কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক বরাবরে অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক বরাবরে অভিযোগ

 

কানাইঘাট প্রতিনিধিঃ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের দায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সদ্য বিদায়ী টিএইচও ডাঃ শরফ উদ্দিন নাহিদ ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শামীম আহমদের বিরুদ্ধে এবার সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যবসায়ী এ অভিযোগ দায়ের করেন। জানা যায়, আব্দুল মান্নান কানাইঘাট বাজারের নাঈম এন্ড ফাহিম রেস্টুরেন্টের সত্ত্বাধিকারী, গত মার্চ মাসে বৈশি^ক মহামারী কোভিড-১৯ এর কারনে তার রেস্টুরেন্টটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। কিন্তু তার রেস্টুরেন্টটি বন্ধ থাকা অবস্থায় কাম-কম্পিউটার অপারেটর শামীম আহমদ স্বাক্ষরিত ২টি পৃথক পৃথক ভাউচার তৈরি করে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫ শ’ টাকা বিল উত্তোলন করা হয়। এমন সংবাদ শুনে আব্দুল মন্নান কানাইঘাট ট্রেজারী অফিস থেকে পৃথক দু’টি ভাউচার উত্তোলন করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান তার রেস্টুরেন্টের ভাউচার দিয়ে যে বিল উত্তোলন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভূয়া। এমনকি ঐ ভূয়া বিল ভাউচারে যে সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে তা জালিয়াতী করা হয়েছে। এতে আব্দুল মন্নানের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। এমন অভিযোগ এনে তিনি মূলত ডাঃ শরফ উদ্দিন নাহিদ ও শামীম আহমদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এ ভাউচার দু’টি ব্যাতীত আরো অনেক ভূয়া ভাউচার তৈরি করে তারা কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। একই ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাদির ভেরাইটিজ ষ্টোরের নামে ভূয়া ভাউচার স্টেশনারী মালামাল ক্রয় বাবদ দেখিয়ে আরো প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার ৮৬৪ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। এছাড়া বিভিন্ন ভূয়া শ্রমিক পরিচয়ে পৃথক পৃথক বিল-ভাউচার তৈরি করে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ভাউচারে যাদেরকে শ্রমিক হিসেবে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে সেইসব ঠিকানায় কোন শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় ডাঃ শরফ উদ্দিন নাহিদ ও শামীম আহমদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দফতরে বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও অদ্যবধি পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনা প্রকাশের পর কেবল মাত্র ডাঃ শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদ অন্যত্র বদলী হয়েছে, কিন্তু শামীম আহমদ এখনো স্বপদে বহাল থেকে আধিপত্য বিস্তার করছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। তারা অবিলম্বে বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ