কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক কারিকুলাম চান আবদুর রাজ্জাক

প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০

কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক কারিকুলাম চান আবদুর রাজ্জাক

অনলাইন ডেস্ক :

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কৃষিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য জোগানো। দিনদিন জনসংখ্যা বাড়ছে, অথচ চাষযোগ্য জমি দ্রুত কমছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে। এরমধ্যে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে কোভিড-১৯।

ফলে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থা বা ফুড চেইনকে চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কৃষি গ্রাজুয়েট তৈরি করতে হবে। যুগোপযোগী, আধুনিক ও প্রায়োগিক কারিকুলামের মাধ্যমেই সেটি সম্ভব বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

শনিবার মন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দক্ষ কৃষি গ্রাজুয়েট তৈরিতে আধুনিক কারিকুলামের ভূমিকা শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সাত্তার মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, সাবেক শিক্ষা সচিব এন আই খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে অধিকতর লাভজনক করতে হলে কৃষিপণ্যের বিপণন ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে দেশে বিদেশে কৃষিপণ্যের টেকসই বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করতে হবে। সেজন্য, উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিলেবাস ও কারিকুলাম যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক কৃষি কৌশল জ্ঞান সংবলিত সিলেবাস প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ এবং কৃষিবিদগণ বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। কৃষিতে আজ দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। সরকারের এখন মূল লক্ষ্য হল সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য জোগানো। কারণ, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা খুব প্রয়োজন। বতর্মান সরকারের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জও বটে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, কৃষির ইতিহাস ও গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোকে কারিকুলামে নিয়ে আসতে হবে। কৃষির উন্নয়ন করতে হলে এর বিবর্তন সম্পর্কে জানা জরুরি। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কৃষক ও কৃষি গ্রাজুয়েটরা কী করে সফলভাবে মোকাবেলা করবে তাও সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

সাবেক শিক্ষা সচিব এন আই খান বলেন, শুধু কারিকুলাম পরিবর্তন করলেই হবে না। শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ শিক্ষকেরাই কারিকুলাম অনুযায়ী ছাত্রদেরকে পড়ান। এছাড়া গ্রাজুয়েটরা যেহেতু কৃষকদের নিয়ে কাজ করেন সেজন্য সিলেবাসে সামাজিক বিজ্ঞানের কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, কৃষিকে কীভাবে নিরাপদ ও পরিবেশসম্মতভাবে টেকসই করা যায় তার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারিকুলামে প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর বিশেষ করে ইন্টার্নশিপের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকের সঙ্গে ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রাজুয়েটদেরকে ইন্টার্নশিপে বেশি করে যুক্ত রাখতে হবে।

কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, কৃষি দ্রুত বাণিজ্যিকায়নের দিকে যাচ্ছে। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলকে এসব জায়গায় সম্পৃক্ত না করতে পারলে, এগুলো বিদেশি বিশেষজ্ঞদের হাতে চলে যাবে। এছাড়া, কৃষিপণ্যকে কীভাবে বিভিন্ন পণ্যে রূপান্তর করে ভ্যালুঅ্যাড করা যায় তা এদেশে গড়ে উঠেনি। সেটি কীভাবে করা যায় তা বিবেচনা করে দেখতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান বলেন, সিলেবাসে প্রতিনিয়তই নতুন বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে, তবু কিছুটা দুর্বলতা আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই এটিকে পরিবর্তন করে যুগোপযোগী করতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ