সিলেটের ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বামীর পাওয়ারে রাজত্ব করেন শাহীনা সুলতানা

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বামীর পাওয়ারে রাজত্ব করেন শাহীনা সুলতানা

জুনেদ আহমদ :: সিলেটের ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীনা সুলতানার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অতিষ্ঠ বিদ্যালয়ের কর্তব্যরত শিক্ষকরা। ১৯৮১ সালে গড়া উঠা বিদ্যালয়টি নগরীর মিরের ময়দানে অবস্থিত। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০০ এবং শিক্ষকদের সংখ্যা ৪৩ জন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক শাখায় ২০২০ সালে এমপিওভুক্ত করা হয়। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকগণ এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। কারণ শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির পথে কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন শাহীনা সুলতানা। তার একাধিকবার স্বাক্ষর জালিয়াতি ঘটনায় এমপিওভুক্ত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পদে নিয়োগে আছেন শিক্ষক শাহীনা সুলতানা। বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার শিক্ষিকা শাহীনা সুলতানা প্রথমে অতিরিক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক ও পরে প্রধান শিক্ষকের জন্য এমপিওভুক্তির জন্য প্রি-রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু অতিরিক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ বর্তমান শিক্ষা নীতিমালায় কোথাও নেই। তাহলে তিনি কিভাবে নিয়োগ ও বেতন পান? এসব বিষয় যখন চারিদেক ছড়িয়ে পড়ছিলো তখন শাহীনা সুলতানা ও কিছু ব্যক্তির মদদে-সাহায্যে ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতি করেন। সেখানে দেখা যায় ১ম হয়েছেন শাহীনা সুলতানা ২য় হয়েছেন বেগম শামীমা আহমদ ৩য় হয়েছেন মোছা: দিলওয়ারা বেগম। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে বেগম শামীমা আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এরকম কোন পরীক্ষাই হয়নি বা দেয়নি আমি। তখন প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করেছিলেন তাহলে আপনার নাম কিভাবে নিয়োগ পরীক্ষার লিস্টে আসলো? বেগম শামীমা আহমদ বলেন, এইসব যে তৈরি করেছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবি ও প্রমাণ দেখানোর জন্য মিথ্যে বানোয়াট নিয়োগ পরীক্ষার লিস্ট প্রকাশ করেছে। কারণ বিদ্যালয়ে এরকম কোন পরীক্ষায় হয়নি। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ের ব্যপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি ডা: মইনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বিষয়ে কিছু জানি ন। আমার স্বাক্ষর জাল করে কে বা কারা এই নিয়োগ পরীক্ষার লিস্ট করেছে তা আমি কিছুই জানি না। তবে এরকম কোন কিছু ঘটে থাকলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।বিদ্যালয়ের শিক্ষক সূত্রে জানা যায়, শাহীনা সুলতানার বিষয়কে কেন্দ্র করে তার স্বামী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন যাতে তার স্ত্রীর ব্যাপারে কেউ জেনো মুখ জনা খুলে। শুধু শাহীনা সুলতানা নয় আরও একজন ভুয়া শিক্ষক ( মোঃ. শামসুজ্জামান) ও একজন নিরাপত্তা কর্মীকে নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অশুভ কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে বিদ্যালয়টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সু প্রতিষ্ঠিত স্কুলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।এ বিষয়ে শাহীনা সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি।

ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শাহীনা সুলতানার অনিয়ম-দুর্নীতি

১/ সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে (নিয়োগ, সার্কুলার, নিয়োগ পরীক্ষার ইত্যাদি গ্রহণ) না করে শাহীনা সুলতানাকে বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা হতে শিক্ষক নিবন্ধন-বিহীন অবস্থায় মাধ্যমিক শাখায় অতিরিক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। বর্তমানে অতিরিক্ত সহাক্রি শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে বেতন উত্তোলন করা অবৈধ। যা শিক্ষা নীতিমালার কোথায় বিদ্যমান নেই।

২/ শাহীনা সুলরতানা একাডেমি ক্যারিয়ারে দুই বা ততোধিক ৩য় শ্রেণি থাকায় শিক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদে আবেদনের যোগ্য নন।

৩/ এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষকদের প্যাটার্ণে ২য় শ্রেণী দেখিয়ে সভাপতির স্বাক্ষর নেন। পরে কলম দ্বারা ওভার রাইটিং করে ৩য় শ্রেণি দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকের জন্য প্রি-রেজিস্ট্রেশ করেন এবং পরে সম্পূর্ণ জাল ও ভূয়া তথ্য তৈরী করে বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর নকল করে কারচুপই করেন। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জণ্য কোন সার্কুলার বা নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি ।

৪/ মেরিট লিস্টে শাহীনা সুলতানার নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ২য় ও ৩য় স্থান দেখিয়ে যাদের নাম উল্লেখ করেন মেরিট লিস্ট (নম্বর পত্র) বা সিএস শিট তৈরী করেছেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিষয়টি জানেন না।কারণ কোন পরীক্ষাও হয়নি।

৫/ শিক্ষকদের সভায় শাহীনা সুলতানার স্বামী কক্ষে প্রবেশ করেন। শিক্ষকদের কাছে এমপিও সংক্রান্ত কাগজে দেখতে চান। শিক্ষকরা অনীহা প্রকাশ করলে। শাহীনা সুলতানার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত শিক্ষকদের উপর অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।এক পর্যায়ে গায়ে হাত তুলতে এগিয়ে আসলে উপস্থিত সবাই তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। শুধু তায় নয় বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের মুঠোফোনে হুমকি ধামকি দিয়ে বলেন আমার স্ত্রী এমপিও না হলে কারো এমপিও হবে না।

৬/ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকগণ যারা এমপিও প্রাপ্তির উপযুক্ত তারা প্রথম ২ দফায় আবেদন করতে পারেননি। কারণ শাহীনা সুলতানা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে গোপন করে রেখেছিলেন এবং কাউকে আবেদন করতে দেননি। পরে শিক্ষকগণ কাগজপত্র সাবমিট করলে জেলা শিক্ষা অফিস তা ফেরত পাঠায়। সর্বোপরি শাহীনা সুলতানার স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় এমপিওভুক্ত থেকে বঞ্চিত বৈধ শিক্ষকরা।

৭/প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে না থাকলেও শাহীনা সুলতানা প্রধান শিক্ষকের পদবী ব্যবহার করেন।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শাহীনা সুলতানা ও তার স্বামীর কারনে দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় আজ ধবংসের দ্বারপ্রান্তে। শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ