসআই আকবর দেশ ত্যাগ করে ভারতের মেঘালয়া পর্বতের চুড়ায় আশ্রয় নিয়েছে। তবে এ খবরের কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ