দয়াময় করুণা কর, দয়া কর

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

দয়াময় করুণা কর, দয়া কর

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

করোনার মহাদুর্যোগের শেষ কোথায়, কীভাবে মুক্তি- এর কিছুই জানি না। সব পরম প্রভু দয়াময় আল্লাহ রব্বুল আলামিন জানেন। করোনার এ বিপর্যয়ে আমরা অনেক কিছু দেখলাম, বুঝলাম, জানলাম। অনেক সন্তান বাবাকে, মাকে ফেলে গেছে। কিন্তু কোনো মা-বাবা তার সন্তান ফেলে যাননি- এটাই শাশ্বত, এটাই আল্লাহর বিধান। দেখলাম বেসরকারি হাসপাতালে মৃতের হাত-পা বেঁধে টাকা নিতে, নামিদামি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীকে আগুনে পুড়িয়ে মারতে। এসবের কোনো বিচার নেই। কেউ কেউ বলেছেন, আমি সরকারকে সমর্থন করছি। আমি তো সবসময় দেশের সমর্থক। ভালো করলে ভালো, খারাপ করলে খারাপ- এর বাইরে যেতে পারি না। এ দুনিয়ায় খুব বেশি স্বামী নেই, যে স্ত্রীর রান্না খারাপ হলে সাহস করে খারাপ বলে। আমি তাও করি। শুধু পারি না, রান্না খারাপ হলে খারাপ বলি, ভালো হলে ভালোও বলি। প্রথম প্রথম স্ত্রী হয়তো কষ্ট পেতেন। কিন্তু ওটাই যে আমার স্বভাব, তা বুঝতে পেরে এখন আর আমার কথায় কষ্ট পান না, বরং খুশি হন। এতে কোনো সন্দেহ নেই, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান হানাদাররা আমার কাছে, আমার বাহিনীর কাছে নিদারুণভাবে পরাজিত হয়েছে। তাই হয়তো অনেকেই ভাবেন, কাদের সিদ্দিকী মানে ধরো-মারো-কাটো। আসলে আমি চোখে দেখে একটা পিঁপড়াকেও পায়ে পিষে মারিনি। সেদিন কী করে বাথরুমে বালতিতে একটা ইঁদুর পড়ে ছিল। বাড়িতে যে ইঁদুর আছে তাও আমার জানা ছিল না। বাড়ি থাকলে ইঁদুর থাকবে এতে আর বিচিত্র কী? কিন্তু সেই ইঁদুরটা যখন আমার গোসলের গরম পানিতে মারা গেল তখন কয়েকজন মোগল শাহজাদাকে পানিতে ডুবিয়ে মারার কথা মনে হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু আমার প্রেম, বঙ্গবন্ধু আমার ভালোবাসা। মাতৃভূমি আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমি আপস করতে পারি না। তাই বঙ্গবন্ধুর সন্তানদের প্রতি আমার মানবিক দুর্বলতা তো আছেই- তা থাকবে আজীবন। তা কেউ রোধ করতে পারবে না। শেখ হাসিনার জীবন-সম্মানের কেউ ক্ষতি করতে চাইলে তার সঙ্গে কোনো দিনই একমত হব না। তাঁর অনেক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে অনেক সময় একমত হতে পারিনি। এখন তো মনে হয় তিনি নিজেও তাঁর অনেক কার্যকলাপ সমর্থন করতে পারেন না, করেনও না। তার পরও উপায় নেই। সিরাজউদ্দৌলা একবার বলেছিলেন, ‘কী করব গোলাম হোসেন! উপায় নেই, উপায় নেই।’ এ রকম অনেক কিছু অনেক সময় হয়। করোনাযুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে থাকার কথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তারাই দেশকে পরিচালনা করবেন। কিন্তু এমন ব্যর্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পৃথিবী আর কখনো দেখেনি। তার পরও তারা বসে আছেন বহাল তবিয়তে। মন্ত্রণালয়ের খোলনলচে বদলে ফেলা দরকার। কিন্তু কখন কীভাবে হবে দেশবাসী জানে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান সম্পদ জনগণের ইচ্ছার ওপর ভরসা করা, সম্মান দেখানো। সেটাই কেন যেন আমাদের দেশে উপেক্ষিত হতে চলেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং অন্য কিছু লোককে বিদায় করা দরকার। ৩৭ লাখ টাকা পর্দার দাম ধরেন! বঙ্গবন্ধু থাকলে এক ঘণ্টাও মন্ত্রিসভায় থাকতে পারতেন না। মন্ত্রী হয়তো নিজে চুরি করেননি। কিন্তু দেখাশোনার দায়িত্ব তাঁর। মন্ত্রী নৈতিকতার জায়গা ঠিক রাখেন। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রেলমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেছিলেন। সতীর্থরা বলেছিলেন, ‘একটি রেল দুর্ঘটনার জন্য আপনি পদত্যাগ করবেন! আপনি তো আর রেল চালান না। তাহলে কেন এটা করবেন?’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমি রেল চালাই না। কিন্তু যারা রেল চালায় তাদের চালাবার দায়িত্ব আমার ছিল। আমি তাদের ভালোভাবে চালাতে পারিনি। তাই রেল দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে।’ কোথায় সেই নৈতিকতা? করোনার শুরুতে ৫০০ জনের করোনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় কমিটি ছিল। যার সভাপতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সে কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘কোথায় কী হয় আমি কিছুই জানি না।’ নিজের মুখে ব্যর্থতা স্বীকার করা এমন মন্ত্রী বহাল তবিয়তে কেন যে রয়েছেন, কোথায় তার খুঁটির জোর দেশবাসী জানে না, আমরাও কেউ জানি না।

আজ বাজেট পাস হবে। বাজেট নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। বহুদিন পর অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম, ‘আর কে এই সময় এর থেকে ভালো বাজেট দিতে পারতেন জানি না। তেমন মানুষ চোখে পড়ে না।’ সর্বোপরি তিনি যখন বললেন, ‘খরচ করব আগে, তারপর আয়ের চিন্তা। আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে।’ তাঁর এ হৃদয়গ্রাহী আকাক্সক্ষা আমাকে মুগ্ধ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁর চেষ্টা মাঠ পর্যায়ে খুব একটা যেতে পারেনি। দুস্থ মানুষের জন্য টাকা বরাদ্দ করেছেন। প্রথম তালিকার ৫৩ ভাগই ছিল গরমিল। কোনো সাহায্য-সহযোগিতা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছেনি। যাদের হাতে দায়িত্ব তারা অনেকেই দায়িত্ব পালনে সমর্থ নন। ধান মাড়াতে গরুর প্রয়োজন হয়, যত প্রিয়ই হোক ছাগল দিয়ে ধান মাড়ানো যায় না। আমরা সে ছাগল দিয়েই দুঃসাধ্য কাজটি করার চেষ্টা চালাচ্ছি। কেন করছি তাও যেমন জানি না, যারা করছেন তারা কেন করছেন তাও বুঝতে পারি না। তবে এই সময় দেশের জনসাধারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন আগে কখনো তেমনটা দেখা যায়নি। বর্তমান করোনার দুর্যোগে বিরোধী দলের অসহযোগিতা দূরের কথা, আমরা সহযোগিতাই করে চলেছি। এখানে বিরোধী দলের চাইতে সরকারেরই ব্যর্থতা বেশি যে, তারা বিরোধী দল এবং অন্য সবার যথাযথ সহযোগিতা আদায় করতে অথবা নিতে পারেনি। সরকার এবং সরকারি দল যা-ই ভাবুন দেশবাসী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে দূরে রাখলে পরে যে শূন্যতার সৃষ্টি হবে তা সামাল দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। যার যতটুকু সামর্থ্য জাতীয় এই দুঃসময়ে তা কাজে লাগানো বা লাগাতে দেওয়া উচিত। সেদিন নারায়ণগঞ্জের শামীমের এক সাক্ষাৎকার দেখলাম। সেখানে বিএনপির কমিশনার মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের করোনায় ঐতিহাসিক ভূমিকা অকপটে তুলে ধরেছেন। টিকে থাকতে হলে সত্যকে স্বীকার করতে হয়। সত্যকে এড়িয়ে বা অস্বীকার করে কারও পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই এ রকম একটা দুর্যোগের সময়ও আমরা যদি আমাদের চিনতে না পারি, আমাদের সামর্থ্য ও ক্ষমতা বুঝতে না পারি, তাহলে আর কখন বুঝব?
হাতি বিরাট দেহের প্রাণী। কিন্তু সে তার নিজের দেহ দেখে না। সে কারণেই একজন সাধারণ মানুষের নির্দেশে চলে। দুনিয়ায় কোনো তাণ্ডব করে না। দুনিয়ায় তাণ্ডব করা কেউ টিকে থাকেনি। সে হালাকু খান, চেঙ্গিস খান, নাদির শাহ কিংবা হিটলার-মুসোলিনি- কেউ না। তাই সত্যকে স্বীকার করে শাসকগোষ্ঠী যত বিনয়ী হবে তার স্থায়িত্ব তত দৃঢ় হবে। করোনায় অর্থনীতি যেভাবে ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি যদি সচল না থাকে তবে দেশে এক ভয়াবহ অরাজক সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। যারা দিন এনে দিন খায় তাদের অনেকের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটে কাজকর্ম নেই। একে তো করোনা, তার ওপর আবার অসময়ে ওদিকে কুড়িগ্রাম-চিলমারী, এদিকে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে মানুষ ভাসছে। অনেকের ঘরে খাবার নেই। অন্যদিকে কোরবানির ঈদ কেমন হবে, কীভাবে হবে কেউ জানে না। লাখো গরু-ছাগল ব্যবসায়ী মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। হাঁস-মুরগির খামারিরা সর্বস্বান্ত, মাছ চাষিদেরও ত্রাহি ত্রাহি। কারণ, খাদ্যের যে অগ্নিমূল্য আল্লাহর দয়ায় যদি মাছ ভালো থাকে তা হলেও খাবারের দাম দিয়ে মাছ চাষিরা এক পয়সাও ঘরে তুলতে পারবেন না। মাছের চাইতে মাছের খাবারের দাম বেশি। এসবের লাগাম টানতে হবে।

একটা জরুরি কাজে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সহকারী রিং করে হাতে দিতেই মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে অর্থমন্ত্রী ভেবে আপনি বলে সম্বোধন করে খুবই লজ্জা পেয়েছি। শ ম রেজাউল করিম আমাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ‘কাদের সিদ্দিকী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ’-এ অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রীকে আপনি বলার বিব্রতভাব এখনো কাটেনি। কারণ শ ম রেজাউল করিমকে সবসময় ‘তুমি’ সম্বোধন করি। মাছ নিয়ে আমারও দারুণ আগ্রহ। তাই তাঁর সঙ্গে কথা বলা দরকার ছিল। তিনি সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর বিশেষজ্ঞরা সবরকম সাহায্য করবেন। দেখা যাক, কতটা কী সাহায্য পাই।

যখন যৌবন ছিল, শক্তি ছিল, বুকভরা দুর্বার সাহস ছিল তখন মোটেই স্বপ্ন দেখতাম না। দেশকে ভালোবাসতাম, দেশের নেতাকে ভালোবাসতাম- তাতেই বিভোর থাকতাম। তবে ’৭১-এর আগস্টে স্বপ্ন দেখেছিলাম, দেশ স্বাধীন হয়েছে। টাঙ্গাইল পার্ক ময়দানে নেতার হাতে অস্ত্র দিচ্ছি। প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার পর টাঙ্গাইল পার্কের বদলে বিন্দুবাসিনী স্কুলের বিশাল মাঠে নেতার পায়ের কাছে অস্ত্র বিছিয়ে দিয়েছিলাম। আজ কিছুদিন মাঝেমধ্যেই স্বপ্নে বঙ্গবন্ধুকে পাই। অতীত দিনগুলোর ছবি ভেসে ওঠে। বুঝতে পারি না ঘুম কমে গেছে কিনা। সেদিন হঠাৎই দেখলাম, কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্তের দিকে চলেছি। মহেন্দ্রগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে শিলং, সেখান থেকে গোহাটি, এক গভীর রাতে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মহীয়সী নারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী আমার মাথায় এবং পিঠে হাত দিয়ে বলেছেন, ‘তুমি বেঁচে আছো আমি খুশি হয়েছি। তোমাদের সম্মান রক্ষা করে যেভাবে পারা যায় আমরা সাহায্য করব।’ এর মাসখানেক পরের কথা। নৌকায় ভাটিতে চলছি। সঙ্গে বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধা। বগুড়ার খসরু প্রস্তাব করল যমুনা-ধলেশ্বরীর পশ্চিম পাড়ে চন্দনবাইশা-সারিয়াকান্দি একবার গেলে কেমন হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সারিয়াকান্দির উজানে যমুনার পাড়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য নেমেছিলাম। সেই ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমানের জন্য তার ক্ষমতা দেখতে। কারণ দু-তিন দিন আগে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। এক গ্লাস পানি চেয়েও পাইনি। সবকিছু শুনে ফজলুর রহমান বলেছিলেন, স্যার! একদিন পর আবার চলুন সেখানে। তার প্রস্তাবে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি এলাহি কারবার। আমরা গিয়েছিলাম এক গ্লাস পানি দেয়নি। আর এখন একটি ভাঙা স্কুলের মাঠে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে তিন-চার শ মানুষ অপেক্ষায় আছে! আমরা গেলে সে কি সমাদর। অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। পরে বুঝলাম, দু-তিন দিন আগে ব্রিগেডিয়ার সাহেব সেখানে গিয়েছিলেন। তাকে পাত্তা না দেওয়ায় অনেকের পাছায় সপাং সপাং বেত মেরেছিলেন। তাই আমাকে দেখে যারা কোনো গুরুত্বই দেননি তারা তাকে দেখে তটস্থ। কেউ আবার চুপিসারে জিজ্ঞাসা করছিলেন, স্যার! উনি বড়, না আপনি বড়? বলেছিলাম, না, আমরা প্রায় সমান সমান। সেই প্রথম যমুনার পশ্চিম পাড়ে আর এই ’৭৫-এর অক্টোবরে চন্দনবাইশায় এসেছি।

মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চন্দনবাইশার রেজাউল করিম কাদেরিয়া বাহিনীতে ছিল। অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। ’৭৫-এ বগুড়া যুবলীগের সভাপতি খালেকুজ্জামান খসরু যুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধযুদ্ধে। তখন কি জানতাম, খসরুর সে-ই ছিল তার জন্মভূমি চন্দনবাইশায় শেষ যাওয়া। আমরা পরদিন আবার ভাটিতে সিরাজগঞ্জের নিশ্চিন্তপুরের চরে ঘাঁটি গেড়েছিলাম। অনেক অস্ত্র পরিষ্কার করে যুদ্ধোপযোগী করে নিয়েছিলাম। বিকালে রওনা হব ভাটির দিকে। দুপুরে হঠাৎই এক বিশাল হেলিকপ্টার এসে আমাদের নৌকার কাছাকাছি নামে। আমরা পজিশন নিই। আমার থেকে হেলিকপ্টারের দূরত্ব বড়জোর ৭০-৮০ গজ। মেজর ডালিমের নেতৃত্বে সে অভিযানে ২০-২৫ জন সৈন্য ছিল। তারাই প্রথম গুলি চালিয়েছিল ফাঁকা মাঠে। কারণ আমরা ছিলাম নদীর পাড়ে। কাউকেই দেখা যাচ্ছিল না। আমাদের প্রথম একঝাঁক গুলিতে ওদের ছয়-সাত জন ঝরে পড়েছিল। হঠাৎই আমার পাশে খসরু টলে পড়ে। তার বুকে গুলি লেগেছিল। সামনে হেলিকপ্টারে গুলি করতে যাব সে সময় আবদুল্লাহ বীরপ্রতীক চিৎকার করে ওঠে, হেলিকপ্টারে ফারুক মামা, ফারুক মামা। ফারুক মানে প্রখ্যাত সাংবাদিক মোহাম্মদ মোদাব্বেরের ছেলে। ওদের বাড়িতেই ১৫ আগস্ট সারা দিন ছিলাম। বন্দুকের নিশানা আর হেলিকপ্টারের দিকে যায়নি, থেমে গিয়েছিল। তাই ওরা কিছু লোক বেঁচে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধে সে-ই আমাদের প্রথম যুদ্ধ। তারপর খুনি দখলদারদের বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ করি। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ১০৪ জন শহীদ হন। দুর্ভাগ্য তাঁদের কোনো মূল্যায়ন হয়নি। আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাঁদের কোনো জাতীয় স্বীকৃতি পাইনি। জিয়াউর রহমানের সময় তাঁরা যেমন দুষ্কৃতকারী ছিলেন, এরশাদের সময় এবং আজ পর্যন্ত তাঁরা তা-ই রয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করে তাঁরা এখনো দেশপ্রেমিকের স্বীকৃতি পেলেন না। তাই কি মাঝেমধ্যে বঙ্গবন্ধুর দেখা পাই ঠিক বুঝতে পারছি না। করোনায় যেখানে সবকিছু বন্ধ সবকিছু স্তব্ধ সেখানে এমন হওয়ার কারণ কী? দয়াময় আল্লাহ আমাদের এ করোনা থেকে করুণা করুন, দয়া করুন।

লেখক : রাজনীতিক।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন