করোনা (কোভিড-১৯)পরিস্থিতিতে ডাঃজয়ফুল আক্তার’র সেবা ও  সফলতা

প্রকাশিত: ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

করোনা (কোভিড-১৯)পরিস্থিতিতে ডাঃজয়ফুল আক্তার’র সেবা ও  সফলতা
সেলিম মাহবুবঃছাতক(সুনামগঞ্জ)
একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার জয়ফুল করোনায় জনগণের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন দিন রাত । ঢাকায় একদিন ডাক্তার জয়ফুল এক রিক্সায় করে রামপুরা যাচ্ছিলেন, হ্যান্ড সেনিটাইজার ও কিছু মেডিসিন দেয়ার জন্য। যেতে যেতে রিক্সাওলার সাথে কথা, সে বললো রিক্সা চালাতে কষ্ট হচ্ছে কারন আইন শৃংখলা বাহিনী তাকে লাঠি দিয়ে বাড়ি মেরেছে। ডান পায়ের মাংস পেশি ফুলে আছে। রিক্সা থামিয়ে আমাকে দেখালো। এটাও বললো রিক্সা না চালালেতো ঘরে না খেয়ে থাকতে হবে।
আমি তাকে আর্নিকা মন্টেনা ২০০gm। কয়েক ফোটা  জিভে দিলাম আর বললাম ব্যাথা কমে যাবে। হাতে হেক্সিসল দিলাম। এরপর হ্যান্ড গ্লাবস এক জোড়া দিলাম পরে নিল। মাথায় ডক্টরস ক্যাপ দিলাম পরে নিল। তাকে নিয়ে প্রথমে আবির এর ওখানে গেলাম মেডিসিন দিতে। তার পর হাতীরজিল মাই টিভির অফিসে গেলাম পরে একুশে (ETV) টেলিভিশন এর এক সিনিয়র সাব এডিটর, মঈন উদ্দিন বকুল ভাইকে হেক্সিসল দেয়ার জন্য তাদের অফিসে গেলাম। তারপর ওখান থেকে রামপুরা কাচাবাজার একটু থামলাম কিছু কালো জিরা কিনলাম আর রিক্সাওলা ভাইটাকেও কিনে দিলাম।এবার  রিক্সাওয়ালা ভাইটি যেতে যেতে বললো তার বউ গর্ভবতী,ডেলিভারী হতে বেশীদিন টাইম নাই, সে আরো বললো হসপিটালে কার্ড করা আছে। যেকোনো সমস্যা হলে হসপিটালে নেয়া যাবে। রাস্তায় বাস চলাচল বন্ধ,সারাদেশে করোনায় লকডাউন। তার রিক্সায় করেই গেলাম এবং তার রিক্সায় করেই রাজারবাগ বাজার পর্যন্ত ফিরলাম। তাকে আর্নিকা মন্টেনা ২০০ কয়েক ফোটা জিভে দিলাম এবং আমার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বললাম কোন সমস্যা হলে জানাতে। ভাড়াও আপ-ডাউন দিয়ে দিলাম। সেই রিক্সাওয়ালা ভাইটি আমাকে আজ রাত ২ টার সময় কল করলো তার বউয়ের ব্যাথা উঠেছে। আমি যেতে পারবো কিনা জানতে চাইলো। তাকে জিঙ্গেস করলাম ঘরে কে কে আছে? সে বললো পরিবার ছারা কেউ নেই ( বউ, একটি মেয়ে আর তিনি) জানতে চাইলাম আশেপাশের কেউ আসনি সে বললো একজন চাচী ছাড়া কেউ আসেনি বাড়িওলা পর্যন্ত খবর নেয়নি। হাসপাতালের কথা জানতে চাইলে বলে করোনার জন্য কাউকেই পাওয়া যাচ্ছেনা।আমি যদিও সাহায্যকারী হিসেবে অনেকের পাশেই ছিলাম বিভিন্ন হসপিটালে। কিন্তু ডেলিভারীর কাজ করিনি কোনদিন। তবুও সাহস করলাম মনে মনে ভাবলাম আগেতো রোগীর কাছে যাই অবস্থা বুঝি তারপর না হয় অন্য ব্যবস্থা করা যাবে। যদিও মাথাটা ব্যাথা ছিল,তার খবর শোনার পর ব্যাথা কই গেলো জানা নেই। তাকে ১০ মিনিট টাইম দিলাম রেডি হবো বলে। তারাহুড়ো করে PPE পড়লাম,কিছু হোমিও মেডিসিন নিলাম।  BP সহ অন্যান্য সামগ্রী আমার ফাষ্ট এইড বক্সে নিয়ে বের হলাম। আমার বাড়ীর সামনেই দাড়িয়ে ছিল আমাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। আমারতো হাত পা কাপছে আমি আস্তাগফিরুল্লাহ সহ অন্যান্য দোয়া পড়তে থাকলাম। ঘরে ডুকেই দেখি গর্ভবতী আপাটা দাড়িয়ে আছে, শরীরে ঘাম,পানিও বেরিয়েছে (Fluid) অনেক। তাকে দেখে মনে হলো স্বাভাবিক কোন নার্ভাসনেস নাই তার মধ্যে। তার  সাথে কথা বলার পর প্রেশার চেক করলাম।  প্রেশার নরমাল এটা দেখে সাহস ফিরে আসলো। তাকে গরম পানি খাওয়ালাম।পেটটা চেক করলাম।বাচ্চার পজিশন বুঝার জন্য এরপর ডেলিভারীর জন্য নিচে পলিথিন বিছিয়ে তার উপর একটা মেক্সি বিছালাম তাকে শোয়ালাম। কারন তাদের ঘরে ভাল কিছু ছিলনা, তার মাথার কাছে একজন ভদ্রমহিলা ছিলেন তবে তিনি কিছুই বুঝেনা এ বিষয়ে। তিনি শুয়ে আছেন মেঝেতে। আবারও গরম পানি খাওয়ালাম। এবার ডেলিভারীর পালা ডাক্তার জয়ফুল দোয়া পড়ছেন (ডাক্তার জয়ফুলের জীবনে প্রথম ডেলিভারী) কারন একজন মায়ের বাচামরা নিয়ে প্রশ্ন। কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর একটা মেয়ে বাবুর জন্ম হলো। তার নাভি কাটলাম এবং ভালভাবে পরিষ্কার করে ছোট কাথা দিয়ে পেচিয়ে রাখলাম। এদিকে গর্ভফুল ধরে রেখেছি। আমার সারা শরীর কাপছিল কারন নাভি ও গর্ভফুলতো কোনদিন দরিনি ও বাহির করিনি। তবুও সাহস হারালামনা কিছুক্ষণ  পর গর্ভফুল বেরিয়ে আসলো। কিছুক্ষণ রেষ্ট থাকার পর বাচ্চাটিকে একজনের কোলে দিয়ে মায়ের শরীর গরম পানি দিয়ে মোছালাম এরপর কাপড় পাল্টিয়ে দিলাম। বিছানা রেডি করলাম মা ও শিশুকে বিশ্রামে রাখলাম।মায়ের বুকের দুধ গরম পানি দিয়ে মোছানোর পর বাচ্চার মুখে দুধ দেয়া হলো। এটা ছিল তাদের ২য় মেয়ে সন্তান।এই কাজ করতে রাত ৪ঃ৩০ মিনিট লেগে গেলো। এরপর বাচ্চার বাবা আমাকে এগিয়ে দিয়ে গেলো বাসা পর্যন্ত। বাসায় এসে গরম পানি সাবান, ডিটার্জেন্ট দিয়ে গোসল ও কাপড় পরিস্কার করলাম। ফজরের নামাজ পরে তবেই ঘুমালাম। চোখ দিয়ে পানিও বের হলো অনেক শোকরিয়া আাদায় করলাম আল্লাহর কাছে। সকাল ১০ টার সময় খোজ নিতে গেলাম, প্রেশার চেক করলাম, সব ঠিক আছে। কয়েক ফোটা আর্নিকা মন্টেনা খাওয়ালাম। কারন ডেলিভারীর সময় ব্যাথা পেয়েছিল। মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে। আমাকে ৫০০ টাকা দিল।আমিও টাকাটা নিলাম। টাকাটা বাচ্চার মার হাতে দিয়ে বললাম এটা দিয়ে পুষ্টিকর খাবার কিনে খাবেন। তাদেরতো অভাবের সংসার এই টাকাটাও ধার করে এনেছেন আমাকে দেয়ার জন্য। কেউ চাইলে পরিবারটিকে সাহায্য করতে পারেন।##

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ