‘সিনহা হত্যার তদন্ত কমিটির সুপারিশে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

‘সিনহা হত্যার তদন্ত কমিটির সুপারিশে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

অনলাইন ডেস্ক :

পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা (মেজর) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি যে সুপারিশ করবে, সে অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শুক্রবার রাজধানীতে নিজের সরকারি বাসভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সিনহা হত্যার ঘটনা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি যে সুপারিশ করবে, সরকার সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

পুলিশের মামলায় সিনহার সঙ্গে থাকা লোকজন বর্তমানে কারাবন্দি- তাদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টিও আমাদের নজরে রয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশে এদের বিষয়টিও আশা করছি থাকবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেখে এদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। তার ওপর গুলি চালান বাহারছড়া ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত। নিহত সিনহা রাশেদকে ঢাকায় সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই ঘটনায় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ২০ জনকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে পুরো নতুন টিম দেয়া হয়েছে।

আর গত বুধবার (৫ আগস্ট) পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রত্যাহার করা হয়। থানার সেকেন্ড অফিসার পরিদর্শক এ‌বিএম দোহাকে এ পদে দায়িত্ব দেয়া হয়।

এদিকে সিনহা মো. রাশেদ নিহতের ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে গেল ৫ জুলাই মামলা করেন তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে মামলাটি করা হয়। পরে মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে টেকনাফ থানার ওসিকে এজাহারের ধারা অনুযায়ী হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলাটি রেকর্ড করে সাত দিনের মধ্যে আদালতকে অবগত করার আদেশও দেন আদালত।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবির বাবুল ও মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, মামলা রেকর্ডের পর কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আজিম আহমেদকে তদন্ত করার নির্দেশও দেন আদালত।

ওইদিন রাত ১০টায় টেকনাফ থানায় আদালতের নির্দেশে মেজর সিনহার বোনের করা হত্যা মামলাটি নথিভুক্ত হয়। মামলার তদন্তভার পান কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক আজিম আহমেদ।

মামলার এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীকে। ২নং আসামি করা হয়েছে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। এছাড়া অন্য সাত আসামি হলেন- এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা।

এই আসামিদের মধ্যে এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোস্তফা ছাড়া বাকি সাতজন এখন আইনের আওতায়। এরমধ্যে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আদালতের আদেশে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। আর বাকি চারজনকে জেলগেট জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জেলগেটে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তারা হলেন- মামলার এজাহারভুক্ত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া। এ ছাড়া মামলার আরও দুই আসামি এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোস্তফা পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ