শোক দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী কেউ প্রতিবাদ করলে তার লাশ পর্যন্ত পাওয়া যেত না

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

শোক দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী কেউ প্রতিবাদ করলে তার লাশ পর্যন্ত পাওয়া যেত না

অনলাইন ডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালু করেছিল জিয়া-খালেদা জিয়ারা।

তিনি বলেন, ১৯টা ক্যুর মাধ্যমে নির্বিচারে হাজার হাজার সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সদস্যকে হত্যা করেছিল জিয়াউর রহমান। দুই থেকে আড়াই হাজার সেনা সদস্যকে ওই সময় হত্যা করা হয়, একের পর এক ক্যু’র ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের সেনাবাহিনীই। সেনাবাহিনীর অনেক মায়ের কোল তারা খালি করেছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার লাশ পর্যন্ত তখন পাওয়া যেত না।

রোববার বিকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আর তখন নির্বাচনের নামেও চলেছে প্রহসন। ১০ হুন্ডা, ২০টা গুণ্ডা- নির্বাচন ঠাণ্ডা- এটাই ছিল ওই সময়ের নির্বাচন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি জারিসহ জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন ধরণের কর্মকান্ডের উদাহরণ তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর জেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের বিদেশে পাঠানো, বিদেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল এই জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যাতে বিচার না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি জারি করা হয়েছিল। আমাদের বিচার চাওয়ার কোন অধিকার ছিল না, সেটি পর্যন্ত কেড়ে নেয়া হয়েছিল।

১৫ আগস্টের দুঃসহ স্মৃতি বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেই শেষ হয়নি, বঙ্গবন্ধু পরিবারের আর কে কে বেঁচে আছে তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা কর হয়। ভয়ে আমাদের পরিবারের যারা বেঁচেছিলেন তারা অনেকেই ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ করা হয়, কেউ নাম নিলে তাকে খুঁজে পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রপতির মেয়ে হয়েও আমাদের (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা) নাম পরিচয় গোপন করে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। আর খুনিরা বিভিন্ন দূতাবাসে আরাম-আয়েশে জীবন কাটিয়েছে। সেই দৃশ্যগুলোও আমাদের দেখতে হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী রশিদ-ফারুককে এমপি বানিয়েছিল এবং খুনী রশিদকে বিরোধী দলের নেতা পর্যন্ত বানিয়েছিলেন। খুনীদের প্রতি খালেদা জিয়ার এতো বেশি দরদ কেন? শুধু তাই নয়, পলাতক খুনী পাশাকে পদোন্নতি দিয়ে সমস্ত টাকা তার স্ত্রীকে দিয়েছিল, আরেক খুনী খায়রুজ্জামানকে অবসর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এনে পদোন্নতি দিয়েছিল- ঠিক যখন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের রায় বের হবে তার আগে। এসব কাজও করেছে খালেদা জিয়া।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
15161718192021
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ