আমি কি ভুলিতে পারি

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

আমি কি ভুলিতে পারি

অনলাইন ডেস্ক

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ৬৯ বছর আগে মাতৃভাষা বাংলাকে বাঁচাতে ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল বাঙালি মায়ের সূর্য সন্তানরা। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারে জীবন উৎসর্গ করেছিল এ দেশের দামাল ছেলেরা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাসের পথ ধরে আজ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ‘অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে সেদিন বর্ণমালা/ সেই থেকে শুরু/ সেই থেকে শুরু দিনবদলের পালা।’ বাংলাদেশের মানুষ প্রথম ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে। ১৯৫২ সালের ঐক্যের ভিত্তিমূল ছিল অধিকার রক্ষা। ওই বছর একুশে ফেব্রুয়ারি তদানীন্তন পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে আত্মোৎসর্গের নজির সৃষ্টি করেছিল বাঙালি। মাতৃভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ঢাকার রাজপথে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিউরসহ বীর সন্তানরা। এ অমর বীরগাথা আজ কেবল এ ভূখন্ডের সীমানায় আবদ্ধ নেই, বাঙালির আত্মত্যাগ স্মরণে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদায় অভিষিক্ত। এ গৌরব বাঙালির, বাংলাদেশের। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের অহংকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের বীজ বপন হয়েছিল ভাষা আন্দোলনে। একুশের আত্মত্যাগের মাধ্যমে উন্মেষ ঘটে বাঙালি জাতীয়তাবাদের। সেই জাতীয়তাবাদী চেতনার পথ ধরে ১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। এখনো জাতির প্রতিটি সংকট মুহূর্তের অনুপ্রেরণা হয়ে আসে একুশের চেতনা। আজও অমর একুশে অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অন্তর্নিহিত শক্তি আর অদম্য সাহস হয়ে আছে। একুশ মানে মাথা নত না করা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রদ্ধা নিবেদন : আজ একুশ এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে উন্নয়ন ও অগ্রগতির মাধ্যমে জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিতে। সারা দেশে এবারের অমর একুশ পালিত হচ্ছে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে। এবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সরাসরি যাচ্ছেন না রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁদের সামরিক সচিবরা যথাযোগ্য মর্যাদায় ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গতকাল পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মধ্যরাতে একুশের প্রথম প্রহরে রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির পক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এবার স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের কারণে একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি মানুষকে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে দেওয়া হয়নি।
সন্ধ্যা থেকে যেসব সড়ক বন্ধ : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনায় বলা হয় :

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তা : কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পলাশী ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য কোনোভাবেই অন্য কোনো রাস্তা ব্যবহার করা যাবে না।

শহীদ মিনার থেকে বের হওয়ার জন্য দোয়েল চত্বরের দিকের রাস্তা অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই প্রবেশের রাস্তা দিয়ে বের হওয়া যাবে না। উল্লিখিত সময়ে বন্ধ থাকবে- বকশীবাজার-জগন্নাথ হল ক্রসিং সড়ক, চাঁনখারপুল-রোমানা চত্বর ক্রসিং সড়ক, টিএসসি-শিববাড়ী মোড় ক্রসিং এবং উপাচার্য ভবন-ভাস্কর্য ক্রসিং (ফুলার রোড)।

ডাইভারশন ব্যবস্থা : ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা থেকে আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যত্রতত্র অনুপ্রবেশ বন্ধে নীলক্ষেত, পলাশী মোড়, ফুলার রোড, বকশীবাজার, চাঁনখারপুল, শহীদুল্লাহ হল, দোয়েল চত্বর, জিমনেশিয়াম, রোমানা চত্বর, হাই কোর্ট, টিএসসি, শাহবাগ ইন্টারসেকশনগুলোতে ডাইভারশন দেওয়া হবে। আজ ভোর ৫টায় সায়েন্সল্যাব থেকে নিউমার্কেট ও কাঁটাবন ক্রসিং থেকে নীলক্ষেত ক্রসিং এবং ফুলবাড়িয়া ক্রসিং থেকে চাঁনখারপুল ক্রসিং পর্যন্ত প্রভাতফেরি উপলক্ষে সব ধরনের যাত্রীবাহী গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পবিত্রতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় সবার সহযোগিতা চেয়েছে ডিএমপি।

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রেরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

জেলা আওয়ামী লীগ :
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ওইদিন সকাল ৮টায় ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে প্রভাত ফেরী শুরু। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ।
এসব কর্মসূচিতে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোঃ লুৎফর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

মহানগর আওয়ামী লীগ :
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রভাত ফেরী: ২১ শে ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সম্মুখস্থ কামরান চত্বর থেকে শুরু হয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। ওইদিন বাদ জোহর হযরত শাহজালাল রহ. দরগাহ মসজিদের নিচতলায় সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাতসহ দেশ ও জাতির সম্মৃদ্ধি কামনায় দোয়া মাহফিল। প্রতিটি ওয়ার্ডে আলোচনা সভা: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক প্রত্যেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ওয়ার্ডে বসবাসকারী মহানগর আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আলোচনা সভার আয়োজন করা।

কর্মসূচি সমূহ যথাযথভাবে পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ