হাসপাতালে রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনুন: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

হাসপাতালে রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনুন: ওবায়দুল কাদের

বাসস ::

করোনাভাইরাস সংকটে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার যথাযথ পরিবেশ তৈরি করে রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি বলব- আপনারা রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনুন, হাসপাতাল মুখি হওয়ার পরিবেশ তৈরি করুন। হাসপাতালের ওপর নানান কারণে রোগীদের আস্থার সংকট তৈরি হওয়ায় রোগী কমছে। তাই আশা করব, আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

তিনি বলেন, রোগীর অভাবে কোনো কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে- এমন সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে। সংক্রমনের বর্তমান স্তরে রোগীর সংখ্যা কম নয়, তাছাড়া সাধারণ রোগী তো রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে হাসপাতাল বন্ধ রাখা সমাধান নয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টেনে না ধরতে পারলে সংক্রমণ উচ্চ মাত্রায় পৌঁছে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আভাস দিয়েছেন৷ আসন্ন ঈদে জনসমাগম যে কোনো মূল্যে এড়িয়ে চলতে হবে। গণপরিবহন চলাচল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ যাত্রায় সবাইকে নিজের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেককে ঈদযাত্রায় নিজের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পশুর হাট, লঞ্চ বাস ট্রেন স্টেশন ফেরিঘাট শপিংমলসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সর্বোচ্চ সামাজিক দূরত্ব মানার চেষ্টা করতে হবে। মাস্ক পরিধান অবশ্যই করতে হবে। জীবনকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য জীবিকা অর্জনে চলাচল যেন জীবন হানির ঝুঁকিতে না পড়ে সেদিকে আমার সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শুরু থেকেই একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাকেই দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন হিসেবে ব্রত করে নিয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানকে তারা সহযোগিতা ও সমর্থন না দিয়ে বরং অন্ধ সমালোচনা করছে। সরকার নাকি অনিয়মকারীদের পৃষ্টপোষকতা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি জানতে চাই আপনাদের সময়তো দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল, ছিল দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্য। তখন কি এ ধরনের একটি সাহসী উদ্যোগ নিতে পেরেছিলেন? পেরেছিলেন দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কিছু করতে? পারেননি। যারা গ্রেনেড হামলার বিচার করতে গিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে চলমান অভিযানকে নাটক বলে পরিহাস করা তাদের মুখেই মানায়। যারা নাটক করে, নাটক সাজায় তারা সব কিছুতেই নাটক দেখতে পাবেন। এটাই স্বাভাবিক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, চলমান অভিযান অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্ব-প্রণোদিত হয়ে নিজ উদ্যোগেই এসব অভিযান পরিচালনা করেছেন। কোনো দল বা মহল এসব অনিয়মের কথা আগে তুলে ধরেনি। সরকারই উদঘাটন করেছে কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, এ থেকে বুঝা যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আন্তরিক এবং কঠোর অবস্থান। শেখ হাসিনার কাছে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি প্রশ্রয় পাবে না। দুর্নীতিবাজদের দুর্বৃত্তদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। গুটিকয়েক মানুষের লোভ প্রতারণার কাছে জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষা জিম্মি হতে পারে না। তাদের স্বপ্ন সাধনা ও দিনরাত পরিশ্রম বর্ণহীন হতে পারে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা সরকার এ দেশের জনমানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দেয়। তাই যারা জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যক্তি স্বার্থ সুরক্ষায় অপপ্রয়াস চালাবে তাদের রক্ষা নেই। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা করতেই হবে। সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দল ও সরকার পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা। এ দেশে রাজনীতিতে সততার প্রতীক বঙ্গবন্ধু পরিবার। তাই শেখ হাসিনা ও সরকারের অর্জন আমরা গুটিকয়েক ব্যক্তির লোভের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিতে পারি না।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
26272829   
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ