কুধারণা থেকে দূরে থাকতে হবে

প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

কুধারণা থেকে দূরে থাকতে হবে

মুহম্মাদ আশরাফ আলী :; ইসলাম একে অন্যের সম্পর্কে সুধারণা পোষণের তাগিদ দিয়েছে। কোনো মুমিন যাতে অন্য মুমিন সম্পর্কে কুধারণা বা অনুমাননির্ভর ধারণা পোষণ না করে সে বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সূরা হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হইতে দূরে থাক; কারণ অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ এবং তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করিও না এবং একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করিও না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তাহার মৃত ভ্রাতার গোশত খাইতে চাইবে।’ এ সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ধারণা পোষণ থেকে দূরে থাক। কারণ ধারণা অসার ও অলীক। তোমরা গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত হয়ো না, কারও গোপন বিষয় উদ্ধারকল্পে তার পেছনে লেগে থেক না, একে অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ কর না এবং পরস্পর ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হও।’ (বোখারি ও মুসলিম)। ইসলাম প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিজীবনের গোপনীয়তাকে মর্যাদা দেয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে হুঁশিয়ারি করে দেওয়া হয়েছে, যে ব্যক্তি কারও অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার কথা শ্রবণ করবে কিয়ামত দিবসে তার কানের ভিতর সিসা ঢেলে দেওয়া হবে। সমাজের অপর মানুষ সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা, তাদের মতিগতি সম্পর্কে সন্দেহপ্রবণ হওয়া সামাজিক ঐক্যে ফাটল ধরায়। কারোর গোপন বিষয় উদঘাটন করে প্রকাশ্যে আনা কিংবা দুর্বল জায়গায় আঘাত করার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত নড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তুমি যদি কারোর গোপন বিষয় অনুসন্ধান কর তবে তুমি তার ক্ষতিসাধন করলে অথবা ধ্বংস সাধন করলে। (আবু দাউদ)

এক মুমিন আরেক মুমিনের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। কুধারণা এই বন্ধনকে ছিন্ন করে দেয়। যারা অন্য মুমিনের দোষ খোঁজে অথবা সুনামের ব্যত্যয় ঘটায় তারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ অনুসন্ধান করে আল্লাহ তার দোষ অনুসন্ধান করবে। আর আল্লাহতায়ালা যার দোষ অন্বেষণ করেন তাকে স্বগৃহে লাঞ্ছিত করেন।’ (আবু দাউদ) । আল্লাহ আমাদের অন্যের সম্পর্কে কুধারণা পোষণ থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন।
লেখক : ইসলামী গবেষক।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন