সিলেটে তানজিলা ও জেসমিনের মধুচক্রের ফাঁ দ, যেভাবে ধরা পড়েন যুবকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাসায় গড়ে তোলা হয়েছে মধুচক্র। ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে সম্পর্ক গড়ে ডাকা হয় বাসায়। অথবা সুন্দরী তরুণীদের ছবি দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে রাস্তা থেকে তুলে আনা হয় যুবকদের। এরপর বাসায় আটকে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিবস্ত্র করে করা হয় ভিডিও। দাবি করা হয় মোটা অংকের মুক্তিপণ।
সিলেট নগরের সোবহানীঘাট যতরপুরে এমন একটি মধুচক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। হানিট্র্যাপে ফেলে ওইবাসায় যুবক ও তরুণদের ডেকে নিত তানজিলা আক্তার প্রকাশ রাবেয়া বেগম তানহা ও জেসনিম আক্তার নামের দুই তরুণী। এরপর তাদেরকে মারধর ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। বিবস্ত্র করে তারা ছবি ও ভিডিও করতো। এরপর আদায় করতো মুক্তিপণ।
শুক্রবার ভোরে যতরপুর নবপুষ্প ১১৩ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তানজিলা ও জেসমিনসহ চক্রের আরও দুই পুরুষ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাউরভাগ গ্রামের আজিজুল হক বাবুলের মেয়ে তানজিলা আক্তার প্রকাশ রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), নগরীর মিরাবাজার আগপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জেসমিন আক্তার (২২), গোয়াইনঘাটের জাফলং মোহাম্মদপুরের আলাল উদ্দিনের ছেলে আবদুল জলিল (৩০) ও মোগলাবাজার থানার গঙ্গানগরের তোফাজ্জল আলীর ছেলে জায়েদ আহমদ (৩৫)।
শনিবার দুপুরে কোতোয়ালী থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, হানিট্র্যাপে ফেলে বৃহস্পতিবার রাতে নগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে জায়েদ আহমদের অটোরিকশায় তুলে আবদুল জলিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদেরকে নগরীর সোবহানীঘাট যতরপুরস্থ নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার ৫ম তলায় তাদেরকে নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়।
ওই বাসায় আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন হ্যানিট্র্যাপ চক্রের মুলহোতা তানিজলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা ও জেসমিন আক্তারসহ ৪-৫ জন। তারা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে ওই দুই যুবককে শারীরিক নির্যাতন করেন।
এছাড়া তাদেরকে বিবস্ত্র করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রিফাত তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ হতে ৯০ হাজার টাকা বিকাশে এনে ওই চক্রকে প্রদান করে।
একপর্যায়ে ওই দুই যুুবকের পরিবারের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে অবগত করলে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে হ্যানিট্র্যাপ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ওই বাসা থেকে জিম্মি দুই যুবককেও উদ্ধার করা হয়। হ্যানিট্রাপ চক্রের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, একটি আইফোন-১৪ প্রো ম্যাক্স উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির মিডিয়া অফিসার মো. মনজুরুল আলম।
সিলেটভিউ২৪ডটকম