ডিএনএ রিপোর্টে আটকে আছে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষন মামলার চার্জশীট

প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

ডিএনএ রিপোর্টে আটকে আছে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষন মামলার চার্জশীট

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দুইমাসেও প্রদান করতে পারেনি পুলিশ। তবে আনুষাঙ্গিক তদন্তকাজ প্রায় চুড়ান্ত। কেবল বাকী অভিযুক্ত আসামীদের ডিএনএ রিপোর্ট প্রাপ্তি। সেই রিপোর্ট হাতে পেলেই চার্জশীট প্রদান সম্পন্ন করবেন তদন্তকারী মামলার কর্মকর্তা, এমন তথ্য সংশ্লিষ্টদের। এদিকে, গণধর্ষন ঘটনার পর হাইকোর্ট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তিনটি তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তিনটি কমিটিই। তবে এখন পর্যনমশ প্রকাশ করা হয়নি কোনো প্রতিবেদনই। এছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ শারীরিক ক্ষত সেরে উঠলেও মানসিক আঘাত এখনও বিপযর্স্ত তিনি। পরিবারের সদস্যদের মতে, ঘটনা ভয়াবহতা হয়তো সারাজীবনই বয়ে বেড়াতে হবে তাকে, পারিপাশির্^ক পরিস্থিতিও খাবলে খাবে তার মন মেজাজ। ধর্ষণের পর পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলো নির্যাতিতা গৃহবধূকে। তিনদিন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যান তিনি। নির্যাতিতার স্বামী ও এই মামলার বাদী বলেন, আমার স্ত্রী এখনও তার বাবার বাড়িতে এখন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের টিলাগড় বালুচরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী গৃহবধূ (২৫)। এ ঘটনার পর ধর্ষণবিরোধী তীব্র আন্দোলন শুরু হয় দেশজুড়ে। মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ষণবিরোধী আইনও সংশোধন পাশ হয় দেশে। তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য বলেন, তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখনওর্ আসেনি ডিএনএ রিপোট। ডিএনএ রিপোর্ট পেলেই প্রদান করা হবে চার্জশীট। তবে, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন আইন অনুযায়ী এমন মামলায় আসামি হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ দিন যদি হাতেনাতে ধরা না পড়লে ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশীট প্রদানের বিধান। তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট আসতে এতোটা বিলম্ব মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য সংস্থাগুলোকেও এসব ক্ষেত্রে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন ছিলো। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট আদালতে এসে গেছে বলে অবগত হয়েছি আমরা। এতে করে শীঘ্রই রিপোর্টটি হাতে এসে পৌছে যাবে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চার্জশীট প্রদান করা হবে। তবে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কোনো তারিখ বলেনি তিনি।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ