এবার মেহবুবা মুফতির মুক্তির দাবিতে সরব রাহুল গান্ধী

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২০

এবার মেহবুবা মুফতির মুক্তির দাবিতে সরব রাহুল গান্ধী

অনলাইন ডেস্ক :

ভারতের কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মুক্তির দাবিতে এবার সরব হয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব হয়েছে একবছর হতে চলল। অথচ উপত্যকার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে এখনও জন নিরাপত্তা আইনে (পিএসএ) বন্দি করে রাখা হয়েছে।খবর এনডিটিভির।

দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই বলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন কংগ্রেস সভাপতি।মেহবুবা মুফতিসহ কাশ্মীরের সব রাজনীতিককে অবিলম্বে মু্ক্তির দাবি জানিয়েছেন রাহুল।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গত বছর ৫ অগস্ট মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাসহ কাশ্মীরের বহু রাজনীতিককে সেখানে বন্দি করা হয়।

তারপর যত সময় এগিয়েছে ওমর আবদুল্লা, সাজ্জাদ গনি লোনের মতো রাজনীতিকদের একে একে মুক্তি দেয়া হয়েছে।কিন্তু মেহবুবাকে মুক্তি দেয়া তো দূর থাক, বরং সম্প্রতি তার আটকাদেশের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।

তা নিয়েই রোববার কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন রাহুল গান্ধী।টুইটারে রাহুল তিনি লেখেন, ‘সরকার বেআইনি ভাবে রাজনীতিকদের বন্দি করে রাখায় দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।মেহবুবা মুফতিকে মুক্তি দেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।’

শুক্রবার পিপলস কনফারেন্সের নেতা সাজ্জাদ গনি লোনকে মুক্তি দেয় জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।তার পর একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, জন নিরাপত্তা আইনে মেহবুবা মুফতির আটকাদেশ আরও তিন মাসের জন্য বাড়ানো হলো। এই তিন মাস শ্রীনগরের গুপকার সাব জেলে রাখা হতে পারে তাকে।

সরকার চাইলে জন নিরাপত্তা আইনে কাউকে দু’বছর পর্যন্ত বন্দি করে রাখতে পারে।সেই আইন প্রয়োগ করে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মেহবুবার আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হলো।

তার মুক্তির দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে উপত্যকার সব রাজনৈতিক দলগুলি।পিটিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিজেপির বোঝা উচিত- এভাবে কাশ্মীরিদের দমিয়ে রাখা যাবে না।’

মেহবুবা মুফতির আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করে ন্যাশনাল কনফারেন্সও (এনসি)।দেশের আর কোথাও জন নিরাপত্তা আইনের অস্তিত্ব না থাকলেও, শুধুমাত্র কাশ্মীরে কেন এই আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা।

দলের নেতা ওমর আবদুল্লা টুইটারে লেখেন, ‘বেআইনি ভাবে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল সাজ্জাদ লোনকে। উনি মুক্তি পেয়েছেন শুনে ভাল লাগলো। আরও অনেককেই বেআইনিভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আশাকরি তাদের মুক্তি দিতে খুব বেশি দেরি করবে না সরকার।’

সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরমও মেহবুবা মুফতিকে বন্দি করে রাখার মেয়াদবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘আইনের অপব্যবহার করে মেহবুবা মুফতিকে আটক রাখা হয়েছে।এটা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সংরক্ষিত সাংবিধানিক অধিকারের উপর আক্রমণ।’

বিজেপির সঙ্গে জোট গড়েই ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মেহবুবা মুফতি।

বিজেপির সঙ্গে নানা বিষয়ে মতবিরোধের জের ধরে সেই জোট ভেঙে যায় এবং উপত্যকায় রাজ্যপালের শাসন জারি হয়।

তার পর গত বছর জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে পৃথক দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
15161718192021
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ