ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫, গ্রামে চরম উত্তেজনা

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২০

ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫, গ্রামে চরম উত্তেজনা

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে পুর্ব বিরোধের জের ধরে দফায় দফায় দু’পক্ষের হামলা ও সংঘর্ষে ১৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামে এসব হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ীর জমির মালিকানা নিয়ে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ ও তার চাচাতো ভাই মৃত কনর আলীর পুত্র কাপ্তান মিয়া পক্ষদ্বয়ের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলে আসছিল। কাপ্তান মিয়া ও ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ উভয়ই সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের চাচাতো ভাই। মঙ্গলবার বিকেলে আমেরতল গ্রামের মাঠে জমিতে আমন ধানের বীজতলায় কাজ করতে যায় কাপ্তান মিয়া পক্ষের লিটন মিয়া। এসময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের শুকুর আলীর সাথে লিটন মিয়ার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে বিকেলে আমেরতল বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার জের ধরে বুধবার সকালে আবারো উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দু’দিনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ ব্যক্তি আহত হয়। গুরুতর আহত হানিফ আলী (৬০), রহিম আলী (৫৫), হেলাল আহমদ (২৫), আক্তার হোসেন (৩২), আব্দুস সহিদ (৩৫), লিটন মিয়া (৪২), কালা মিয়া (৫৯), জুবের আহমদ (২৮), রেদোয়ান আহমদ (১৭) কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নূর উদ্দিন (৪২), বদরুল মিয়া (৩১), আতাউল গনি (৫২) সহ আহতদের ছাতক ও কৈতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাড়ীর ৩ শতক জমি বিক্রি নিয়ে কয়েকমাস ধরে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো।

আহত আক্তার হোসেন জানান, আমেরতল বাজারে তার দোকানে এসে প্রতিপক্ষরা হামলা করে তাকে আহত করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ জানান, তার বসতবাড়ীর মধ্যে সাড়ে ৩ শতক ভূমি কাপ্তান মিয়া এমপির কাছে বিক্রি করেছেন। এখানে কাপ্তান মিয়ার কোনো অংশ নেই। তাদের অংশের ভূমি আগেই বিক্রি করা হয়েছে।

কাপ্তান মিয়া জানিয়েছেন, বাড়ীতে তার অংশ থাকায় এ জমি বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ জমি বিক্রি নিয়ে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটে নি। স্থানীয় একাধিক লোক জানান, প্রায় ৪ মাস ধরে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান ছিলো। এ নিয়ে আরো একাধিকবার হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানেও দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে।

দু’দিনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার আহত আক্তার হোসেন বাদী হয়ে একই গ্রামের জালাল উদ্দীন, লিটন মিয়া, আব্দুল মোমিন, খোকন মিয়া, আবুল মিয়া, ছোটন মিয়া, আলমগীর হোসেন, নূর উদ্দীন, রাসেল মিয়া, আমীর উদ্দিন, রেদোয়ান আহমদ সহ ২২ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ