পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের সাথে সিলেট চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২০

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের সাথে সিলেট চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি :: পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনের সাথে সিলেট চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকাল ৪টায় দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগেচেম্বার কনফারেন্স হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব।

সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর জনগণ ও পরিবেশের স্বার্থে কাজ করে। আমরা কখনই ব্যবসায়ীদের প্রতিপক্ষ নই। তিনি বলেন, সরকারের অনুসৃত নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। সম্প্রতি যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে তা মোটেও উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয় বরং সরকারের নীতিমালার পরিপালনের জন্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সকল ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স পাবেন না এবং আরো বিভিন্ন রকম অসুবিধার সম্মুখীন হবেন। তাই তিনি সকলকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের আহবান জানান। তিনি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠান মালিকদের পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের আশ্বাস দেন এবং কোন কর্মকর্তা কর্তৃক ব্যবসায়ীরা হয়রানির স্বীকার হলে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে অবহিত করেন। এছাড়াও তিনি পরিবেশ আইনের কপি সিলেট চেম্বারে সরবরাহ করবেন বলে জানান।

সভায় বক্তাগণ বলেন, কোন ধরণের নোটিশ ছাড়া পেট্রোল পাম্প, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ইটভাটা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অথচ বিগত প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ বছর যাবৎ এসব প্রতিষ্ঠান চলছে। তারা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান মালিক এখনো জানেন না যে তার প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রয়োজন। এমনকি ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ অনেক বিভাগীয় শহরে এখনো পর্যন্ত এরকম জরিমানা আরোপের ঘটনা ঘটেনি। সেখানে সিলেটের মত ছোট একটি শহরে ব্যবসায়ীদেরকে এভাবে হয়রানি করা মোটেও সমীচীন নয়। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশের কোন ক্ষতি করে না সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশে বিরাট অন্তরায়। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আরোপকৃত জরিমানা প্রত্যাহার করে ব্যবসায়ীদেরকে সহজ শর্তে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের সময় প্রদানের দাবী জানান। সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স এজেন্ট্স এন্ড পেট্রোল পাম্প ওউনার্স এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওউনার্স এসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগের নেতৃবৃন্দ বলেন, পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকগণ পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে কর্মসূচীতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন কিন্তু চেম্বার নেতৃবৃন্দ অদ্যকার সভা আয়োজন করে বিষয়টি সুন্দরভাবে সুরাহার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এজন্য তারা চেম্বার নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও তারা পেট্রোল পাম্প, সিএনজি ফিলিং স্টেশন সহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ীকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, বর্তমানে করোনাকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সারা পৃথিবীর ব্যবসা-বাণিজ্য যেখানে মুখ থুবড়ে পড়েছে, অনেক দেশে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইনসেনটিভ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদেরকে জরিমানা করা অত্যন্ত অমানবিক। তিনি বলেন, করোনা মহামারীর কারণে প্রায় পাঁচ মাস দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে চালু হয়েছে। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। তাছাড়া ব্যবসায়ীদেরকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অদিধপ্তর, ভ্যাট, আয়কর পরিবেশ অধিদপ্তর সহ প্রায় ১৩ ধরণের লাইসেন্স ও ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। তার উপর ব্যবসায়ীদের এরকম হয়রানি করা মোটেও কাম্য নয়। তিনি বিষয়গুলি সুন্দরভাবে সুরাহা করা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদেরকে সময় প্রদানের জন্য বিভাগীয় পরিচালককে অনুরোধ জানান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি তাহমিন আহমদ, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগ শাখার সভাপতি মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ সিএনজি স্টেশন ওউনার্স এসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগ শাখার সভাপতি আমিরুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট জেলা ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সভাপতি মো. দিলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ব্রিকস মালিক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল আহাদ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেটের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান সরকার, কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম, মো. সানোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলাম, সিলেট চেম্বারের পরিচালক হুমায়ুন আহমদ, মো. নজরুল ইসলাম, খন্দকার ইসরার আহমদ রকী, ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মিন্টু, হোটেল এন্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স গ্রুপের সভাপতি সুমাত নুরী চৌধুরী জুয়েল, সালাউদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট অরূপ শ্যাম বাপ্পী প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ