নবীগঞ্জে দিনদিন করোনা আক্রান্ত বাড়ছে, নেই কোন সচেতনতা!

প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

নবীগঞ্জে দিনদিন করোনা আক্রান্ত বাড়ছে, নেই কোন সচেতনতা!

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :: করোনা মহামারিতে থেমে গেছে পুরোবিশ্ব। বাংলাদেশেও এসে হানা দিয়েছে এই মহামারি ভাইরাস। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে ৩ অংকের কোটা পেড়িয়ে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৩১ জন।

নবীগঞ্জে সর্বপ্রথম গত ১মে বিকাল ৩টার দিকে এক ইউনিয়নের ৩ জন সহ ৫ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরে থেকে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে করোনা রোগীর সংখ্যা। এখন প্রায় প্রতিদিনই নবীগঞ্জে করোনার পজেটিভ রিপোর্ট আসছে।

সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই রাতে আরও ৪জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। গতকালের ৪জন সহ উপজেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩১ জন। নবীগঞ্জের করোনা রোগীদের মধ্যে ৮১ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে নবীগঞ্জের ১জন মারা গেছেন। নবীগঞ্জ থেকে এখন পর্যন্ত ১হাজার ৫২জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এর মধ্যে ১৩১জনের পজেটিভ রিপোর্ট ও ৭৯৩ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব তথ্য জানান।

সচেতনতার মাধ্যমে ও নিজ নিজ বাসায় অবস্থানের মাধ্যমে এ মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করা সম্ভব। এ ভাইরাস মোকাবেলা করতে ব্যার্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইংল্যান্ড, ইতালির মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলো। বাংলাদেশে এ ভাইরাস হানা দিলে বাংলাদেশের অবস্থা করুন হবে এ কথা চিন্তা করে দেশে বৃহৎ আকারে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই বাংলাদেশ সরকার দেশে লকডাউন ঘোষনা করেছিল এবং বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত নিজ ঘর থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। শুধু নিষেধাজ্ঞাই জারি করেনি সরকার প্রত্যেকের নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে দেশের পুলিশ-প্রশাসনকেও কঠোর হুশিয়ারি প্রধান করেছিল।

সারাদেশের ন্যায় নবীগঞ্জের পুলিশ-প্রশাসন ও তাদের দায়িত্ব পালনে তৎপর ছিল। কেউ প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। সরকার এবং পুলিশ-প্রশাসন তো তাদের কাজ যথাযথভাবে পালন করেছে। ভেবে দেখুন আমরা কি আমাদের কাজটুকু করেছি? আমাদের তো বেশি কিছু করতে বলা হয়নি শুধু ঘরে থাকতে বলা হয়েছিল।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নবীগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি উপড়ে উল্লেখ করা হয়েছে। নবীগঞ্জ শহরে মানুষের চলাচলের দিকে লক্ষ করলে মনে হয় করোনা নামে কোন মহামারি নেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সবাই ঈদের বাজার করতে আসছেন শপিং মহলগুলোতে মাস্ক ছাড়াই। তাদের মধ্যে নেই কোন সচেতনতা। কিন্তু এই ঈদের বাজারই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেননা কোন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির দেখে যাওয়া পোষাক কারো সংস্পর্শ করে তাহলে সেইও করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া সবাই মাস্কবিহীন চলাচল করছেন।

সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থবিধি মেনে চলাচলের কোন বালাই নবীগঞ্জবাসীদের মাঝে নেই। প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও লোকসমাগম হ্রাস করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মোমিন প্রশাসনের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও নবীগঞ্জবাসীদের অবাধে চলাচল বন্ধ করতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে নবীগঞ্জবাসীকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হতে অনুরোধ করেন। তিনি সবাইকে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাচল সহ নিজের ও পরিবারের কথা ভেবে সবাই সতর্ক থাকার আহবান জানান।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
26272829   
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ