কমলগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান, শ্রমিক নেতাসহ ১৩ জন চা শ্রমিকের বিরুদ্ধে লই চা বাগান কর্তৃপক্ষের মামলা ॥ শ্রমিকরে মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০

কমলগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান, শ্রমিক নেতাসহ ১৩ জন চা শ্রমিকের বিরুদ্ধে লই চা বাগান কর্তৃপক্ষের মামলা ॥ শ্রমিকরে মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক ::
টানা ২৭ দিন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী লই চা বাগান বন্ধ থাকাবস্থায় গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এক ইউপি চেয়ারম্যান, চা শ্রমিক নেতাসহ ১৩ জন চা শ্রমিকের নাম উল্লেখ করে মারপিট, গাড়ি ভাঙ্গচুর ও টাকা ছিনাইয়ের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়। লই চা বাগান কোম্পানীর এজিএম খালেদ মঞ্জুর খান বাদি হয়ে কমলগঞ্জ থানায় এ মামলা করেছেন। মামলার আসামীরা হচ্ছেন- মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, শমশেরনগর চা বাগানের চা যুবনেতা মোহন রবিদাস, মাসিক চা মজদুর সম্পাদক ও শমশেরনগর ইউপি সদস্য চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, শিব নারায়ণ শীল (৫৫), তুলশী াস মাদ্রাজী (৫০), পিংকা কালোয়ার (৫৫), অমৃত কুমার পাশী (৪৬), মো. ফরি আলী (৪৫), মো. ইরাজ আলী (২৭), লছমী ভর (৬০), সুদীপ্ত ভর (২৬),ভর (৬০),অজিৎ পাশী (২৫), দিপেন ভর (২৫) প্রমুখ। ইউপি চেয়ারম্যানসহ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নামে থানায় মামলা হওয়ায় লই চা বাগানসহ বিভিন্ন চা বাগানে শ্রমিকরে মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা মনে করেন, এখন যাতে অনাহারে থাকা চা শ্রমিকদের অর্থ ও খাদ্য সহায়তা না দেওয়া হয় সেজন্য বাগান কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মামলা সাজিয়েছেন। অথচ ঘটনার পর লাঞ্চিত নারী চা শ্রমিরা কমলগঞ্জ থানায় গিয়ে অভিযোগ দিলেও থানা কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ গ্রহন করেনি।
লই চা বাগানের সহকারি-মহাব্যবস্থাপক খালে মঞ্জুর খান মামলায় উল্লেখ করেন, মামলার ১ নং আসামী মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, ২নং আসামী শমশেরনগর চা বাগানের চা যুবনেতা মোহন রবিদাস ও ১১ নং আসামী মাসিক চা মজদুর সম্পাদক ও শমশেরনগর ইউপি সদস্য চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীনের উস্কানীতে লই চা বাগানের বাকী আসামীগন চা বাগান ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে নির্ধারিত মজুরীর চেয়ে অধিক মজুরি বে-আইনীভাবে আায়ের স্বার্থে বেশ কিছুদিন যাবৎ পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। এর পরিপেক্ষিতে গত ২৯ জুন সকল আসামীগণসহ উশৃঙ্খল শ্রমিকগণ বাগানে অবৈধ বে-আইনী ধর্মঘট করে ব্যবস্থাপককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে জোরপূর্বক বের করে দেয়। এ প্রক্ষিতে লই চা বাগানের উৎপান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রশাসনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় ধলই চা বাগানে স্বাভাবিক কার্যক্রম ১৯ আগস্ট থেকে চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
ীর্ঘনি পর লই চা বাগানের উৎপান কার্যক্রম পূণরায় সচল হওয়ায় তিনি (এজিএম খালেদ মঞ্জুর খান) কোম্পানীর সহকারী- মহাব্যবস্থাপক হিসেবে ১৯ আগস্ট সকাল ১১টায় তদারকি কাজে লই চা বাগানে গিয়েছিলেন। এসময় চা বাগানের ব্যবস্থাপক, সহকারী ব্যবস্থাপকসহ বাগানের সকল কর্মচারীর জুলাই মাসের বেতন ও মজুরি পরিশোধের জন্য নগ ১০ লাখ টাকা নিয়ে যান। এসময় সকল আসামীরা লাঠি, লোহার রড নিয়ে লবদ্ধ হয়ে কোম্পানীর জীপ গাড়ির (ঢাকা মেট্রো- ড-০৫-০০১৫) গতিরোধ করে। এ সময় ১ নং আসামীর হুকুমে বাকি আসামীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙ্গচুর করে। আসামীরা তাকে জোরপূর্বক টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারপিট করে জখম করে। আসামীরা গাড়িতে ব্যাগের ভিতর রাখা ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আসামীরা একটি নোহা মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়। পরে তিনিসহ আহতরা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেন। ফলে ঘটনার ২ নি পর শনিবার রাতে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার ১ নম্বর আসামী মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ১৯ আগস্ট ধলই চা বাগানে ব্যবস্থাপক ও সহকারি মহা-ব্যবস্থাপক অবরুদ্ধ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির নির্দেশে তিনি লই চা বাগানে গিয়ে বিক্ষোব্দ চা শ্রমিকরে বুঝিয়ে কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র াশসহ সাংবাকিদের উপস্থিতিতে তাদের উদ্ধার করেছিলেন। এখন তাকে চা বাগান কোম্পানী মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে ১নম্বর আসামী করেছে। মামলার ২ নম্বর আসামী চা যুব নেতা মোহন রবিদাস ও ১১ নম্বর আসামী চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, ঘটনার দিন সকালে লই চা বাগান কোম্পানীর সহকারি মহা ব্যবস্থাপক এ মামলার বাি খালেদ মঞ্জুর খান এ চা বাগানের ুই নারী চা শ্রমিককে লাঞ্চিত করায় বিক্ষোব্দ শ্রমিকরা ইট পাটকেল মেরে জিপ গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গেছে। এর চেয়ে বেশী কোন ঘটনা ঘটেনি। এখন যাতে অনাহারে থাকা চা শ্রমিকরে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা না দেওয়া হয় সেজন্য ঘটনার ২ দিন পর পরিকল্পিতভাবে মামলা সাজিয়েছেন। অথচ ঘটনার পর লাঞ্চিত নারী চা শ্রমিরা কমলগঞ্জ থানায় গিয়ে অভিযোগ দিলেও থানা কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ গ্রহন করেনি।
এ সম্পর্কে জানতে চেয়ে মামলার বাদি ও লই চা বাগামন কোম্পানীর এজিএম খালে মঞ্জুর খানের সাথে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
তবে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে কমলগঞ্জ থানার এসআই সিরাজুল ইসলামকে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ