ওসমানীনগরে ‘মিথ্যা’ গুমের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ প্রবাসীর

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

ওসমানীনগরে ‘মিথ্যা’ গুমের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ প্রবাসীর

অনলাইন ডেস্ক
পাওনা টাকা ও ভূ-সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য আলাদতে মামলা করে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক প্রবাসী। টাকা ও সম্পত্তি আত্মসাতের অপকৌশল হিসেবে প্রতিপক্ষের লোকজন ‘মিথ্যা’ গুমের মামলা দিয়ে প্রবাসী তিন ভাইকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দর (মাইজগাঁও) গ্রামের মৃত ছিফত উল্যার ছেলে জমশেদ আলী ওরফে লেফাস মিয়া। গতকাল মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লেফাস মিয়া বলেন, ওসমানীনগর উপজেলাধীন আব্দুল্লাপুর (পুর্ব কালনিচর) গ্রামের ছিদ্দেক আলীর ছেলে রানু মিয়া ও জানু মিয়া আমার আপন চাচাতো ভাই। ওসমানীনগর উপজেলার সম্মানপুর মৌজার জেএলনং-৩০, ভিন্ন-ভিন্ন খতিয়ানে আমি ও আমার চাচাতো ভাইদের যৌথ মালিকানাধীন ১০.৫০ কেয়ার ভূমি রয়েছে। ৭ বছর আগে চাচাতো ভাই ও আমার যৌথ সম্পত্তির অংশ আপোষে ভাগ-বাটোয়ারা করে একটি ফিশারী করার উদ্যোগ নেই। ওই সময় ফিশারী করার জন্য তাদের ভূমির অংশ আমার কাছে বার্ষিক ২৫ হাজার টাকা হারে মৌখিক ইজারা দিয়ে দেন। আর আমার তৈরী করা ফিশারীতে তারা (রানু-জানু) মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে কর্মচারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা হয়। আমি ফিশারী এলাকা থেকে দূরে বসবাস করায় সরল মনে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই। ২০১৩ সালে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফিশারীর জন্য পুকুর খনন করে ২০১৪ সালে ফিশারীতে মাছের পোনাসহ আরও প্রায় ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করি। পরবর্তী সময়ে আমি অসুস্থ হয়ে যাই। এই সুযোগে রানু ও জানু স্থানীয় স্বার্থন্বেষী প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে গত ৩ বছর ফিশারিতে বিনিযোগ করা ব্যবসার কোনো হিসাব না দিয়ে তারা প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেন। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মুরব্বীয়ানদের বিষয়টি অবহিত করলে রানু ও জানু হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৯ সালে নতুন করে ফিশারীতে আরো ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করি। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৪-১৫ লক্ষ টাকা হবে।
তিনি বলেন, রানু ও জানু আমাকে টাকার হিসাব ও টাকা পরিশোধ করতে বিলম্ব করলে বিষয়টি মুরব্বিদের জানালে রানু-জানুরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তাদের সহযোগি মফিজুর ও ইবরুর নেতৃত্বে চলতি বছরের ১৪মে আমার মালিকানাধীন ৯০ শতক ভূমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যান। এতে আমার ৪৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। এর আগে তারা আমার বাড়িতে থাকা মূল্যবান গাছও কেটে নেন।
এসব ঘটনায় রানু, জানুসহ ৪জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ করার পর তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়েও পুলিশ এফআইআর না করে নন এফআইআর প্রসিকিউসন করেছে বলে অভিযোগ করেন লেফাস মিয়া। এ সময় রানু, জানু ও তাদের সহযোগীরা ফিশারীর দায়িত্বে থাকা কর্মচারিদের রশি দিয়ে বেঁধে মারপিট ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ১৪-১৫ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুরব্বীয়ানদের পরামর্শে চলতি বছরের ১৪ জুলাই আমি বাদি হয়ে রানু ও জানুসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ওসমানীনগর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু থানার তদন্ত কর্মকর্তা মকসুদুল আমীন প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে মামলার মূল আসামীদের বাদ দিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষটি জানতে পেরে আমি সিলেটের পুলিশ সুপারের স্মরনাপন্ন হই। পুলিশ সুপারের কথা মত আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট দেখা করি। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন না দিয়ে কৌশল অবলম্বন করে আসামী পক্ষকে আমার বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মামলা তুলে না নিলে আমি ও আমার পরিবারের সদস্য এবং মামলার স্বাক্ষি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় রানু ও জানু। এ ঘটনায় রানু ও জানুসহ ১১জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। আমার দায়ের করা মামলাগুলো ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে এবং আমার পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রানু ও জানু আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। রানু ও জানুর আরেক ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন হামদু মিয়া ২০১২ সালের ১২ আগস্ট তারিখ থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজের বিষয়টিকে এখন গুমের নাটক সাজিয়ে রানু বাদি হয়ে আমিও আমার দুই প্রবাসী ভাইসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআইর কাছে তদন্তাধীন আছে।