ধার করে চলছে শ্রীলংকার মানুষ

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২০

ধার করে চলছে শ্রীলংকার মানুষ

করোনায় অর্থনৈতিক সংকট চরমে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত শোধ করতে হবে ৩ হাজার কোটি ডলার


অনলাইন ডেস্ক :

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলংকা। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে পরিস্থিতি আরও নাজুক আকার নিয়েছে। আয়-রোজগার নেই। কাজ হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ, যা কিছু সঞ্চয় তাও শেষ হয়ে গেছে।

এখন ধার-কার্য করে সংসার চালাচ্ছে গ্রামের সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সদ্য ক্ষমতাসীন রাজাপাকসে সরকারের জন্যও।

সংবিধান সংশোধন আর ভেঙে পড়া অর্থনীতি মেরামতের প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করেই সম্প্রতি ক্ষমতায় ফিরেছে রাজাপাকসে পরিবার। আলজাজিরা ও দ্য হিন্দু।

সিমরান এনরিক। ১৯ বছর বয়সী এক গ্রাম্য তরুণ। কাজের খোঁজে প্রায় তিন বছর আগে রাজধানী কলম্বোয় আসেন তিনি। কাজও পেয়ে যান। কিন্তু সুবিধা না হওয়ায় এই তিন বছরে একটার পর একটা চাকরি ছেড়েছেন। অবশেষে সিমরান আবার তার পাহাড়ঘেরা গ্রামে ফিরে এসেছেন।

রাজধানীতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সর্বশেষ একটি মুদি দোকানের চাকরিটাও চলে যায় তার। গত কয়েক মাস একেবারে বেকার তিনি। নিজের ও পরিবারের জন্য এখন একটা চাকরি তার চা-ই চাই। ‘যে কোনো চাকরিই করতে প্রস্তুত আমি। যে শহরেই হোক, যে ধরনের কাজই হোক কিংবা বেতন যাই হোক।’ চলতি সপ্তাহে দ্য হিন্দুকে এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই কথাগুলো বলেন সিমরান।

স্কুলে পড়তেন সিমরান। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে ও-লেভেল পরীক্ষার আগেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নেমে পড়তে হয় থাকে।

মধ্যাঞ্চলীয় নুয়ারা এলিয়া জেলার মাসকেলিয়া এলাকার একটি টি-এস্টেটের চা-শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তার বাবা-মা। তাদের অল্প আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের (সিমরানের আরও দুই স্কুলপড়ুয়া বোন রয়েছে) ভরণপোষণ ঠিকমতো চলে না।

বাবা-মায়ের আশা ছিল, শহরে গিয়ে চাকরি করে পরিবারকে কিছুটা সাহায্য করতে পারবে ছেলে সিমরান। কিন্তু সে আশা নিরাশায় পর্যবসিত হয়েছে। চাকরি করে কিছু টাকা জামিয়েছিলেন সিমরান। করোনায় চাকরি হারানোর পর তাও শেষ হয়ে গেছে। এখন ধারদেনা করে কোনো রকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছে তার পরিবার।

পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোতে করোনাভাইরাস যেমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশটিতে তেমনটা নেয়নি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু মাত্র ১১ জন আর মাত্র ৩ হাজার সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রায় দুই মাসব্যাপী কঠোর লকডাউন ও দেশটির দক্ষ জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রচেষ্টায় ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এজন্য রাজাপাকসে সরকার ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের প্রশংসায় ভাসছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ