মনে আছে প্রজন্ম! আজ বেদনার স্মৃতির ৭ বছর……

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

মনে আছে প্রজন্ম! আজ বেদনার স্মৃতির ৭ বছর……

এম এ রশিদ আহমদ :

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কী বন্ধু, আমরা এখনও চার কোটি পরিবার…’
কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর সেই কবিতার সাড়ে চার কোটি এখন চারগুণ ছাড়িয়েছে। তবুও এই কবিতা স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পিচঢালা রাজপথে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া মুখগুলো, স্মরণে শুরু থেকে কোনও শহীদ মিনার দাঁড় করাতে দেয়নি শাসকরা। তারপর ৫২’র ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতেই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ শেষ হলে ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার এর উদ্বোধন করেছিলেন ভাষা শহীদ সফিউর রহমানের বাবা।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকবাহিনী মিনারটি আবার ভেঙ্গে দেয় এবং সেখানে ‘মসজিদ’ কথাটি লিখে রাখে। বাঙ্গালী জাতি আবারও ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে শহীদ মিনার তৈরী করে।
৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত বাংলার মাটিতে সর্বত্রই মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, বাঙ্গালির কৃষ্টি-সভ্যতায় সুর্যের মতো জ্বলজ্বল করেছে প্রানের শহীদ মিনার। কিন্তু স্বাধীন দেশে কিছু পাকিস্তানি প্রেতাত্মা জামাত-বিএনপি নামধারীদের হিংস্রতা থেকে রক্ষা পায়নি সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ আবারও ঠিক পাকবাহিনীর কায়দায় তাদেরই দোসরদের দ্বারা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ভাষা শহীদ স্মরনে এই স্মৃতিস্তম্ভ। তাদের উম্মাদনা আর আস্ফালন হতবাক করেছে গোটা সিলেটবাসীকে। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল শ্রেনীপেশার মানুষ সে প্রতিরোধ করতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেছিল।
হায়েনারা দিনের আলোতে ভেঙ্গেছে শহীদ মিনার আর রাতের আধারে চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে হত্যার উম্মাদনায় মেতে উঠেছিল প্রতিরোধকারীদের। প্রথমেই হামলা করে হত্যার চেষ্টা করেছিল প্রগতিশীল রাজনিতির ধারক মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি অরুন দেব নাথ সাগরকে। যার ক্ষত নিয়ে এখনো দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন তিনি।
সিলেটের চা বাগানের ফাঁক দিয়ে নতুন ভোরে নবদিগন্তে যেভাবে রক্তিম সূর্যের দেখা মেলে, সেই রূপ আর আবহমান বাংলার সংগ্রামী চেতনাকে প্রস্ফুটিত করা ভাষা শহীদ স্মরণীয় শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলা এই সাম্যের, শান্তির আর সম্প্রীতির নগরী পূণ্যভূমি সিলেটের জন্য কলঙ্ক ও লজ্জাজনক অধ্যায়। ১৯৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনীর পর স্বাধীন বাংলাদেশে তাদেরই দোসর ধর্মান্ধদের দ্বারা আক্রান্ত শহীদমিনার এখনো আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে।
অবিলম্বে এই পাক-হায়েনার দোসরদের বিচার নিশ্চিত করে কিছুটা গ্লানি মুক্তির দাবী জানাই।
(লেখা ২০১৭ সালের)

লেখক : সহ-সভাপতি, সিলেট মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ