মুখোশ উন্মোচন করতে হবে খুশি কলাম লেখকদের: হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

মুখোশ উন্মোচন করতে হবে খুশি কলাম লেখকদের: হাছান মাহমুদ

অনলাইন ডেস্ক :

১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর পত্রিকার পাতায় যারা কলাম লিখেছিলেন তাদের মুখোশ উন্মোচন করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সে সময়ে তারা খুশি হয়েই পত্রিকার পাতায় কলাম লিখেছিলেন। তাই তাদের মুখোশটাও উন্মোচন করতে হবে। যারা খুশি হয়ে বক্তব্য দিয়েছিল তারা নিশ্চয়ই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘১৫ আগস্ট নেপথ্যের কুশীলবদের বিচারে কমিশন চাই’- শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সদ্য স্বাধীন একটি দেশকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, সেই দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পটভূমি রচনা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিরাট একটি ষড়যন্ত্র ছিল, সেই ষড়যন্ত্রের অনেক নট-নটী ছিল, সুতরাং এ হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন হওয়া প্রয়োজন।

মূল প্রবন্ধে মনজুুরুল আহসান বুলবুল বলেন, জাতির পিতার রায়ের সময় বিচারকরা বলেছিলেন- খুনিদের সাজা হল, ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তৎকালীন বরখাস্ত ডালিমদের জিয়ার সহযোগিতায় ক্যান্টনমেন্টে আসা-যাওয়া ছিল সেটা দেখা দরকার। ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাসদ বোমা ফাটায়, সেটাও দেখার বিষয়। যদিও রাজনৈতিক কৌশলে অনেকে সরকারের কাছে রয়েছেন। তবে সাংবাদিকদের এ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে। জাতির পিতাকে হত্যার কুশীলবদের বিচারে কমিশন গঠন সময়ের দাবি।

জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ও যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার এত বছর পরে কেন রায় কার্যকর হল এটাও দেখতে হবে। নিশ্চয়ই সেখানেও ষড়যন্ত্র ছিল। সে ষড়যন্ত্র থেমে নেই আজও চলমান। ষড়যন্ত্রের শেকড় অনেক গভীরে তা বের করে আনতে হবে। প্রয়োজনে কমিশন গঠন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে বিরাট ষড়যন্ত্র ছিল এবং এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও দেশের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। যে কোনো হত্যাকাণ্ডের জন্য ৩টি ধাপ থাকে। এক. পরিকল্পনাকারী, দুই. যাদের দ্বারা সরাসরি হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন হয় এবং তিন. হত্যাকাণ্ডের পরে আলামত নিশ্চিহ্ন করা, হত্যাকারীদের পক্ষে সাফাই গাওয়া, হত্যার বিচারে বাধা দেয়া ও হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়ার পক্ষে কাজ করা। কাজেই এ তিন ধাপের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিএফইউজে মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের প্রকাশ্য খুনিদের কারও কারও বিচার হলেও এর নেপথ্য কুশীলবরা এখনও আড়ালেই রয়ে গেছে। নেপথ্যের নায়কদের বিচার না হলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।

আলোচনা সভায় বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় জাতির পিতার হত্যার কুশীলবদের বিচারে কমিশন গঠনের দাবি জানান। তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-কর্ম ও আত্মত্যাগের ওপর আলোকপাত করেন এবং তার হত্যাকারীদের মধ্যে যারা পলাতক রয়েছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা ও হত্যার নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানান।

ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, আবদুল জলিল ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব আবদুল মজিদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি এমএ কুদ্দুস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ জিহাদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান, দফতর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী সোহেল, নির্বাহী সদস্য রাজু হামিদসহ বিএফইউজে ও ডিইউজের সাবেক এবং বর্তমান নেতাকর্মীরা।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ