সিলেটে টানা ১০০ দিন ইমজার মানবিক কার্যক্রম

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

সিলেটে টানা ১০০ দিন ইমজার মানবিক কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে ‘অবাঞ্ছিত’ মানুষদের অপরাধমূলক কাজ থেকে সরিয়ে সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে আসার মহান উদ্যোগ নিয়েছিলো টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা)। সংগঠনটি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয় নগরীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের প্রতি। গত ১০০ দিন ধরে সিলেটের ভবঘুরে, পথশিশু ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মুখে প্রতি রাতে খাবার তুলে দেয়ার মতো মহান কাজটি করছে সিলেট ইমজা। আজ শততম দিনে সে মানবিক কার্যক্রমের সমাপ্তি করছে টেলিভিশন সাংবাদিকদের এ সংগঠন।

গতকাল ৯৯ তম রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইমজার খাবার বিতরণ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা করা হলেও আজ রাতেও খাবর বিতরণ করা হবে। এছাড়াও আগামী ১৫ দিন সিলেটের ভবঘুরে, পথশিশু ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আলোর ফিরিয়ে আনার জন্য কাউন্সিল করবে ইমজা।

সিলেট নগরীতে আছেন অনেক ভবঘুরে। আছে অনেক পথশিশুও। এর মধ্যে অনেকে নানা অপরাধমূলক কাজে সম্পৃক্ত। এদের বেশিরভাগেরই রাত্রিযাপন কিনব্রিজের নিচে। সমাজের মূলধারায় তারা অবাঞ্ছিত। ভদ্রজনেরা দেখে নাক সিটকান, মুখ ফিরিয়ে নেন। কিন্তু তাদেরকেই ভালোবাসার পরশে আলোর পথে নিয়ে আসার চেষ্টায় নামে ইমজা।

এই উদ্যোগের প্রথম ধাপে কিনব্রিজ এলাকার বাসিন্দাদের বিনামূল্যে রাতের খাবার বিতরণ শুরু করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত ৯ মে থেকে শুরু হয় এই কার্যক্রম। এরপর টানা ১০০ দিন ধরে চলছে এই মহৎ কাজ। নগরীর মদনমোহন কলেজে রান্না করে কিনব্রিজের পাশে সুরমা তীরে প্রতিরাতে খাওয়ানো হয় অবহেলিতদের। প্রথমদিকে ৫০-৬০ জনকে খাবার দেওয়া হতো। পরবর্তীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০০ জনে। সবাই একসাথে খাবারের সময় যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে সেজন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে গোল বৃত্ত এঁকে দেওয়া হয়।

ইমজা’র এমন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে এই ১০০ দিনে সেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন অনেকে। নানাবিধ সহায়তা দিয়ে তারা শামিল হয়েছেন এই ভালো কাজে। খাবার প্রদানের পাশপাশি অপরাধমূলক কাজ থেকে সরে আসতেও তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতে সফলতাও মিলেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ইমজা’র সাবেক সভাপতি আশরাফুল কবির কার্যক্রমের শুরুতে বলেন, করোনার এই সময়ে আরও অনেকের মতো কিনব্রিজ এলাকায় বসবাস করা মানুষগুলোও বিপাকে পড়েছে। এদের অনেকেই কেবল খাবারের ব্যবস্থা করতে এই অন্ধকার পথে পা বাড়িয়েছে। এখন যখন সবখানেই সঙ্কট, তখন খাবার না পেলে তারা আরও বেশি অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। এতে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে। এসব ভাবনা থেকেই আমরা মূলত এ উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, এদের অনেকেই কেবল খাবারের নিশ্চয়তা পেয়ে গেলে অপরাধমূলক কাজ থেকে সরে আসবে। তার কিছু প্রমাণ ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি। এখন আস্তে আস্তে সমাজের মূলস্রোতে তাদের নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। তাদের কিছু ভালো কাজে যুক্ত করারও চেষ্টা করছি। প্রাথমিক অবস্থায় তাদের দিয়ে কিনব্রিজ এলাকা পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হচ্ছে। আস্তে আস্তে এর পরিধি বাড়ানো হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথেও আমাদের কথা হয়েছে। এইসব ভবঘুরে লোকদের কোনো কাজে লাগানো যায় কি-না এ ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে।

আশরাফুল কবির বলেন, প্রথম এক মাস ইমজার সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে এই কার্যক্রম চালিয়েছেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে অনেকেই সহায়তা নিয়ে এসেছেন। এমনও হয়েছে- একদিন একজন তার ঘনিষ্টজনের শিরনির পুরো খাবার এখানে দিয়ে দিয়েছেন।

খাবার পেয়ে অনেকে খারাপ কাজ ছেড়ে দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে একটা শিশু আছে- যে ইয়াবা বিক্রি করতো। নিজেও সেবন করতো। এখন সে এইসব কাজ ছেড়ে দিয়েছে। আরও দুএকজন আছে এমন। এভাবে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।

এদিকে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে এই মানবিক কার্যক্রমের ৯৯তম দিনে এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ইমজার গতকালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, ইমজার সদস্য ইকরামুল কবির, বর্তমান সভাপতি মাহবুবুর রহমান রিপন, সভাপতি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সজল ঘোষ ও সাবেক প্রমুখ।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
15161718192021
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ