সিলেটে কিশোর হত্যায় তিনজনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

সিলেটে কিশোর হত্যায় তিনজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে ছিনতাই করা মালামাল ভাগভাগি নিয়ে ফরহাদ হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে হত্যার দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার দায় থেকে এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।বুধবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরিফ উদ্দিন এ রায় দেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের ওসমানীনগর থানার রনাগলপুর গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে ফয়ছল আহমদ (২০), সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার দুর্গাপুর গ্রামের শৈলেন্দ্র দাসের ছেলে অমল কুমার দাস (২৮) ও ঢাকার কদমতলা থানার শ্যামপুর পালপাড়া গ্রামের হরিপদ দাসের ছেলে সুমন চন্দ্র দাস (২৮)। সাজাপ্রাপ্ত তিনজনই পলাতক রয়েছেন।খালাসপ্রাপ্ত আসামি হলেন- সিলেট নগরের বিমানবন্দর থানার খাসদবির এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে ফরহাদ আহমদ (১৮)। রায়ের সময় তিনি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র ২০১২ সালের ৬ আগস্ট রাতে সিলেট নগরের মাছুদিঘীরপারে প্রবাহ-৬০ নম্বর বাসার কলোনীর একটি কক্ষে জামালপুরের সরিষাবাড়ি থানার বাইশি দক্ষিণপাড়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেনকে (১৬) নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ একটি কাঁথা দিয়ে ডেকে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ছিনতাই করা মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কোতয়ালি থানা পুলিশের লামাবাজার ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বাদল বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোতয়ালি থানার তৎকালীন এসআই রকিবুল হক ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি চারজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।আদালত ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি ও ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার তিনজনকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন আদালতের বিচারক।রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. মফুর আলী। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট লাভলী আক্তার, অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খাঁন।সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. মফুর আলী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উচ্চ আদালতেও এই রায় আমরা বহাল চাই।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ