আকবর রিমান্ডে : সহযোগীরা এখনো অধরা !

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০

আকবর রিমান্ডে : সহযোগীরা এখনো অধরা !

জুনেদ আহমদ :: সিলেটের আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার আসামি এসআই আকবর হোসেন ভূইাকে গ্রেফতারের পর আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন পিবিআইয়ের মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে আদালত আকবরকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আকবরকে পালাতে সহযোগীতাকারী ও আশ্রয় দাতারা এখনো ধরাঁেছায়ার বাহিরে। সচেতন মহলের প্রশ্ন? এই খুনিকে পালাতে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা বাইরে কেন? গ্রেপ্তারে ৫ দিনে এখনো কাউকে নতুন ভাবে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আকবরকে সহায়তাকারীদের তালিকা দিন দিন লম্বা হচ্ছে। অথচ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

গত ৯ নভেম্বর গ্রেফতারের সময় আসামী এসআই আকবর বলেছিলেন ‘আমাকে সিনিয়র অফিসার বলছিল, তুমি আপাতত পালাইয়া যাও। পরে আইসো। দুই মাস পরে মোটামুটি সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। কিন্তু এই অফিসার কে? কেন এখনো তদন্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ না করে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। আকবরকে সাহয্যকারীর নামের তালিকায় আরেকজন গ্রিন বাংলার অভিনেতা বেলাল আহমদ মুরাদের নাম বারবার সন্দেহের তালিকায় উটেছে। গ্রিন বাংলার অভিনেতা মুরাদের বিষয়ে বক্তব্যকালে রায়হানের মা বলেন, ঘটনার দিন রোববার ভোর রাত এত বড় ঘটনার পর সোমবার রাতে কিভাবে মুরাদ আকবরের সাথে যোগাযোগ করে। মুরাদ আমার বাসায় আসে এবং আমার নাতিনকে নিয়ে ৩ ঘণ্টা বসে নাটকের মতো অভিনয় করেছিলো আমাদের সাথে। মুরাদ আমাদের সাথে এই নাটক করার কি প্রয়োজন ছিলো? এই যে আকবর-মুরাদ গ্রিন বাংলায় নাটক করতো, সেই নাটক করতে করতে তারা দুজন আমার ছেলের জীবন নিয়ে নাটক করেছে। আমি চাই মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক তাহলে চক্রান্তের সব বিষয় জানা যাবে।

এদিকে সিলেটে রায়হান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের এসআই আকবর ভুইয়াকে ভারত পালাতে সাহায্যকারী হিসেবে নাম এসেছে এক মহিলার। তিনি সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য তামান্না আক্তার হেনা। হেলান বাড়ি জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মাজরগাঁওয়ে। অভিযোগ রয়েছে, হেনার বাড়িতে রেখে নোমান হেনার স্বামী হেলাল ও গ্রমের বরমসিদ্ধিপুর পাড়ার মাদক ব্যবসায়ী আরেক হেলাল মিলে আকবরকে গত ১৪ অক্টোবর ভারতের মেঘালয়া রাজ্যে পাঠায়। এর পর থেকে প্রধান কারিগর নোমান আত্মগোপনে ও মাদক ব্যবসায়ী হেলাল একটি মামলায় কারাগারে থাকলেও হেনা ও তার স্বামী হেলাল দেশেই রয়েছেন। সম্প্রতি জেলা পরিষদ মেম্বার ওই তামান্না আক্তার হেনা,তার স্বামী হেলাল ও তাদের ভাগ্না শাহীন এই তিন জনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তাদেরকে রায়হান হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় নি। তবে হেনা ও তার স্বামী হেলাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারীতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।সর্বশেষ খবরে জানা গেছে হেনা গ্রামের বাড়ি ও সিলেট নগরীর বাসা ছেড়ে গোলাপগঞ্জে জেলা পরিষদের আরেক মহিলা মেম্বারের বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছেন। শুধু তারা নয় বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির হার্ডডিক্স পরিবর্তন করার অপরাধে হাসান উদ্দিন নামে এক এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এছাড়া আকবরকে পালিয়ে যেথে সহায়তাকারী আরেক স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানও ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে- আকবর ভারতে পালালেও নোমান এখনও দেশেই আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৪ অক্টোবর সকালে আকবর ভারতে প্রবেশ করার পর নোমান ফের সিলেটেই ফিরে আসতে পারে এবং সে দেশের ভেতরে কোথাও আত্মগোপনে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে নোমান নারায়নগঞ্জ অথবা গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় একটি দুর্গম বাগান এলাকায় অবস্থান করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন নোমানের পরিচিতজনরা।একটি সূত্র থেকে জানা যায়, নোমানের শ্বশুর বাড়ি নারায়নগঞ্জ। সে হিসেবে নারায়নগঞ্জের কোথাও অবস্থান করতে পারে। আবার নোমানের নানার বাড়ি গাজীপুর এলাকায়, সেই হিসেবে কালিয়াকৈর এর দুর্গম কোন এলাকায় অবস্থান করতে পারে নোমান। অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায়, সর্বশেষ নারায়নগঞ্জ এলাকা থেকেই কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত ব্যক্তি তাজুল ইসলাম ওরফে পরিবেশ মোল্লার পাঠানো টাকা উত্তোলন করে নোমান। এমনকি বর্তমানে অনলাইনের ‘আজারবাইজার’ নামের একটি সফটওয়ার থেকে কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারির চাঁদাবাজ তাজুল ইসলাম ওরফে পরিবেশ মোল্লার সাথে প্রায়ই যোগাযোগ করে নোমান। এই বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে তদন্তকাজ এগুলে হয়তো সাফল্য আসতে পারে বলে ধারণা ওই সূত্রের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ