আমলে কাটুক জিলহজের প্রথম দশক

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

আমলে কাটুক জিলহজের প্রথম দশক

আহমাদুল্লাহ আল জামি :;
করোনাকালের এই দুর্যোগে থমকে আছে আমাদের স্বাভাবিক জীবন। একরোখা এই জীবনে হতাশা ও বেদনায় ক্রমেই ভারি হয়ে চলেছে আমাদের দীর্ঘশ্বাস।

অনিশ্চিতের বালুচরে স্থবির হয়ে যাচ্ছে আমাদের কোলাহলের জীবন৷ কারোই জানা নেই- কবে এই দমবন্ধ সময় থেকে মুক্তি মিলবে আমাদের!

আমরা যারা মুমিন সময়টা তাদের জন্যে নেয়ামত স্বরূপ; আবার প্রচণ্ড ভয়েরও। নেয়ামত এজন্য যে, এই অখণ্ড অবসর আমরা সঁপে দিতে পারি রবের ইবাদতে।

নির্ঝঞ্জাট সময়গুলো কাটাতে পারি রবের মহিমা প্রকাশের মধ্য দিয়ে; তার হামদ ও তাসবিহ জপার মাধ্যমে।

আবার ভয়ের জায়গাও এই অখণ্ড অবসর, এই অফুরন্ত সুযোগ। যদি আমরা হেলায় হারিয়ে ফেলি! নিতান্তই অলসতা আর ভ্রষ্টাচারে ফুরিয়ে যায় যদি এই অবসর সময়! তাহলে নিঃসন্দেহে এটা আমার জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতির কারণ!

স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হলেও থেমে তো নেই আমাদের জীবনের গতি৷ কেয়ামতের দিন আমার জীবনের হিসাব যখন নেয়া হবে সেদিন তো আমি জিজ্ঞাসিত হবো বর্তমানের এই মুহূর্তগুলো সম্বন্ধেও।

বর্তমানের সময়টা এমন যে, আমাদের স্বাভাবিক সব কাজের মধ্যে একটা স্থবিরতা চলে এসেছে৷ গতি পরিবর্তন হয়ে গেছে আমাদের নেক আমলগুলোরও।

মসজিদ-মাদরাসায় গমন,জুমা-ঈদের জামাতে সীমিত উপস্থিতিসহ বিশেষ করে বহু মানুষ এবার যেতে পারছেন না ‘বাইতুল্লাহর যিয়ারতে’ও৷

কত মানুষের স্বপ্ন ছিলো দু’চোখ ভরে দেখবে আল্লাহর ঘর। নিজের যাবতীয় গোনাহ স্মরণ করে চোখে পানি ঝরাবে বাইতুল্লাহর কালো গিলাফের দিকে নির্নিমেষ তাকিয়ে থেকে!

দরুদ পড়বে নবিজীর রওজা মুবারকের পাশে দাঁড়িয়ে! কিন্তু এক অদৃশ্য মহামারী সব স্বপ্ন শেষ করে দিলো৷ আসলে মহামারী তো কিছু নয়; সব আল্লাহতায়ালারই ফায়সালা৷

যার হুকুম ছাড়া গাছের পাতা পর্যন্ত নড়ে না৷ তাঁর কোনো কাজই কল্যাণ থেকে মুক্ত নয়৷ নিঃসন্দেহে আমাদের কাছে দুঃসহ হয়ে ওঠা এই সময়ের পেছনেও রয়েছে প্রয়োজনীয় কোন কল্যাণ৷ যা বোঝার মতো জ্ঞান বা সাধ্য কোনটাই আমাদের মতো সীমিত জ্ঞানের মানুষের নেই৷

আমরা যারা এবার বাইতুল্লাহর সফরের ইচ্ছা করেছিলাম কিন্তু যেতে পারিনি,জিহ্বা রসালো করতে পারিনি হৃদয় ভেজাতে পারিনি ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইকের’ মধুর বাক্যে…!

এছাড়াও যারা পুরোটা সময় মসজিদে কাটিয়ে হৃদয় জুড়াতে পারিনা!জুমা বা ঈদগাহের সুবিশাল জামাতে হৃদয় ও চোখ জুড়াতে পারিনা! তাদের সবার জন্য জিলহজের প্রথম দশদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷

দশ দিনের ইবাদতে অনেকদিন ইবাদত করার স্বাদ ও সওয়াব দুটোই পাওয়া যাবে। কাজেই যারা এই দশদিনের যথাযথ মূল্যায়ন করবে তারা উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ৷

জিলহজের প্রথম দশটি দিন যদি আমরা বিশেষ আমলে কাটাতে পারি আশা করা যায় আল্লাহতায়ালা আমাদের নিরাশ করবেন না৷ বিপুল দানে ভরে দেবেন আমাদের শুন্য আঁচল৷

জিলহজের প্রথম দশদিন কেন এত ফজিলতপূর্ণ ? কোরআন হাদিসের পাতায় খুঁজে নিতে পারি এই কৌতুহলের জবাব।

আসলে সকল দিন ও সময় সবই তো আল্লাহতায়ালা সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির সবই তো স্রষ্টার কাছে সমান হয়ে থাকে। তাদের সবার পরিচয়-তারা ‘মাখলুক’। তবুও কিছু মাখলুক যেমন ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ (শ্রেষ্ঠসৃষ্টি) হয়, তেমনই কিছু মুহূর্ত, কিছু সময়, কিছু দিন এমন রয়েছে যেগুলোকে আল্লাহ তায়ালা স্বাতন্ত্র্য দান করেছেন৷

অন্যান্য দিন ও সময়ের বিপরীতে যে সময় ও দিনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে৷ বিশেষ করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা যে সকল দিন ও মুহুর্তগুলোর উল্লেখ করে শপথ বাক্য উচ্চারণ করেছেন সেসবের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা৷

যেমন তিনি ‘আসর’ বা বৈকালিক সময়ের উল্লেখ করে শপথ বাক্য উচ্চারণ করেছেন৷ শপথ বাক্য উচ্চারণ করেছেন ‘দুহা’ বা মধ্যাহ্নের উল্লেখ করেও৷তাই ইসলামে এই দুই সময়ে আমলের বিশেষ মর্যাদাও রয়েছে।

তেমনিভাবে দশটি দিনের কথা উল্লেখ করেও তিনি শপথ বাক্য উচ্চারণ করেছেন৷বলেছেন- ‘শপথ দশ রাত্রির’৷ (সূরা আল ফাজর, আয়াত: ২)

কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের মতে এই দশ রাত্রির নির্দিষ্টতা নিয়ে কিছুটা মতভিন্নতা থাকলেও অধিকাংশের মতে এর দ্বারা জিলহজের প্রথম দশ রাতই উদ্দেশ্য৷

এবং কোরআনের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসির রহিমাহুল্লাহও এই মতটিকে সঠিক বলেছেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

হাদিসে নববীতেও এই আয়াতের ব্যাখ্যায় জিলহজের প্রথম দশ রাতকেই উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রখ্যাত সাহাবী জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- নিশ্চয়ই (আয়াতে উল্লেখিত) দশটি রাত হলো জিলহজের প্রথম দশ রাত এবং বেজোড় দিনটি হলো আরাফা আর জোড় দিনটি হলো জিলহজের দশ তারিখ কুরবানীর দিন। (মুসনাদে আহমাদ,সুনানে নাসায়ী)

জাবের (রা.) থেকে আরো বর্ণিত আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- জিলহজের এই দশ দিনই সেই দশ দিন-যার উপর কোরআনে আল্লাহ তায়ালা শপথ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ)

আরও অসংখ্য হাদিসে এই দিনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণিত হয়েছে। নিম্নের আলোচনায় আমরা আরো বিস্তারিত জানতে পারব ইনশাআল্লাহ।

* গুরুত্বপূর্ণ এই দশ দিনকে আমরা কিভাবে পার করবো? আমরা চাইলে উল্লেখযোগ্য কিছু আমলে নিমগ্ন থেকে বরকতময় এই দশটি দিনকে কাজে লাগাতে পারি যেমন: আল্লাহ তায়ালার জিকির।

* পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- তারা যেন আল্লাহর নামে জিকির করে সুনির্দিষ্ট দিনগুলোতে। (সূরা হজ,আয়াত: ২৮)

কোরআন ও হাদিস বিশারদগণ ‘সুনির্দিষ্ট দিনগুলো’কে জিলহজের প্রথম দশ দিনই বলেছেন। এমনকি ইমাম বুখারী (রহ.) সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন।

* আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে নবিজী বলেছেন- আল্লাহতায়ালার কাছে জিলহজের দশ দিনের চেয়ে অধিক উত্তম কোনো দিন নেই৷ এবং এই দিনগুলোর আমলের চেয়ে বেশি প্রিয় কোনো আমল নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ‘আল্লাহু আকবার‘ এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করো৷
(মুসনাদে আহমাদ)

* সাহাবাদের মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহুমা জিলহজের এই দশ দিনে মদিনার বাজারে উচ্চস্বরে তাকবির ধ্বনি দিয়ে মানুষকে আল্লাহর জিকিরে মনোযোগী করে তুলতেন। (সহীহ বুখারী)

দুই. সিয়াম পালন করা

* উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজের নয়দিন সিয়াম পালন করতেন এবং সিয়াম পালন করতেন আশুরার দিনে৷ আর তিনি প্রতি মাসে তিনদিন করেও সিয়াম পালন করতেন৷ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

* নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে: জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

এই সময়ে একেক দিনের সিয়াম পালনে আল্লাহতায়ালা এক বছর সিয়াম পালনের সওয়াব দান করেন এবং একেক রাত্রিজাগরণের আমল ‘শবে কদরের’ রাত্রিজাগরণের আমলের সমপরিমাণ! সমপরিমাণ! সমপরিমাণ! (সুনানে তিরমিযি)

তিন. অধিক দোয়া করা

* নবিজী বলেছেন- সর্বোত্তম দোয়া (জিলহজের নবম তারিখ) আরাফার দিনের দোয়া৷ (মুয়াত্তা মালিক)

* হাদিসে নববীতে আরো বর্ণিত হয়েছে- আল্লাহতায়ালা আরাফার দিন সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন৷ (সহীহ মুসলিম)

চার. দান-সদকা করা

দান এবং সদকার ফজিলতে তো অসংখ্য আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

* একবার সদকা করার সময় নবিজী উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলছেন- আয়েশা! এত হিসাব করে সদকা করো না৷ তাহলে আল্লাহতায়ালাও তোমাকে প্রতিদান দেয়ার সময় হিসাব করে দিবেন৷ (সুনানে নাসায়ী)

আমাদের এখন দানের সময় ও সুযোগ দুটোই আছে। যত বেশি সম্ভব এই দিনগুলোতে দান সদকা করুন৷ দেশে বর্তমানে বহুমুখী দুর্যোগ চলমান৷ করোনার সঙ্কট, তার ওপর উপকূলীয় অঞ্চল ভেসে গেছে বানের পানিতে৷ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবার এটাই উপযুক্ত সময়৷

পাঁচ. অন্যায় অনাচার থেকে বেঁচে থাকা

গোনাহ ও হারাম থেকে বেঁচে থাকা মুমিন হিসাবে আমার সৌন্দর্য৷ এই দশদিন চেষ্টা করবো অনাকাঙ্খিত কোনো হারামেই যেন আমরা জড়িয়ে না পড়ি৷

আল্লাহ তায়ালা বলছেন- অতএব যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে। (সূরা আন নূর, আয়াত: ৬৩)

* নবিজী বলেছেন- হারাম থেকে বেঁচে থাকো৷তাহলেই তুমি হয়ে উঠবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী। (সুনানে তিরমিযী)

আমরা দৃষ্টিকে তো সংযত রাখবো সবসময়ই৷ এই দশটি দিন তাকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করি৷ মানুষের নিন্দা চর্চা থেকে বাঁচিয়ে রাখি জিহ্বাকে৷ অন্তরকে রক্ষা করি সকল খারাপ চিন্তা থেকে৷

হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত করি এই দশ দিন৷ এই দশ দিনের ইখলাসপূর্ণ আমলি অভ্যস্থতায় হতে পারে পুরো বছর আমরা বেঁচে থাকতে পারবো সকল হারাম ও অন্যায় পাপাচার থেকে৷

ছয়. কিয়ামুল লাইল বা রাত্রিজাগরণ

এই দশদিনের প্রতিটি রাতকে আমরা উদ্ভাসিত করে তুলি কিয়ামুল লাইলের জ্যোতিতে৷ আল্লাহ তায়ালা এই দশ রাতের শপথ করে বলছেন—

* শপথ দশ রাত্রির। (সূরা ফাজর, আয়াত- ২)

শপথের জন্যে এই দশরাত্রির উল্লেখ থেকেই তার মহত্ব স্পষ্ট হয়ে যায় আমাদের কাছে৷

এই দশ রাতে কিয়ামুল লাইলের ব্যাপারে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষভাবে বলেছেন- জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। এই সময়ে একেক দিনের সিয়াম পালনে আল্লাহ তাআলা এক বছর সিয়াম পালনের সওয়াব দান করেন এবং একেক রাত্রিজাগরণের আমল ‘শবে কদরের’ রাত্রিজাগরণের আমলের সমপরিমাণ! (সুনানে তিরমিযি)

সাত. বিভিন্ন নেক আমলে অংশ নেয়া

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- তোমরা কল্যাণকাজে প্রতিযোগিতা করো। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৪৮)

এই দশদিনকে নেয়ামত মনে করে উত্তম কাজে, সওয়াব লাভের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া উচিত৷ জীবনে অবসর ও সুযোগ সব সময় আসে না৷ বুদ্ধিমান তো সেই যে অবসরকে কাজে লাগিয়ে বিপদ দিনের জন্য সঞ্চয় জমা করে নেয়৷

করোনার কাল বিদায় নিলে ফের আমরা ব্যস্ত হয়ে যাবো জীবনের প্রয়োজনে৷ এই অবসরে তাই ইবাদাতে মনোযোগি হই৷ বেশি বেশি নফল ইবাদাত করে নেকি জমিয়ে তুলি নিজের আমলনামায়৷ কবর যিয়ারতে যেতে পারি৷

বন্ধুদের কাছে ফোন করে তাদের খোঁজ খবর নিতে পারি৷ সবই ইবাদত৷ নামাজের খানিক পূর্বে গিয়ে নামাজের অপেক্ষায় সময় পার করতে পারি৷সবকিছুর জন্যই আমার আমলনামা সমৃদ্ধ হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

খুঁজে বের করে আরও বিভিন্ন নফল ইবাদতে ব্যস্ত থেকে সময়টা পার করি৷ দিন তো চলেই যাবে৷ কিন্তু এমন দিনের আমলগুলোই কাজে আসবে ইহ-পরকালে আমার ঘোরতম দুর্দিনে৷

আট. কোরআন তেলাওয়াত

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- সর্বোত্তম জিকির হলো কোরআন কারীমের তেলাওয়াত করা৷

এই দিনগুলো আমরা কোরআন কারীমের সাথে অতিবাহিত করতে পারি৷ যারা তেলাওয়াত করতে পারি তারা তেলাওয়াত করি৷ যারা অর্থ বুঝি তারা সময় কাটাতে পারি কোরআনের তাদাব্বুরে৷ অর্থ নিয়ে চিন্তা করতে পারি৷ খুঁজে বের করে নিতে চেষ্টা করি কোরআন থেকে জীবনের সকল প্রয়োজনের পাথেয়৷

নয়. পশুর কোরবানি

কোরবানি যার ওপর ওয়াজিব হবে সে অবশ্যই এই বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে৷ কোরবানির সামর্থ থাকা সত্বেও যে ব্যক্তি এই আবশ্যক বিধান পালন করবে না তাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

যে ব্যক্তি সামর্থ থাকার পরও কোরবানি করলো না সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ)

বর্তমান সময়ে কোরবানী না করার জন্য বস্তুবাদীদের চটকদার অনেক আহ্বান কানে আসে৷ শয়তান যেন আমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে দেয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে৷

দশ. একটি বিশেষ আমল

* যারা কোরাবানি করবেন তাদের জন্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো একটি বিশেষ আমলের কথা বলেছেন- যে ব্যক্তি কোরবানি করবে, সে যেন জিলহজের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে পশু কোরবানির আগ পর্যন্ত তার নখ, চুল ও শরীরের অন্যান্য পশম না কাটে। তাহলে তার প্রতিটি নখ ও চুলের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে সওয়াব দান করবেন। (সুনানে নাসায়ী,সুনানে দারেমি,মুসনাদে আহমাদ)

* আরেক হাদীসে় এসেছে- কোরবানি করতে অসামর্থবান ব্যক্তি এই আমল করলে সে কোরবানির সওয়াব পেয়ে যাবে।
(সুনানে আবু দাউদ,জামিউস সগীর)

সুতরাং আমরা আজ চাঁদ দেখা যাওয়ার আগেই এই আমলের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি যেন,আগামী দশ দিনে আমাদের নখ, চুল ইত্যাদি কাটা বা কাটানোর প্রয়োজন না হয়।

বিশেষভাবে এ আমলগুলোর কথা বলা হলেও উদ্দেশ্য হলো— এই সময়টাতে যত বেশি নেক আমল করা সম্ভব হয় তত ভালো৷ আরও যত নফল আমল আছে সেসব সম্পর্কে জেনে আমরা সময়টা যাপন করি ইবাদতে নিমগ্ন থেকে৷আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন৷

জীবনের এই যে শঙ্কা ও আতঙ্ক জড়ানো সময় আমরা যাপন করছি অলসতা ও ভ্রষ্টাচারে আল্লাহ তায়ালার কাছে হিসাব দিতে হবে তারও৷

এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেকেই- এই অবসরকে নেয়ামত মনে করে নিজের মুক্তির মাধ্যম বানাবো নাকি অলসতা আর গুনাহের তোড়ে ভেসে গিয়ে হারিয়ে যাবো পাপাচারের অতলে!

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমলে সুশোভিত অবসর জীবন দান করুন আমিন৷
সুত্র : যুগান্তর

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
26272829   
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ