দোয়ারাবাজারে সবজি চাষ করে ভাগ্যবদল সিরাজুল-ফাহিমা দম্পতির

প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

দোয়ারাবাজারে সবজি চাষ করে ভাগ্যবদল সিরাজুল-ফাহিমা দম্পতির

 

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধিঃ
দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলা ইউনিয়নের পুরাতন কান্দাগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল হকের সন্তান সিরাজুল ইসলাম। পারিপার্শ্বিক একাধিক সমস্যা ও আর্থিক টানাপোড়নের কারনে পড়াশোনায় প্রাইমারির গন্ডি পেরুতে পারেননি তিনি। এলাকায় ভ্যান গাড়ি চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন সিরাজুল। দৈনিক যে পরিমাণ টাকা উপার্জন করতেন তা দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পরতো। পেশা বদলে এখন বেছে নিয়েছেন সবজি চাষ। তিনি ও তার স্ত্রী ফাহিমা দুজনে মিলে সবজি চাষ করে এখন লাভবান তারা। উপজেলার বোগলা ইউনিয়নের কান্দাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই সিরাজুল-ফাহিমা দম্পতির সবুজ সবজি বাগান নজর কাড়ছে পথচারীদের। এখানে ৪৫ শতাংশ বন্ধকী জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী ও হাইব্রিড জাতের শীম চাষ করেছেন তারা। বাগানে দুলছে সতেজ শীম ও শীমের ফুল। সিরাজুল ইসলাম জানান, শাশুড়ির পরামর্শে পেশা বদলে সবজি চাষে মনোনিবেশ করেন তিনি। এর ওপর নির্ভর করে তার তিনসন্তানের পড়াশোনার খরচসহ সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ চলছে। চলতি মৌসুমে সবজি চাষে সবমিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে এখানে উৎপাদিত সবজি পাইকারি ভাবে বিক্রি করে পুঁজি ছাড়াও আরো ৫০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছেন। চলতি বাজার মূল্য ঠিক থাকলে শুধু শিম বিক্রি করে আরো লাখ দেড়েক টাকা লাভবান হবেন বলে আশাবাদী তিনি। এর আগে ঝিঙ্গা, শসা, কড়লা, চিচিঙ্গাসহ কয়েক জাতের সবজি উৎপাদন করেছেন। এখন বিভিন্ন প্রজাতির শীম চাষ করছেন। তার স্ত্রী ফাহিমা জানান, বেকার বসে না থেকে স্বামীর সাথে সবজি চাষে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতে সবজি চাষাবাদ সম্প্রসারণের ইচ্ছা রয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, এখানকার আবহাওয়া ও মাটি সবজি চাষের উপযোগী। সিরাজুল-ফাহিমা দম্পতির সবজি চাষ প্রান্তিক এলাকার কৃষকদের জন্য প্রেরণা যোগাবে। তাদের কৃষি খামারের সম্প্রসারণে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ