সাত শ্রেণির মানুষের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করে

প্রকাশিত: ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

সাত শ্রেণির মানুষের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করে

মাহমুদুল হক জালীস

মানুষ দুর্বল চিত্তের। ক্লান্তি-অবসাদ কামনা-বাসনা সব সময় ঘিরে রাখে তাকে, যার বলে মানুষ গুনাহের কাজ করে। পাপ-পঙ্কিলতায় জড়িয়ে পড়ে। যা পরকালীন জীবনের জন্য মঙ্গলজনক নয়। কিন্তু এর বিপরীতে দুনিয়ার ওইসব মানুষ সৌভাগ্যবান যাদের জন্য আসমানে দোয়া করা হয়। ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়। (যারা এসব করে তারা হলো আল্লাহর নিয়োজিত ফেরেশতা) যাদের কোনো গুনাহ নেই। কলুষতামুক্ত নিষ্পাপ জীবনের অধিকারী তারা। সব সময় আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে। অবিরাম জপতে থাকে পবিত্রতা। ফেরেশতারা দুনিয়ার সাত শ্রেণির মানুষের জন্য দোয়া করে- এক. অজু অবস্থায় ঘুমানো ব্যক্তি। ঘুমানোর আগে অজু করা উত্তম স্বভাবের একটি। এতে দৈহিক পবিত্রতার পাশাপাশি মানসিক প্রফুল্লতাও অর্জন হয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (অজু অবস্থায়) ঘুমায় তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে। অতঃপর সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর সমীপে ওই ফেরেশতা প্রার্থনা করে বলে, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্র অবস্থায় ঘুমিয়েছিল।’ ইবনে হিব্বান। দুই. সালাত আদায়ে অপেক্ষমাণ থাকা ব্যক্তির জন্য। সালাত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দাকে এর হিসাব দিতে হবে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে কোনো ব্যক্তি যখন অজু করে সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে সে যেন সালাতেই রত থাকে। তার জন্য ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি দয়া কর।’ মুসলিম। তিন. প্রথম কাতারে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য। জামাতের সঙ্গে প্রথম কাতারে নামাজ আদায়ের ফজিলত অনেক। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রথম কাতারে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিকে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করেন ও ফেরেশতারা তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে।’ ইবনে হিব্বান। চার. নবীজির প্রতি দরুদ পাঠকারী ব্যক্তির জন্য। দরুদ নবীজিকে ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম। বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তার ওপর ৭০ বার দোয়া করেন ও তার ফেরেশতারা তার জন্য ৭০ বার ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতএব বান্দারা অল্প দরুদ পাঠ করুক বা অধিক দরুদ পাঠ করুক (এটা তার ব্যাপার)।’ ইবনে হিব্বান। পাঁচ. অসুস্থকে দেখতে যাওয়া ব্যক্তির জন্য। কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বের অংশ। কিন্তু তা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয় তাহলে দেখতে যাওয়া ব্যক্তির এতে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোনো মুসলিম তার অন্য (অসুস্থ) মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, আল্লাহ তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তারা দিনের যে সময় সে দেখতে যায় সে সময় থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করতে থাকে এবং সে রাতের যে সময় দেখতে যায় সে সময় থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করতে থাকে।’ ইবনে হিব্বান। ছয়. মুসলিম ভাইয়ের ওপর দোয়াকারীর জন্য। দোয়া মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। দোয়াকারী ব্যক্তির মর্যাদা অপরিসীম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো মুসলিম তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করলে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। সাত. কল্যাণ বা কামিয়াবির পথে দানকারী ব্যক্তির জন্য। দান-খয়রাত অনেক সময় মানুষের থেকে বিপদাপদ দূর করে দেয়। হেফাজত করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সম্মুখীন হওয়া থেকে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করে, একজন বলে, হে আল্লাহ! দানকারীর সম্পদ বাড়িয়ে দাও। অন্যজন বলে, হে আল্লাহ! যে দান করে না তার সম্পদ বিনাশ করে দাও।’ বুখারি।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
20212223242526
2728293031  
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ