ক্রীড়া সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের কিংবদন্তি শেখ কামালের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা–এস এম সুজন

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০

ক্রীড়া সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের কিংবদন্তি শেখ কামালের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা–এস এম সুজন

এস এম সুজন:বহুমাত্রিক অনন্য সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ই আগস্ট তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ পুত্র তিনি। ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি এ (অনার্স) পাস করেন জাতির জনকের তনয় শেখ কামাল। তিনি দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি শিক্ষার অন্যতম উৎসমুখ ‘ছায়ানট’-এর সেতার বাদন বিভাগের শিক্ষার্থীও ছিলেন। ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে ছিলো সু-খ্যাতি। শৈশব থেকেই ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধূলায় প্রচন্ড উৎসাহ ছিল তাঁর। শেখ কামাল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশনন্ড লাভ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীনের পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে আবারো লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং ঘাতক কর্তৃক শাহাদাতবরণের সময় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সাথে স্ব-পরিবারে শাহাদাতবরণের আগে তিনি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা সমাপ্ত করেন। দেশী-বিদেশী স্বাধীনতা বিরোধী দুষ্টচক্রের ইন্ধনে সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপদগামী ঘাতকদের হাতে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২নম্বর বাড়ীতে পরিবার-পরিজনের সাথে মাত্র ২৬ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তিনি শহীদ হন। স্বল্প জীবনে অসামান্য সাফল্যগাঁথা কর্মদিয়ে সুসজ্জিত করেছিলেন ব্যক্তিগত জীবন। দেশবাসীর কাছে নিজেকে সৃষ্ঠি করেছিলেন বাংলার ইতিহাসের অন্যতম সূর্য্য সন্তান হিসেবে। এমনকি অসাধারণ এক বিনয়ী ও সারল্যেভরা ছিলো জীবন বৈশিষ্ট্য। আজো যদি আমাদের মাঝে বেচে থাকতেন, তবে বহু আগেই আমরা পেতাম একটি মজবুদ ক্রীড়াঙ্গন। বিশ্বমানের ক্রিকেট এবং ফুটবল দল নিয়ে গর্বিত হতাম বিশ্ব দরবারে। নেতৃত্ব দিতাম শিল্প-সংস্কৃতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল খোশামোদী প্রানবন্ত শেখ কামাল অগ্রদূত হয়ে থাকতেন বাঙ্গালী জাতির স্বপ্ন নিয়ে। জন্মে পর বঞ্চিত ছিলেন পিতার আদর-স্নেহ থেকে। জাতির কল্যাণ কর্মে নিজেকে উৎসর্গ রাখায় ভালোমতে দেখা সাক্ষাৎ হয়নি পিতার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে গেলো জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু টুংগীপাড়ার বাড়িতে আসবেন শুনে যখন আনন্দের বন্যা, এমনি এক সময় শেখ কামাল কাতর স্বরে কানের কাছে চুপিসারে বলতে থাকেন হাসু আপু, হাসু আপু তোমার আব্বুকে কি আমি আব্বু ডাকতে পারব ? বাঙ্গালী জাতির মুক্তিদূত হয়ে আন্দোলন সংগ্রামে দল গুছানোর জন্যে সারা বাংলা চষে বেড়ানো,পাকিস্থানী শোষকদের নির্মম শোষনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য বার বার জেলে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। পরিবারটিকে গুছিয়ে সুউজ্জ্বল করে হালধরে রেখেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা। তাঁকে নিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট ও অপপ্রচারের কল্পকাহিনী এত বছর শুনে আসছি, এখনও অনেক মানুষ তা মনে করেন। যা ছিলো একমাত্র চরিত্র হরণের লক্ষ্যে। এসবের মধ্যেে একটি মেজর ডালিমের বউ উটিয়ে নেয়া। ডালিমের বউ নিয়ে সৃষ্টি করা রটনার দিন ঢাকা ল্যাডিস ক্লাবে খালাতো বোন তাহমিনার বিয়ের অনুস্টানে শেখ কামাল ছিলেন কর্নেল রেজার সাথে, সেই অনুস্টানে সামরিক-বেসামরিক অনেক লোক উপস্তিত ছিলেন।তৎকালীন ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও রেডক্রস এর সভাপতি গাজী গোলাম মস্তফার পরিবার ডালিমের কানাডা ফেরত শ্যালক বাপ্পি র চুল টানা নিয়ে গাজীর ছেলেদের সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টা নিয়ে গাজী সশস্ত্র লোকজন নিয়ে ক্লাবে এসে ডালিম ডালিমের বউ নিম্মিসহ পরিবারের আরো কয়েকজন কে নিয়ে যায়। যা বঙ্গবন্ধু নিস্পত্তি করে দেন।

লেখক: রাজনীতিবিদ, সাবেক ছাত্রনেতা,যুবনেতা কমিনিটি ব্যক্তিত্ব শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক যুক্তরাজ্যে আওয়ামীলীগ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
15161718192021
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ