‘শর্ত’ সাপেক্ষে সিলেটে ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন পরিবহন শ্রমিকরা

প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

‘শর্ত’ সাপেক্ষে সিলেটে ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন পরিবহন শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় অবৈধ গাড়ি স্ট্যান্ড উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দের ডাকা ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিন ‘শর্তে’ সোমবারের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন শ্রমিকরা।

নগরীর চৌহাট্টাস্থ গাড়ি স্ট্যান্ড উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিক ও সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংঘর্ষ হয়। এসময় ভাঙচুর করা হয় অর্ধশত গাড়ি। এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে সিলেট জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন সিলেট জেলা বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (১৪১৮) নেতৃবৃন্দ।

তবে রোববার এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন তারা। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সিসিক মেয়র-কাউন্সিলর, সিলেটের রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ৩টি ‘শর্তে’ পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ডাকা ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

‘শর্তগুলো’ হচ্ছে- বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত ৩টি মামলা প্রত্যাহার, ভাঙচুরকৃত গাড়িগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়া ও গাড়ি রাখার জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া।

বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মামলাগুলো প্রত্যাহারে কাজ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন এবং ভাঙচুরকৃত গাড়ির ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে আন্তরাকিতা দেখাবেন বলে জানান। এছাড়াও গাড়ি রাখার জন্য ইতোমধ্যে সরকারি জায়গা দিতে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে জানান মেয়র আরিফ। তবে জায়গা পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি রাখা যাবে না বলে শ্রমিকদের জানিয়ে দেন তিনি।

অপরদিকে, যে কোনো ইস্যুতে যখন-তখন ধর্মঘটের ডাক দিয়ে শান্ত সিলেটকে অশান্ত না করতে পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান বৈঠকে উপস্থিত সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকার ফুটপাত থেকে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নিয়ে বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর-পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকসহ অন্তত: ১৫ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় প্রায় অর্ধশত গাড়ি। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ সিলেট মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ফয়সল আহমদ ফাহাদকে (৩৮)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় পুলিশ বাদি হয়ে ২টি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী বাদি হয়ে আরও ১টি মামলা করেন। ৩ মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩২৮ জনকে। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি ২৮ জন।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায়ই সিলেট জেলা বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (১৪১৮) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি ময়নুল ইসলাম সিলেটে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।

ওই বৈঠকে তিনি বলেন, আগামী সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা পর্যন্ত আমরা প্রশাসন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সময় বেঁধে দিলাম। এই সময়ের মধ্যে আমাদের স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে না দিলে সোমবার সকাল ৬টা থেকে সিলেট জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হবে।

তবে রোববারের বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এতে সিলেটে জনমনে স্বস্তি বিরাজ করছে জানা গেছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ