মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া পাপলু সম্পদ ও মামলায় এগিয়ে

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া পাপলু সম্পদ ও মামলায় এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
দরজায় কড়া নাড়ছে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে পৌর নির্বাচনের ভোটযুদ্ধ। এবার গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহেল আহমদ ও ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল ও সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু। কিন্তু নানা কারণে পিছিয়ে থাকলেও মামলা আর সম্পদের দিক থেকে সবার থেকে এগিয়ে আছেন শিক্ষায় মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া পালু।

নানা কারণে সমালোচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক পাপলু ২০০১ সাল থেকে পর পর ২ বার পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচিত হলেও গত দুইবার পরাজিত হন।

এবারও নৌকা প্রতীক চেয়ে না পাওয়ায় বিদ্রোহী হয়েই আছেন নির্বাচনী মাঠে। নির্বাচন অফিসে তাঁর দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের দুটি মামলায় অভিযুক্ত পাপলুর অস্থাবর সম্পত্তি বলতে নিজের নামে নগদ আছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৮৯২ টাকা। রয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মাইক্রোবাস।

স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার দেড় লাখ টাকার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী এক লাখ ১০ হাজার ও আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়েছেন। স্থাবর সম্পদে যৌথ মালিকানা থেকে ১১৬ শতক কৃষি ও ৯ দশমিক ৭৬ শতক অকৃষি জমি পেয়েছেন দানপত্রে, ৮ দশমিক ৫৭ শতক ক্রয়সূত্রে এবং উত্তরাধিকার সূত্রে আরও ৩ শতকের মালিক তিনি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৪ টাকা। আর সিসি ও হোম লোন এবং দুই ব্যাংকে ব্যক্তিগত দেনা ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ১২৩ টাকা দেখিয়েছেন হলফনামায়।

বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে ১৪টি ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে পৌরসভার টাকা আত্মসাৎ করাসহ অপর একটি কারণে পাপলুর বিরুদ্ধে দুদকের দুইটি মামলা এখনো বিচারাধীন থাকলেও অতীতে ৪টি চাঁদাবাজি মামলা সহ আরও ১০টি মামলা ছিলো। এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে দুদকের একটি মামলায় জেলও খেটেছেন পাপলু।

তার ব্যবসা- ক্যাবল নেটওয়ার্ক, রড-সিমেন্ট, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, বিটুমিন, পাথর সরবরাহকারী ও ঠিকাদারী, এবং কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে তার।

পাপলুর বাৎসরিক আয় দোকান ভাড়া বাবদ এক লাখ ৫৯ হাজার ৭০৫ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৭৫ টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় এক লাখ ৫১ হাজার ৬৩৩ টাকা।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. রুহেল আহমদ শিক্ষায় এগিয়ে রয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাস। হলফনামা সূত্রে আরও জানা যায়, অতীতে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারী মামলা ছিলো যা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

আর রুহেল আহমদ তার পেশা ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। এমনকি বাৎসরিক আয় ৩লক্ষ টাকা বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তার অস্থাবর সম্পত্তি বলতে নগদ ২৮ হাজার টাকা।

স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার ৩ লক্ষ ২০হাজার টাকার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী এক লক্ষ ৫০হাজার ও আসবাবপত্র ২লক্ষ টাকা মূল্য দেখিয়েছেন। স্থাবর সম্পদে যৌথ মালিকানা থেকে ৪ শতক কৃষি ও ৪ শতক অকৃষি জমি পেয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন দাখিলকৃত হলফনামায় নিজেকে স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে যা এখনও বিচারাধীন। প্রাইভেট বিনোদন সেন্টার, ভূমি উন্নয়ন ও বিক্রয় সংক্রান্ত এবং কমিশন এজেন্ট ব্যবসা রয়েছে তার।

গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিনের বাৎসরিক আয় ভাড়া বাবত ১লক্ষ ৪১ হাজার ৯শত ৬০ টাকা। ব্যবসা বাবত ৪লক্ষ ২হাজার ২শত ৪টাকা। চাকুরী বাবত ২লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ১৪লক্ষ ৫১ হাজার ৮শ ৬১ টাকা রয়েছে।

স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার ৭৫ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী এক লক্ষ ২০হাজার ও আসবাবপত্র ১লক্ষ টাকা মূল্য দেখিয়েছেন।

স্থাবর সম্পদে নিজ নামে ৫০০ শতক, যৌথ মালিকানা থেকে দুই আনা ৬৫০ শতক কৃষি ও ১২৫ শতক অকৃষি জমি পেয়েছেন।

বর্তমান মেয়র মো. আমিনুল ইসলাম রাবেল তার হলফনামায় নিজেকে এসএসসি পাশ উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তিনি পেশা বেসরকারি চাকুরী উল্লেখ করেছেন।

তার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ৭লক্ষ ৮৪ হাজার ৪শ ১০টাকা উল্লেখ করেছেন। স্থাবর সম্পদে যৌথ মালিকানা থেকে ৩৪ শতক কৃষি ও ৩ শতক অকৃষি, বাড়ি থেকে সাড়ে ৩ শতক জমি পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে ৪৭ প্রার্থী পুরুষ কাউন্সিলর ও ৩টি ওয়ার্ডে ১০ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ৪ মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ২২ হাজার ৯শ ১৬ জন ভোটার রয়েছেন। পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৬শ ৯৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১১হাজার ৩শ ১৯ জন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ