সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে আ’লীগ

প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে আ’লীগ

অনলাইন ডেস্ক ::করোনায় দীর্ঘদিন থেকেই স্থবির মাঠের রাজনীতি। করোনাকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে সীমিত পরিসরে দলীয় কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ ছিল আওয়ামী লীগ। ধীরে ধীরে দলীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে ক্ষমতাসীন দল। এতোদিন ভার্চ্যুয়ালি দলীয় কার্যক্রম চললেও এখন থেকে মাঠের কর্মসূচি জোরদারের চিন্তা চলছে। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। ভার্চ্যুয়ালি কার্যক্রম চলায় নেতাদের সঙ্গে নেতাদের সামনাসামনি যোগাযোগ হচ্ছে একেবারেই কম। আবার নেতাদের সঙ্গে কর্মী সমর্থকদের সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছে না বললেই চলে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন তারা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় ঝিমিয়েপড়া সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছেন তারা। এজন্য কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার পাশাপাশি জেলা সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গত নির্বাচনের আগে যেভাবে বিভাগ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবারো একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

তারা বলেন, করোনার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম খুবই সীমিত আকারে পরিচালনা করা হয়েছে। এবার বৃহৎ পরিসরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে কমিটিগুলো গঠনের পর দলীয় যেসব কর্মসূচি আসবে সেগুলো যথাযথভাবে পালন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, করোনা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেনো আমাদের অনুকূলে থাকে সে কারণে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। বিএনপিসহ অন্য কোনো দল যেনো দেশে রাজনৈতিকভাবে অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে আওয়ামী লীগের। এদিকে সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ায় এখন ধাপে ধাপে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

গত সপ্তাহে দলীয় নেতাদের তিনি বলেন, করোনার মধ্যে সবার সঙ্গে আমার দেখা হচ্ছে না। তবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সীমিত আকারে বারবার মিটিং করবো। প্রথমে একটা প্রেসিডিয়াম মিটিং করবো, এরপরে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের মিটিং করবো, তারপরে উপদেষ্টা পরিষদের মিটিং করবো। সংসদ অধিবেশন শেষ করে আলাদা আলাদা করে এই মিটিংগুলো করবো।

এদিকে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সর্বশেষ বৈঠকে সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা তুলে ধরার পাশাপাশি কীভাবে তা কাটিয়ে ওঠা যায় তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন নেতারা।

এ প্রসঙ্গে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে। যেসব জেলা-উপজেলায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে প্রত্যেক সম্পাদককে চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট উপ-কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। ওদিকে বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও বার্তায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের যার যার বিষয়ভিত্তিক দায়িত্বটা পালন করা দরকার। নির্বাচনী ইশতেহারে যে ঘোষণাগুলো দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে যে কৌশল নেয়া হয়েছে, তা যথাযথ কিনা, তা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সেগুলো আলোচনা করা উচিত। যেহেতু আমরা সরকারে আছি সেহেতু কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা আমরা নতুন করে গ্রহণ করেছি। যেটা প্রথমবার নিয়েছিলাম ২০১০ থেকে ২০২০ এই ১০ বছর মেয়াদি। এবার গ্রহণ করেছি ২০২১ থেকে ২০৪১ পর্যন্ত, আমরা বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের দেখা উচিত, কার কী ইস্যু আছে তা বুঝে নিয়ে কাজ করা উচিত।

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে থমকে যাওয়া সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এখন সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। করোনার কারণে অনেক জায়গায় সম্মেলন হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এখন সেগুলো পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে উপ-কমিটিতে যেন কোনোভাবেই অনুপ্রবেশকারী বা বিতর্কিতদের স্থান না হয় সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে নেতাদের। কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, উপ-কমিটিগুলোতে অনুপ্রবেশকারী বা বিতর্কিতদের স্থান হলে এর জন্য কমিটির সংশ্লিষ্ট নেতাকে দায়ভার নিতে হবে। সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় উপস্থিত কয়েকজন নেতা জানান, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আগেও একাধিকবার এসব বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

দলের পক্ষ থেকে নেতাদের বলা হয়েছে, যদি কোনো বিতর্কিত, হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারী এসব কমিটিতে স্থান পায়, তাহলে তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতাদের বহন করতে হবে। আর এবার কমিটি জমা দিলেই অনুমোদন পাবে না, দলীয় সভাপতি যাচাই-বাছাই করে এসব কমিটি অনুমোদন দেবেন। তার কাছে যাওয়া তালিকাতেও অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকলে সংশ্লিষ্ট নেতাকে জবাবদিহি করতে হবে। দলে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ বন্ধ করতেই দলীয় সভাপতি পর্যন্ত উপ-কমিটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি গড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ