দুনিয়ায় আখিরাতের সঞ্চয় গড়তে হবে

প্রকাশিত: ১:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

দুনিয়ায় আখিরাতের সঞ্চয় গড়তে হবে

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

আখিরাতে দুনিয়ার জীবনের হিসাব দিতে হবে। যে কারণে দুনিয়ার জীবনের সদ্ব্যবহারে মুমিনদের সচেতন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে, এ পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী।

কখন মৃত্যুর পরোয়ানা আসবে তা জানা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘প্রতি সম্প্রদায়ের একটি প্রতিশ্রুত সময় রয়েছে। যখন তাদের সময় এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহূর্ত পিছে যেতে পারবে আর না এগিয়ে আসতে পারবে।’ সুরা আরাফ, আয়াত ৩৪। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তুমি যখন সন্ধ্যায় উপনীত হও, তখন সকালের অপেক্ষা কোরো না। তুমি সুস্থতার সময় রোগের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর আর তোমার জীবিত থাকা অবস্থায় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকো।’ বুখারি।
ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবনের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করাই মানব জীবনের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় মূলধন হচ্ছে সময় ও স্বাস্থ্য। প্রত্যেক মানুষকেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ এ দুটি পুঁজি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মানুষ প্রায়ই এ পুঁজির সঠিক ব্যবহার তো করেই না বরং এর অপব্যবহার ও অপচয় করে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে দুনিয়ার বহু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তা হলো দৈহিক স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।’ বুখারি।।

এজন্য যারা দায়িত্বশীল মনোভাবের মানুষ তারা তাদের সময় অপচয় হলে অনুশোচনায় ভোগে। আর যারা নির্বোধ তারা নির্বিকারভাবে সময় নষ্ট করতে থাকে। সময় থাকতে তারা এ নিয়ে ভাবে না এবং অনুশোচনায় ভোগে না। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এ স্মরণ তার কী কাজে আসবে? সে বলবে, হায়! এ জীবনের জন্য আমি যদি কিছু অগ্রিম পাঠাতাম!’ সুরা ফাজর, আয়াত ২৪-২৫।

আরও ইরশাদ হচ্ছে, ‘সেখানে তারা আর্তচিৎকার করে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, বের করুন আমাদের, আমরা সৎকাজ করব, আগে যা করতাম, তা করব না। আমি কি তোমাদের এতটা বয়স দিইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব শাস্তি আস্বাদন কর।’ সুরা ফাতির, আয়াত ৩৭।

তাই সময় থাকতেই আখিরাতের জীবনের জন্য দুনিয়ার জীবনে সঞ্চয় করতে হবে। অন্যথায় কিয়ামতের দিন মানুষকে সময় ও যৌবন কীভাবে ব্যয় করেছে সে ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো মানুষ নিজের স্থান থেকে এক বিন্দুও সরতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কাছ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর নেওয়া হবে। সে তার জীবনকাল কীভাবে অতিবাহিত করেছে। তার জ্ঞান কী কাজে ব্যবহার করেছে। তার ধনস¤পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে। আর তার যৌবন কীভাবে কাটিয়েছে।’ তিরমিজি।

অতএব, জীবনের প্রতি মুহূর্তই যেন ভালো কাজে ব্যয় হয় সেজন্য সচেষ্ট থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন