নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

অনলাইন ডেস্ক :;

নানা কর্মসূচির মাধ্যমে কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে রোববার সকালে প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, শাওনের পিতা এবং নুহাশপল্লীর কর্মচারী ও হুমায়ূনভক্তসহ হিমু পরিবহনের সদস্যরা কবর জিয়ারত করেন।

এ সময় শাওন সাংবাদিকদের বলেন, নুহাশপল্লীতেই হুমায়ূন যাদুঘর নির্মাণ করা হবে। যেহেতু নুহাশপল্লী একটি পারিবারিক সম্পদ। পারিবারিক সম্পত্তির মধ্যে এ রকম কিছু একটা করতে হলে পরিবারের সবার মতামত নিতে হবে। ওই জায়গাটিতে এখনও আমি অপারগ হয়ে আছি।

তিনি বলেন, আমি এখনও সবাইকে একত্র করতে পারিনি। পারিবারিক সমন্বয়হীনতার কারণে যাদুঘরটির নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি পরিবারে সবার সঙ্গে আলোচনা করে যাদুঘরটি নির্মাণ করার।

শাওন জোর দিয়ে বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যাদুঘর নুহাশপল্লীতেই হবে।

হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে শাওন বলেন, বর্ষাকে তিনি উদযাপন করতেন। আমরা বৃষ্টিতে ভিজি আর তিনি বর্ষা উদযাপন করতেন। যা তার ভক্তরাও জানে।

পরে তারা হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবার হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এবার তার ভক্তদের উপস্থিতিও তেমন বেশি ছিল না।

মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের আরও বলেন, প্রতিবছর বিভিন্ন এতিমখানার এতিমদের নিয়ে কুরআনখানির ব্যবস্থা করা হতো। এবার তা সীমিত আকারে হয়েছে। কুরআনখানি ও আপ্যায়ন করতে যে টাকা ব্যয় হতো সে টাকাগুলো চাকরি হারিয়ে কর্মহীন অসহায় লোকদের মাঝে প্রদান করা হয়েছে।

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, দিনটি উপলক্ষে সকাল থেকে সীমিত পরিসরে কুরআনখানির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিশাত, নিনিত, শাওনের পিতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী ও নুহাশপল্লীর কর্মচারী হুমায়ূন ভক্তরা কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং হুমায়ূনের কবর জিয়ারত করেন। লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের মাওলানা মজিবুর রহমান।

এ দিকে রোববার সকাল থেকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হুমায়ূনভক্ত এবং তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা ছুটে আসেন। নুহাশপল্লীর লিচু তলায় চিরনিদ্রায় শায়িত প্রিয় লেখকের কবর জিয়ারত শেষে ঘুরে দেখছেন প্রিয় লেখকের নিজের হাতে গড়া নুহাশপল্লীর নানা স্থাপনা।

নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং সৃজনশীল প্রকাশক ও পরিষদের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ। এদের মধ্যে অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজাহারুল ইসলাম, কাকলী প্রকাশনীর সেলিম আহমেদ, অন্বেষা প্রকাশনীর শাহাদাৎ হোসেন, কাঠ পেন্সিল প্রকাশনীর এসকে চৌধুরী, অভিনেতা সিরাজুল কবির কমল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়ূন আহমেদ আমেরিকার নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
19202122232425
26272829   
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ